নারী বলেই আত্মত্যাগ ফিকে!

সময়বাংলা, ডেস্ক: লজ্জা এখন না হলে আর কখন ?? পৃথুলা রশীদ বাংলাদেশের মেয়েই ছিলেন । তবু বন্ধু দেশ নেপালকেই The Daughter of Bangladesh সম্মানে ভূষিত করতে হলো । বাংলাদেশ যে কিনা নিজে এমন মেয়ের মা, তার বাচ্চার সত্যায়িতকরণ কি না অন্য দেশ থেকে নিতে হচ্ছে । এমন অভাগী মা আর ক’টা ই বা আছে ? এমন জারজ সন্তানদের মাতা হয়ে এ লজ্জা বহন করা ছাড়া আর কি ই বা আছে করার ?

একদিকে তার কিছু সন্তান তাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করছে ,অন্য দিকে কিছু সন্তান তাকে নোংরা করার । যেখানে পৃথুলা রশীদের সম্মানে মাথা নুইয়ে যাওয়ার কথা সেখানে তার লিঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলছি আমরা। প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হচ্ছে তার যোগ্যতার উপর । তার নারী হয়ে জন্মানোর উপর । সব দোষ তার ঘাড়ে দেয়া হচ্ছে । সেখানে যে একজন পুরুষ পাইলট ও ছিলেন ,তার দিকে কেউ আঙুল তুলছেনা । আজ শুধু সে নারী বলেই তার আত্মত্যাগ ফিকে ।

ঠিক ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মতো । কত কত পৃথুলা ঠিক এইভাবে দেশমাতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছে । নিজের সন্তান ,স্বামী ,সংসার সব হারিয়ে যুদ্ধ করেছে । হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে । লজ্জার বলি হয়েছে কত শতবার! তবু বীরশ্রেষ্ঠের তালিকায় কোথাও কি কোন নারীর নাম আছে ? সবচেয়ে বড় সম্মানের তালিকায় কোথাও নারী নেই । কেউ কি খবর রেখেছে তাদের? তাদের স্বজনদের মধ্যে ক ‘জনই বা তাদের গ্রহন করেছে ? অথচ দেশটা তাদেরও । আজ যারা নারীর লজ্জা কে প্রাধান্য দিচ্ছে তারা ভুলে গেছে, যদি আজ থেকে ৪৮ বছর আগে নারী তার লজ্জা নিয়ে ভাবত, তারা এই দেশ পেত না । যাদের লজ্জার বিনিময়ে আজ এই দেশ আমাদের, আমরা সেই দেশে থেকে তাদের ই অবমাননা করছি। এতটাই অকৃতজ্ঞ আমরা !!

এতটাই অকৃতজ্ঞ আমরা যে একজন বীরঙ্গনাকে সম্মানের বদলে তার নারী হওয়ার কারণ নিয়ে তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছি ।

এই লজ্জা কাদের ???!! কি করে দেশ এগোবে ??
যে জাতি নারী কে সম্মান করতে পারে না, যে সমাজে নারী কে কেবল ই দাসী, করুণার পাত্রী ভাবা হয় ,সেদেশ কখনই উঠতে পারবে না ।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে হবে । যতবার উঠতে চাইবে ততবার ব্যর্থ হবে । এখন যদি না জাগি আর কখনই জাগা হবে না । নারী কেবলই বংশ বৃদ্ধি করার মেশিন না। হাতে চুড়ি পড়ে পায়ে শেকল পড়ে চারদেয়ালে বন্দী থেকে সংসার ধর্ম পালন করাই নারীর একমাত্র উদ্দেশ্য নয় । নারীর জন্ম কেবলই স্বামীর বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া , তার শয্যাসঙ্গী হওয়া নয় । নারী সেক্স টয় নয় ।
নারী ও পুরুষের ন্যয় মানুষ । পার্থক্য কেবলই গঠনে । নারীর শরীরে এমন কিছুই নেই যার জন্য তাকে দাসী হয়েই থাকতে হবে । বরং নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ।

একটা প্রাণকে নিজের মধ্যে ধারণ করা, তাকে পৃথিবীর আলো দেখানো যেন তেন কথা না । নারীকে তার শারিরীক গঠনের কারনে তাকে ভঙ্গুর বলে । অথচ একজন নারীই তার এই ভঙ্গুর শরীর নিয়ে ঘরে বাইরে সব দিকে সামলাচ্ছে । মাসের কিছু বিশেষ দিনগুলোতে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়েও তার কাজ করে যায়,অথচ কেউ কিছু টের পায় না । কোনো পরিবারে স্বামী স্ত্রী দুজনেই চাকরী করে । বাড়ি ফিরলে একজন পুরুষ যেখানে নিজেকে সোফা তে এলিয়ে দিতে পারে ,সেখানে একজন নারী কে পথের মধ্যেই চিন্তা করতে হয় বাসায় গিয়ে কি রাঁধবে, বাচ্চার পরীক্ষা, কালকের প্রেজেন্টেশন । তারপরও কথা শুনতে হয়, “এজন্যই বলি মেয়েদের জায়গা ঘরে। মেয়ে মানুষ বাইরে থাকলে সংসার দেখবে কে ? ” যেন সংসার টা শুধুই নারীর ।

জাগো বাঙালি !! জাগো !! নাহলে কিছুদিন পর নিজেদের মুখ লুকানোরও জায়গা থাকবে না ।

আফিয়া রহমান আঁখি
বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

সময় বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর