পাকিস্তানী জুনায়েদের পপশিল্পী থেকে ইসলাম গ্রহনের কাহিনী

সময় বাংলা অনলাইন ডেস্ক: জুনায়েদ জামশেদ, পাকিস্তানের নামকরা পপশিল্পী ছিলেন।

গতকাল পাকিস্তানে এক বিমান দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত কয়েক বছর পূর্বে গান-বাজনা পরিত্যাগ করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইসলামের একজন বিশিষ্ট দাঈ বা দ্বীন প্রচারক ছিলেন।

জুনায়েদ জামশেদ ২০০৮ সালে বাংলাদেশে তাবলীগে এসে বলেছিলেন তার বদলে যাবার কাহিনী। শুনুন-

“২০০৩ সালের কথা। একদিন জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে করাচীর রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছিলাম। বাইরে তখন লু-হাওয়া বইছে। রাস্তায় পায়ে হাঁটা মানুষের সংখ্যা খুব কমই পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এমন সময় দেখি, তাবলীগের কিছু ভাই গাশতে (দ্বীনের দাওয়াতে) বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আর তাদের শরীর দিয়ে ঝর ঝর করে ঘাম ঝরছে। জামা-কাপড় সব ভিজে গেছে। তাদেরকে দেখে মনে মনে বললাম, লোকগুলো পাগল ছাড়া আর কি! নিজেদের আরামও নষ্ট করছে, অন্যদেরকেও বাড়ী থেকে বের করে কষ্টের মধ্যে ফেলার ফিকির করছে।

পরে চিন্তা করলাম, আমি এই এসি গাড়ীতে কত আরামে বসে আছি। কিন্তু এরা কিসের জন্য নিজেদেরকে এই কষ্টের মধ্যে ফেলছে? কেন তারা এই ত্যাগ স্বীকার করছে?

ওই জামা’আতে আমার স্কুল জীবনের এক সহপাঠী ছিল। সে আমায় বললো- ‘জুনায়েদ! এখন তুমি যে সম্মানের মধ্যে আছো, এটা চিরস্থায়ী নয়, এটা একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি তোমাকে যে পথে আহবান করছি-প্রকৃত সম্মান সে পথেই আছে। এখন হয়তো তুমি বুঝতে পারবে না। কিন্তু একদিন তোমার বুঝে আসবে যে, আমিই তোমার প্রকৃত কল্যাণকামী’।

আমি ভাবলাম, গান-বাদ্য তো আল্লাহর নাফরমানীর কাজ। তাই গান গাইতে ভালো লাগলো না। আবার চিন্তা করলাম, না গাইলে সংসার চলবে কি করে? এসব চিন্তা করে মনের সাথে লড়াই করে যেতে লাগলাম।

এদিকে শয়তান কিন্তু বসে থাকল না। আমার সংকল্প থেকে আমাকে টলাবার জন্য বিভিন্নভাবে সে জাল ফেলতে লাগলো। বড় বড় অফার আসতে লাগলো। একটা মাত্র গান গাওয়ার জন্য, একটা মাত্র শোতে অংশ নেয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রস্তাব আসতে লাগলো। কিন্তু আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সব লোভ ত্যাগ করলাম। ইতোমধ্যে আমার ঈমানী পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। বেতন দিতে না পারার কারণে ছেলে-মেয়েকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনলাম। গাড়ীটা বিক্রি করে দিলাম। এক সময় বাড়ীও বিক্রি করে দিলাম। স্ত্রী ঈমানের তালীম অর্জন করেছিল। বললো, আপনাকে সে চিন্তা করতে হবে না। আজ যিনি রিযিক দিচ্ছেন, আগামীকালও তিনিই রিযিক দিবেন।

এখন আমি পায়জামা-পাঞ্জাবী তৈরী করি। সারা পাকিস্তানে আমার ৪৫ টা শো রুম আছে। সবগুলো আমি চিনিও না। কোথাও আমার যাওয়াও লাগে না। আমি এখন একেবারে অবসর। প্রায় সারাবছর তাবলীগে সময় লাগিয়ে বেরাচ্ছি। আগে গান গাওয়ার জন্য সারা বিশ্ব সফর করেছি। এখন দাওয়াতের কাজে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা’আলা আমার গলাটাকেও কাজে লাগিয়ে দিলেন।”

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন