পান-সুপারির ভাল মন্দ

সময়বাংলা, স্বাস্থ্য: পান খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। এদের অনেকেই আছেন যারা প্রায় সারাক্ষণই মুখে পান পান দিয়েই রাখেন। অনেকের অভ্যাস খাওয়ার পর পান খাওয়া। গ্রীষ্মকালীন এবং প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে সুপারি গাছ জন্মায়। আর এশিয়ায় প্রচুর পান জন্মে। পান এবং সুপারি একসঙ্গে নিয়ে চুন মিশিয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেক দেশের মানুষের।

পানের সাথে তিল তিল করে যে বিষ পাণ করা হচ্ছে সেটা আমরা কয়জনই জানি! তাহলে আসুন জেনে নেই কি করে বা কি ভাবে আমরা পানের সাথে বিষ পাণ করি ।

একটি সিগারেটের সাথে যেমন নিকোটিন দেওয়া থাকে আর পানের সাথেও তেমন আমরা নিকোটিন মিশিয়ে বিষ পাণ করি অর্থাৎ বিড়ি-সিগারেটের তামাক পুড়িয়ে পাণ করি আর পানের তামাক চিবিয়ে পুরো রসটাই পাণ করি। এ যেন ঠাণ্ডা মাথায় দেখে শুনে নিজের গলায় নিজে রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়ার মত অবস্থা। নিকোটিন হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ।

যদিও পান আমাদের তেমন উপকারী খাদ্য না হলেও কিন্তু পান আমাদেরকে তিল তিল করে যে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। পানে ইউজিনল ও সুপারিতে অ্যারেকোলিন ও টারপিনিয়ল নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এগুলো শরীরের তাপ কিছুটা বাড়ায়, ঘামের উদ্রেক করে এবং হার্ট রেট ও রক্তচাপ বাড়ায়। পান-সুপারি আমাদের শরীরের জন্য মৃদু উত্তেজক। পান চিবানোর সময় মুখে লালার উদ্রেক হয় এবং লালার মাধ্যমেই পান-সুপারির রাসায়নিক পদার্থগুলো জিহ্বার নিচ দিয়ে রক্তনালিতে প্রবেশ করে। চুনে আছে ক্যালসিয়াম হাইড্র্রোক্সাইড। চুন-পান-সুপারির উত্তেজনা শক্তিকে কিছুটা দ্রুত, বর্ধিত এবং দীর্ঘ করে, যা ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।

পান-সুপারির কিছু ভালো দিক আছে। মনে করা হয় এগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, দাঁতের অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে, মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়, কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে এবং হজমে সাহায্য করে, আর চুনের ক্যালসিয়াম দাঁতের জন্য বাড়তি উপকার করে।

পান-সুপারির অনেক খারাপ দিক আছে। খারাপ দিকগুলো ভালো দিকগুলোকে ছাপিয়ে যায়। পান খাওয়ার পরপরই মাথা ঘোরা, ঘাম ইত্যাদি বের হতে পারে। অনেক সময় হাঁপানি, রক্তচাপ এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। এমনটি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। দাঁত লাল হয়। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে দাঁত ও মাড়িতে বিশ্রী দাগ পড়ে। সাময়িকভাবে জিহ্বা পুরু হয়। ক্ষুধামন্দা হয়। জর্দার নিকোটিন নেশার উদ্রেক করে। এখানে সেখানে পানের পিক ফেলা হয়। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। সবকিছু ছাপিয়ে যে ব্যাপারটি আমাদের জন্য আতঙ্কের তা হল, পান-সুপারি মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার রিসার্চ এজেন্সি পান-সুপারিকে মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে মনে করে।

নিয়মিত পান খেলে মুখে, জিহ্বায়, গ্রাসনালিতে এবং পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে। এই উপমহাদেশে মুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ পান-সুপারি। অতএব খারাপ দিকগুলো বিবেচনা করে পান-সুপারির অভ্যাস পরিত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, পানের সঙ্গে জর্দা মিশিয়ে খেলে পানের সব গুন নষ্ট হয়ে যায়।

সবসময় খাওয়ার পরেই পান খাওয়া উচিত। খালি পেটে পান খেলে সমস্যা হতে পারে। যারা অতিমাত্রায় পান খান তাদের জন্য দুঃসংবাদ আছে। বেশি পান খেলে মুখ এবং চোখের রোগ হতে পারে।

পানের সঙ্গে বেশি সুপারী খাওয়াও ঠিক নয়। অনেকে পানের সাথে প্রচুর খয়ের খান, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, পানের সঙ্গে বেশি খয়ের খেলে ফুসফুসে ইনফেকশন হয়।

পানে অনেক বেশি চুন নিলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। অনেকের জ্বর এবং দাঁতের সমস্যা আছে। তাদের পান খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

এছাড়াও ছোট বাচ্চারা এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের পান খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন