‘নতুন মুখ আনলেই হবে না, তাদের গড়েও তুলতে হবে’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারো শুরু হচ্ছে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম। চলচ্চিত্রের জন্য নতুন শিল্পী খুঁজে বের করার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। শনিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এবারের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবাবের আহবায়ক চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীর, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু।

অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক আলমগীর বলেন, এটা ভালো যে দেরীতে হলেও আমরা নতুন মুখের সন্ধান করতে যাচ্ছি। এর আগেও নতুন মুখের সন্ধান করে সফল হয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য যে তাদেরকে আমরা হারিয়েছি। তবে একটি অনুরোধ, শুধু নতুন মুখ আনলেই হবে না, তাদের গড়েও তুলতে হবে।

এদিকে মিশা সওদাগর তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র এখন সঙ্কটে রয়েছে। এখানে ভালো শিল্পীর অনেক অভাব। হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পী আছে আমাদের। এতো কমসংখ্যক শিল্পী দিয়ে হবে না। ইন্ডাস্ট্রি চলবে না। পরিচালক সমিতি দেরিতে হলেও এই আয়োজন করেছে। এজন্য সাধুবাদ জানাই। শুধু নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী নয়, পাশাপাশি পরিচালক, চিত্রনাট্যকার খোঁজাও প্রয়োজন।

‘নতুন মুখের সন্ধানে-২০১৮’-এর এই চুক্তি স্বাক্ষর ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত শিল্পী খরায় ভুগছি। আগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে বিকল্প শিল্পী ছিলো। এখন সেটা নেই। সে কারণে চলচ্চিত্র নির্মাণ কিছুটা বিপাকে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম প্রথম শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর ১৯৮৮ ও ১৯৯০ এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমেই সিনেমায় আসেন প্রয়াত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী, মান্না, ও চিত্রনায়িকা দিতি। অনুষ্ঠানে এই তিনজনের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং এবারের কার্যক্রমটি তাদের উৎসর্গ করা হয়।

এছাড়া মিশা সওদাগর, আমিন খান ও অমিত হাসানের মতো তারকারাও এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই সিনেমায় এসেছেন। যারা এখনো সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে শুরু হবে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে এর রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর প্রাথমিক অডিশন ও একে একে বিভিন্ন ধাপে খুঁজে বের করা হবে মেধাবী-সম্ভাবনাময়ী নতুন মুখ।

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর