পা ছুঁয়ে সালাম করার শিষ্টাচার, রাজনীতিতে সারপ্রাইজ কেন?

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান, সময় বাংলা: পায়ে ধরে সম্মান প্রদর্শণ করার মানে হলো সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শণ করা, এটা সমাজে ঈদের সময়ে করার প্রচলন দেখে আসছি জন্মের পর হইতে। এরপর পরীক্ষা দিতে যাইতে, পরীক্ষার রেজাল্ট হওয়ার পর, এমনিতেই মেহমান হিসেবে কোন বিশেষ মুরুব্বী আসলে বা নিজে মেহমান হিসেবে গেলে ঐ বাড়ীর মুরুব্বীকে,পীর সাহেবকে বা কোন হুজুরকে, ছাত্র তার শিক্ষককে পায়ে ধরে সালাম করার বিষয়টি দেখে আসছি। তবে গত এক দশকের বেশীই হবে বা দুই দশকই হবে কিছু কিছু মুরুব্বী পায়ে ধরে সালাম করাকে ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়, আসলেই পায়ে ধরে সালাম করার বিধান কোআন হাদিসে পাওয়া যায়না।

আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন বলে কিনা জানিনা তিনি পায়ে ধরে সালাম করাকে প্রাধান্য দিতেন, উনার মামা মানে আমাদের দাদা একই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন জোনাব আলী স্যার, তিনি আসলে বা উনার বাসায় গেলে আমার বাবা পায়ে ধরে নিজেও সালাম করতেন, আমাদেরকেও করাতেন। এটা হলো সম্মান জানানোর স্থানীয় সামাজিক শিষ্টাচার প্রকাশের মাধ্যম। যেমন চীন জাপান মাথা ঝুকিয়ে কূর্নিশ করার সামাজিক শিষ্টাচার দেখা যায়, আমাদের দেশে ভোটের সময় প্রার্থীরা বেশীর ভাগই মুরুব্বীদেরকে সালাম করেন এবং করে আসছেন।

আমাদের সদর আসনের এম,পি জনাব, বাহাউদ্দিন বাহার ভাই এখন নিজেই মুরুব্বী উনাকে অনেক কাউন্সিলর পায়ে ধরে সালাম করে ছবি প্রকাশ করেছেন। আর এই এম,পি সাহেব যখন তরুন নেতা ছিলেন তিনিও মুরুব্বীদের পায়ে ধরে সালাম করে সবার মন জয় করে নিয়েছেন। যার সাক্ষী আমি নিজেই। আমরা ‘দোয়াত কলম ”মার্কার নির্বাচন দুইবারই করেছি, আমার ভাই তখন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সদস্য এবং বাহার ভাইয়ের একজন আমৃত্যু সমর্থক ছিলেন। আমরা চেয়াম্যান বাহার ভাইকে আসলেই জীবনে ভুলতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে। যাহউক এই বাহার ভাইকে কিছু মুরুব্বী হয়তো নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন বলেই নিজের ছেলে মনে করে উনার ”সিগারেট টানার” বিষয়টাকে আর একবার ঈদগাহর ইমাম পরিবর্তনের বিষয়টাকে হয়তো মেনে নিতে পারেননি। তাই কেউ কেউ এটাকে বেয়দপি হিসাবেই মনে করতেন বা বলতে শুনেছি। কিন্তু এখন তিনি অনেক পরিপক্ক।  জানাজাতে, ঈদের নামাজের সময় কোরআন হাদীস থেকে আলোচনা রাখেন, গতো ঈদে জঙ্গী বিরোধী ইসলামের আলোকে বক্তব্য অনেকের মনে রেখাপাত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে আমি মনে করি।  উনার মুনাজাতে আমি নিজে অংশ গ্রহণ করে তাজ্জব হয়েছি, এক কথায় দারুন।

সাক্কু ভাই প্রধান মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করে আলোচনার ঢেও তুলেছেন, আসলে তিনি সাবলিল ভাবে যে কাজটি ভালো লাগে করেন, তা নিয়ে এত্তো এত্তো রাজনৈতিক কথা আসলেই অনাকাংখিত। যিনি এই মন্ত্রীর আন্ডারে নির্বাচন করলেন এবং গত পাঁচটি বছর নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন তাই শুকরিয়া স্বরূপ স্বভাব সূলভ শিষ্টাচার প্রদর্শণ করতে গিয়ে উনার পক্ষ থেকে সম্মান দেখিয়েছেন। যার কারণে উনার স্ত্রীও স্বামীর পদাংক অনুসরন করে তিনিও সালাম করেছেন। তাতে করে কুমিল্লার মান ইজ্জত নিলামে উঠে যায় নাই, কুমিল্লার সম্মান বাড়িয়েছেন। যে কুমিল্লার নাম শুনলে প্রধান মন্ত্রীর ঘা ঘৃণায় রি রি করে উঠে, সাক্কু মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি তাহা কমানোর জন্য ভূমিকা পজেটিভলি রেখেছেন, তাতে দোষের কি আর জোরে ”জয় বাংলা” বলারইবা কি, যেটা স্বাভাবিক সেটাই। রাজনীতির পরিবেশ কতোটা খারাপ যে সেটাকে সারপ্রাইজ ভাবা হচ্ছে।

ভারতের নরেন্দ্র মোদি যিনি ভোটের সময় উনার চাইতে বয়স কম মুসলিম ধর্ম গুরুর পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন, তিনি ১০৪ বৎসর বয়সী এক সাধারনণ মহিলার পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন। পাকিস্তান সফরে নেওয়াজ শরিফের মাতার পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন। তাতে কি মোদি পচে গেছেন, নিশ্চয়ই না বরং উনার প্রতি মানুষের আস্থা আরো বেড়েছে। তেমনি যিনি কথার ফুল ফুটাতে পারেননা তাই সত্যিকারের ফুল ফুটিয়ে কুমিল্লাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। তাইতো দ্বিতীয়বার এই একই চেয়ার স্বগৌরভে ফেরত পেয়েছেন।

তাই যারা অহেতুক পক্ষে বিপক্ষে বলছেন তারা বলতেই থাকবেন আর সাক্কু’র কর্তব্য তিনি পালন করে দেখাবেন। উনি যদি তেল মারার জন্য সালাম করেছেন যারা বলতে চান তাদের জানা উচিত সেটাও তিনি কুমিল্লাবাসীর জন্যেই তেল মেরেছেন, উন্নয়ণের ধারা রক্ষার জন্যই মেরেছেন। সকলেই কি সালাম তেল মারার জন্য করেছেন, যে কাউন্সিলর গন সদর এমপি সাহেবের পা ছুঁয়ে সালাম করলেন তারাও কি তেল মেরেছেন। এটা কোন সালামকারী যেহেতু মানবেননা, তাই সাক্কু ভাইয়ের প্রতি এ অভিযোগও তিনি মানবেন কেন।

কেননা এটা স্বাভাবিক শিষ্টাচারই ছিলো রাজনীতিকরনের কারণে এটাকে জোর করে সারপ্রাইজ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কাহারো কাম্য নয়। আল্লাহ পাক সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন