”পুরুষ ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রনয়ণ এখন সময়ের দাবী”

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান, সময় বাংলা: বাংলাদেশে প্রতিটি জেলা জজ কোর্টে, জেলা ও দায়রা জজ সাহেবের সমমর্যাদার একজন জজ সাহেবের আন্ডারে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে সেই ২০০০ সাল থেকেই”

এটা ভালো ব্যাপার নিঃসন্দেহে কিন্তু নারীর ব্যাপারে যেমন ব্যাপক অগ্রাধিকার ও প্রতিদিন হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হচ্ছে যদিও বেশীর ভাগই ১১ এর (গ) ধারার মামলা। মানে যৌতুকের জন্য মারপিট করার অপরাধ, এ টাইপের মামলা। এগুলোর ফলাফল দেখা যায় বেশীর ভাগই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, কাবিনের টাকা প্রদানের বিপরীতে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। মূলত যৌতুকের জন্য মারপিটের যে অপরাধ তাহার কোন বিচারই তেমন একটা হইতে দেখিনা। আবার অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যেমন -আসলে পরকিয়া প্রেম, শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনদের সাথে বনিবনা হয়না, অর্থাৎ কারণ অন্য হলেও মামলাটা কিন্তু করা হয় যৌতুকের ব্যাপার নিয়াই।

যদিও সেই ১৯৯০ সন থেকেই ”যৌতুক নিরোধ আইন” বলবৎ রয়েছে, ঐ আইনে আমলী আমলী আদালতে ৪ নং ধারায় মামলা করা যায়। সরাসরি আমলে নেয়া হয় এবং সমন অথবা কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ওয়ারেন্টও প্রদান করা হয়।

গভীরভাবে দেখলে বলা যায়, প্রতিকারও মামলা শেষ হবার ঢং টাও একই রকম” তাহলে এই
”নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ন্ত্রণ ট্রাইব্যুনাল” গঠণ করে যে ফিডব্যাক পাওয়ার কথা ছিলো সেই কাংখিত ফিডব্যাক অধরাই থেকে গেল।

দীর্ঘদিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ”শুধু নারীদের ব্যাপার গুরুত্ব দিতে গিয়ে, শিশুদের ব্যাপারটা উপেক্ষিত। তাই মোদ্দা কথা হলো এই ট্রাইব্যুনাল এর সামাজিক প্রভাবটা এইরকম যে, নারীদেরকে অতিরিক্ত মূল্যায়ণ বা প্রোটেকশণ বা প্রোটেক্ট করতে গিয়ে ”সমাজে পুরুষ এবং শিশু নির্যাতন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে”

তাই বলবো এখন সময় এসেছে ”পুরুষ ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে বা সামাজিক ভারসাম্য আনয়ণ করতে নতুন করে আইন করা বা সংশোধন করার। ”পুরুষ নির্যাতন দমন আইন এখন সময়ের দাবী”

একজন প্র্যাকটিসিং ল’ইয়ার হিসাবে এটা আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, অন্যের মতামতের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন