প্রতিবারের মতো এবারও চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন হজযাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
মাত্র দু’টি বিমান সংস্থা দিয়ে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠাতে গিয়ে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০টির বেশি বিমান সংস্থার হজ যাত্রী পরিবহনে আগ্রহ থাকলেও বিধি নিষেধ থাকায় তারা তা পারছে না।

অন্য বিমান সংস্থা বা থার্ড ক্যারিয়ারের অনুমোদন না থাকায় একদিকে যেমন যাত্রীদের চড়া দামে বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে যাত্রী পরিবহনে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় হজযাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে হজযাত্রীদের বিমানের শিডিউল বিপর্যয়, দিনের পর দিন অপেক্ষা করা নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর ধরে রুটিন মাফিক এই ভোগান্তি হয়েই আসছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে চলতি বছরের হজ যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা।

কিন্তু এবারও হজ যাত্রী পরিবহনে থাকছে বিমান বাংলাদেশ এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স। সব দেশে একাধিক বিমান সংস্থা প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকেট বিক্রি করে হজ যাত্রী পরিবহন করলেও বাংলাদেশে তা সম্ভব হচ্ছে না।

হাব চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেই শুধু সৌদি এয়ারলেন্সেই না, থার্ড ক্যারিয়ার যেগুলো অন্যান্য এয়ারলাইসেন্স আছে, সেখানে প্রতিযোগীতা বাড়বে। বিমান ও সৌদি যেটা মনোপলি ব্যবসা করছে একচেটিয়া হয়ে হাজিদের জিম্মি করে সেটা আর হবে না। তখন থার্ড ক্যারিয়ার আরো কমে হাজি টানবে।’

আটাব নেতারা জানান,২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিন বছর বিমান বাংলাদেশ ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ছাড়াও সীমিত আকারে থার্ড ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তা আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে প্রতি বছরই ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়। আগস্ট মাস থেকে শুরু হবে হজ যাত্রা। এবার বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ্ব পালন করতে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার মানুষ।

আটাব সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক শুক্কুর বলেন, ‘এটা যদি ওপেন থাকে এতে হজ যাত্রীদের সময়ও কম হয় অর্থাৎ ২০-২৫ দিনের মাথায় তারা হজ করে ফেরত আসতে পারবেন, ডলারের সাশ্রয় হবে। হজের খরচও কমে যায়।’

বাংলাদেশের হজ যাত্রীদের পবিত্র হজ পালনের পাশাপাশি সৌদি আরবে আসা-যাওয়ায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন লেগে যায়। মূলত দু’টি বিমান সংস্থার কারণেই এই ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ হাব নেতাদের।

হাব সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পেয়ারু বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের যে হাজিরা যায় তাদের ৪০ থেকে ৪৫ থাকতে হয়। কিন্ত অল এয়ারলাইন্স ওপেন করলে বিশদিনে শেষ করে ফেরত আসা যাবে।’

বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়া এয়ালাইন্সের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমান বন্দর থেকে হজযাত্রী সৌদি আরবে যান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন