‘পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ বলেছিল পিস্তল নিতে’

সময়বাংলা, ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের সন্তান সুমন জাহিদ ক্রমাগত হুমকি পাওয়ায় পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে একটি পিস্তল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সুমন পিস্তল রাখেননি। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা এলাকা থেকে সুমন জাহিদের লাশ উদ্ধারের পর তার স্বজনরা এসব কথা বলেন।

সুমন জাহিদের শ্যালক কাজী বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে ক্রমাগত  হুমকি পাচ্ছিলেন সুমন ভাই। সবশেষ একমাস আগে ফোনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।’ তবে জিডি নম্বর বা জিডি দায়েরের তারিখ বলতে পারেননি শ্যালক কাজী বখতিয়ার উদ্দীন।

নিহত সুমন জাহিদের ছোট ভায়রা বুলবুল আহমেদ জানান, একমাস আগে তিনি হুমকি পেলে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি আবার জানান। তখন পুলিশ তাকে বলেছিল, আপনার নিরাপত্তার জন্য আপনি একটা পিস্তল কিনে ব্যবহার করুন।

শাজাহানপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কুমার জানান, সুমন জাহিদ গত বছর নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছিলেন। জিডি নম্বর ৯১৪। ২১/৭/১৭ তারিখে জিডিটি করা হয়েছিল। এসময় আমরা তাকে পিস্তল ব্যবহারের পরামর্শ দেই।

তিনি আরও জানান, জিডি করার পর প্রত্যেক মাসে শাজাহানপুর থানার একটি টহল টিম সুমন জাহিদের ৩১২ নম্বরের বাসায় যেত। সর্বশেষ গত ২৮ মে তার বাসা পরিদর্শন করে আসে পুলিশ। এছাড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আরেকটি জিডি (নং-৫৯৬) করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

উল্লেখ্য, সুমন জাহিদ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে আসছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা এলাকা থেকে তার দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সুমন জাহিদের লাশ ডিআরপি (রেলওয়ে পুলিশ) থানা, কমলাপুরে রাখা হয়েছে। পরে সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনাস্থল থেকে লাশ সুমনের লাশ উদ্ধারকারী কমলাপুর জিআরপি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রেললাইনের বাইরের পাশের স্লিপারের ওপরে লম্বালম্বি লাশটি পড়ে ছিল। শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই-তিন হাত দূরে ছিল। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে উৎসুক জনতা মাথাটা শরীরের কাছে এনে রাখে।’

তবে কোন ট্রেনে কাটা পড়ে তিনি মারা গেছেন বা কখন কী ঘটনা ঘটেছে তার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর