নওগাঁ-২ আসনে খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকে এমপি হিসেবে চায় বিএনপি’র নেতাকর্মিরা

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ: নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এবার জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি’র সহ-সভাপতি ও নওগাঁ জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি আলহাজ মো: খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী। মোঃ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকে এমপি হিসেবে দেখতে চায় নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের জনসাধারণ, বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মী ও দলের অঙ্গ সংগঠন এর নেতা-কর্মিরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পত্নীতলার উপজেলার খিরশীন গ্রামের মরহুম ডাঃ খাজা নূরুন নবী চৌধুরীর সুযোগ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান বিশিষ্ট রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী (আবাসন ব্যবসায়ী), সমাজসেবক নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও তারেক রহমান-খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং নব্বর দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল থেকে অনার্স-মাস্টার্স ও বর্তমানে পিএইচডি’তে অধ্যায়নরত আলহাজ মো: খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী এমপি নির্বাচন করার ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণকল্পে এলাকায় গণসংযোগ আরম্ভ করেছেন।

ভোট আসতে এখনও এক বৎসরের বেশি সময় থাকলেও থেমে নেই তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা। ঈদে ও পূজাতে ডিজিটাল ব্যানার ও বিলবোট এর মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির কর্মীসভা, গণসংযোগ, জন যোগাযোগ ও পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিল এর মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় ও গত ১৫ জুন শনিবার বিকাল ৪টায় পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃৃৃৃতি পরিষদ, নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সামনে নজিপুরে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০১৭ ইং এর উদ্বোধন করেন ও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি এবং ১৬ জুন রোববার দিন ব্যাপী ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেন পত্নীতলা উপজেলার চকনিরখীন, আমবাটি মোড়, ধামইরহাট উপজেলার ফতেপুর, আমাইতাড়া মোড়, ধামইরহাট বাজার, মঙ্গলবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থানের মোড়ের দোকানদার ও ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য মোঃ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী।

ওই আসনের নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন, নজিপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবু সুফিয়ান, নজিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মিন্টু, সাবেক ভিপি আবু তাহের চৌধুরী মন্টু, নির্মইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, দিবর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছরু রহমান শেখ, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, ধামইরহাটের শ্রমিক নেতা আতিয়ার রহমান সহ অনেকের সাথে কথা বলে তারা জানান, বিএনপির এই অসময়ে আমরা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকেই একমাত্র কাছে পেয়েছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিনি নিরলস ভাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মীসভা, গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি মাঠে নেমে আছেন তিনি। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, এবার মনোনয়নটি খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর পাওয়া অতিব জরুরি ও যোগ্য প্রার্থী তিনি।

এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মুখে শুনে জানা যায়, তাঁরা নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশী। যাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল বৈষম্যহীন একটি সমজ গড়ার কাগিগর হিসেবে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন। তাদেরকেই তাঁরা ভোট দিবেন। তরুণ ও নতুন ভোটাররা জানায়, তথ্য এবং প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পেতে আমরা বিশ্বাসী। তাই বেকারত্ব দূর করণে ঘুষহীন সরকারি চাকুরি দিতে প্রতিশ্রুতি বন্ধ ও আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ওয়াদা পালন করবেন, তাদেরকেই আমরা ভোট দিব। তাঁরা যে দলেরই হোক না কেন ? মনোনয়ন যেই পাক না কেন, এই আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দল নৌকা-ধানের শীষ প্রতিকের মধ্যে লড়াই হবে এবং জেনে শুনে বুঝে আমরা সৎ যোগ্য, এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজে জড়িত প্রার্থীকেই ভোট দিব।

বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মিরা জানায়, খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সৎ, যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই এলাকায় তার জনপ্রিয়তা অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীর চেয়ে বহু গুণে বেশি ভাল। তাঁহার মতো সৎ মানুষ যদি আমাদের আসনে আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে পাই, তাহলে এই এলাকার উন্নয়ন এবং শান্তিপ্রিয় এলাকা হবে বলে নিঃসন্দেহে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নেতা-কর্মিরা জানান, আমরা বিএনপিতে এ আসনে নতুন মুখ দেখতে চাই। সাবেক এমপি সামসুজ্জোহার পক্ষে বর্তমানে তেমন কোন নেতা-কর্মির সমর্থন নেই বলেও তারা জানান। তারা আরো জানান, বিএনপির সাবেক এমপি মনোনয়ন পেলে আগামি জাতীয় নির্বাচনে চরম খেসারত দিতে হবে বলেও তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

সম্ভাব্য প্রার্থী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচনটি জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাবার নির্বাচন। সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা অনেক সচেতন হয়েছে। ভোটাররা সৎ, যোগ্য ও মাঠ পর্যায়ে সুখে-দুঃখে যাদের পাশে পাবে তারা সেই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) এই আসনটিতে নির্বাচিত করবেন। এই আসনের জনগনের সেবা ও উন্নয়নের জন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নওগাঁ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে আমি খুবই আশাবাদী।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন