পাহাড়ি ঢলে সিলেটের চার উপজেলায় বন্যা

সময়বাংলা, ডেস্ক: টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের চার উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সারি ও পিয়াইন নদীর পানি বাড়ায় গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার, সিলেটে পয়েন্টে দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার পানি অমলসিদে ১ দশমিক ৪৯ ও শেওলা পয়েন্টে দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার পর্যন্ত পানি বাড়বে। তবে শনিবার থেকে পানি কমতে পারে।

হঠাৎ করে ঢলের পানি আসায় বন্যার কবলে পড়েছে এ চার উপজেলার অন্তত ২০ হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে।

জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ডুলটিরপাড়, বিরাখাই, শেওলারটুক, আসামপাড়া এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

কানাইঘাটে সুরমা নদীর উপচে পানি প্রবেশ করেছে কানাইঘাট উপজেলা সদরে। দক্ষিণ ও পূর্ববাজারের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কানাইঘাট পৌরসভার বায়ুমপুর ও রামপুর গ্রামের বেশকিছু এলাকায় প্রবেশ করেছে বন্যার পানি।

জকিগঞ্জ উপজেলায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে সিলেট নগরের নিচু এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর সোবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর এলাকায় বেশকিছু বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেবজিৎ সিংহ জানান, সিলেটে পাহাড়ি ঢল নামলে নদীর পানি বেড়ে গিয়ে জনপদ প্লাবিত হয়। নতুন করে ঢল না নামলে পানি নেমে যায়। কিন্তু এখনো বন্যা দেখা দেয়নি। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্লাবিত গ্রামগুলোতে সরকারি সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর