প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ বুলবুল সেকান্দার গং চাকরি খেয়েছে একুশের দুইশ কর্মীর পাশে দাঁড়ায়নি বিএফইউজে ও ডিইউজে॥ সংবাদকর্মীরা শাস্তি চায়॥

বিশেষ প্রতিবেদক, সময়বাংলা, ঢাকা : একুশে টেলিভিশনের মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী চাকরি হারান। অথচ যারা অধিকাংশই ছিলো সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত বা সরকার দলের সমর্থক। চাকরি হারানো কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্থলে নিয়োগ পেতে থাকে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এবং এম এম সেকেন্দারদের আর্শীবাদ পুষ্ট সরকার বিরোধী লোকজন। একুশে টেলিভিশনের হেড অফ নিউজ রাশেদ চৌধুরীকে অপমানজনকভাবে সরিয়ে দেয়ার পর মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ঐ পদে বসান নিজের এলাকা ময়মনসিংহ গৌরীপুরের একসময়কার শিবিরকর্মী এ কে এম মঞ্জুরুল হককে। মঞ্জু ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের জামাত-বিএনপি গ্রুপ করে। এবং রুহল আমিন গাজীর সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত।

এক সময় নৌবাহিনীর সেইলর পদ থেকে কমান্ডার হওয়া মনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেন বুলবুল। এই মনোয়ার একজন চরমপন্থী জামায়াত এবং তার বিরুদ্ধে ইটিভির বিভিন্ন মেয়েকে টিজ করা ও কুপ্রস্তাব দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে একজন লেডি সিকিউরিটি, ফ্রন্ট ডেস্কের একজন টেলিফোন অপারেটরকে একাধিকবার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একজন স্টোর কিপার মনোয়ারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে তার চাকরি খেয়েছে। মেয়েটিকে অফিসের মধ্যে জাপ্টে ধরায় সে মনোয়ারের বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছিল। এমনকি ঘটনাটি পত্রিকায় ওঠানোর কথা বললে মনোয়ার তার পা জড়িয়ে ধরেছিল নিজের রুমে ডেকে নিয়ে। সর্বশেষ মনোয়ার প্রোগ্রামের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে টার্গেট করে। মনোয়ারের যন্ত্রণায় এই কর্মকর্তা দিন পনের আগে সাতাশ দিন ছুটি কাটান। সবশেষে মনোয়ারকে যখন প্রোগ্রামের ছেলেমেয়েরা মিলে গণপিটুনি দিতে যায় তখন তাকে সেফ করার জন্য বুলবুল তাকে টার্মিনেট করে। ইটিভির এ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার জাকির হোসেন এসব তথ্য আমাদের নিশ্চিত করেছে।

বুলবুলের ডান হস্ত মিয়া মোহাম্মদ সেকান্দার বা এম এম সেকেন্দার কিছুদিন আগেও ১৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতো জিটিভিতে। কাজের বদলে সারাক্ষণ অফিসে রাজনীতি ও পরনিন্দায় ব্যস্ত থাকা সেকেন্দারের উপর প্রতিটি সহকর্মীই ছিল বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। কাজের পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছিল জিটিভিতে-বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টেশনের সিনিয়র সাংবাদিক সাজু রহমান। একইভাবে জিটিভিতে জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কারণ তার আগের প্রতিষ্ঠান বৈশাখী ও জিটিভির জীবনবৃত্তান্তে ছিল দু’রকমের তথ্য। ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের দু’জন সিনিয়র সাংবাদিক খুব জোর দিয়েই সেকান্দারের বিভিন্ন অপকর্ম আমাদের জানিয়ে বলেন, নান্দনিক নামের একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এম এম সেকান্দার। পরে জালিয়াতি করে মূল মালিককে বাদ দিয়ে নান্দনিকের ৫০ শতাংশের শেয়ার লুটে নেন। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন থেকে চাকরিচ্যুত এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার নির্মল কান্তি বড়–য়া অভিযোগ করেন যে, শুধু সেকেন্দারের কারণে ইটিভির পুরো স্টেশনে অস্থিরতা। বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সৈয়দ শফিকুল আলম মনি নামের একজন উকিলকে নিয়ে সেকেন্দার প্রায়ই অঞ্জন রায়ের রুমে বসে ইটিভির শেয়ার নিজের নামে নেয়ার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিগত কয়েক মাসের সিসিটিভির ফুটেজ ও অঞ্জন রায়ের রুমে রক্ষিত হিডেন ভয়েস রেকর্ডার পরীক্ষার পর তার প্রমাণও পেয়েছেন তারা।
স্ক্রিপ্ট লিখতে না পারা ও জামাতিদের মালিকানা ও হাতে গড়া চট্ট্রগ্রাম ল কলেজের সার্টিফিকেট জালিয়াতচক্রের সদস্য হওয়ায় মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বৈশাখী টিভি থেকে সেকান্দারকে বের করে দিয়েছিল। বুলবুলের গঠিত তদন্ত কমিটিতে প্রমাণ হয়েছিল যে, সারাদেশে জামায়াত ইসলামির গড়া নামসর্বস্ব ল কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেকান্দার। কর্মকান্ড শুরুর দু’বছর পর অবশ্য তথাকথিত ল কলেজ বন্ধ করে দেয় সরকার। কিন্তু সেকেন্দারের দুর্নীতি বন্ধ হয়না। বৈশাখীর এ্যাসাইনমেনট এডিটর মিঠুন মোস্তাফিজ ও মফস্বল ডেস্কের সাজেদা হকসহ একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, মূলত বৈশাখীতে আসার আগে সেকান্দার ছিলেন ইশতিয়াক রেজার শিষ্য। রেজা সাহেব সেকান্দারকে আদর করে সেকেন্দার বাদশা নামে ডাকতো। রেজার মাধ্যমে বৈশাখীতে চাকরির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উলুখড়িয়াতে রিপোর্ট করতে যান সেকেন্দার। উদ্দেশ্য ছিল উলুখড়িয়ার একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে ডাকাতদলের প্রধান বানিয়ে রিপোর্ট করা। সেই কাজটি সেকেন্দার ও ইশতিয়াক রেজা মিলে করেছিলেন। পরে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে প্রভাবশালী ঐ ব্যবসায়ীর কাছ মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নেন। আবার যাদের সুবিধার কারণে তিন পর্বে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছিলেন তারাও সেকেন্দারকে দেন ছিয়াশি হাজার টাকা। এমন বহু বিতর্কিত খবরের কারণে তখনকার সিইও বুলবুল সেকান্দার ও রেজাকে বৈশাখী থেকে চাকরিচ্যুত করেন।

বুলবুল ইটিভিতে জয়েন করার পর সেকেন্দার চট্টগ্রামের কোটায় ইটিভিতে চাকরি পান। নিজেকে মালিকের পোষ্য ছেলে দাবি করে বুলবুলের বিরুদ্ধে অর্থ ও নারী কেলেঙ্কারীর তথ্য দিয়ে চার পাতার অভিযোগ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পরিচালকের কাছে পাঠায় সেকেন্দার। বৈশাখী থেকে চাকরি খাওয়ার প্রতিশোধ নিতেই সেকেন্দার বুলবুলের বিরুদ্ধে উঠেপরে লাগেন। অফিসের ভেতরে-বাইরে তৈরী করেন প্রেশার গ্রুপ। সেই প্রেশার গ্র্রুপের অন্যতম সদস্য বিএনপি বিটের সাংবাদিক তাপসী রাবেয়া আঁখি। চাকরি বাঁচাতে বুলবুল অসৎ-যোগ্য এবং তার জন্য বুমেরাং জেনেও সেকান্দারের সাথে হাত মেলান। স্টাফ রিপোর্টার থেকে রাতারাতি বিশেষ প্রতিনিধি, চিফ রিপোর্টার ও প্লানিং এডিটর করেন। এক ব্যক্তিকে তিনটি পদ দিয়ে খুশি করেছেন নাকি বিতর্কিত করেছেন তা অনেকেই বুছে উঠতে পারেননি। পুরো সাংবাদিকসমাজ স্তম্ভিত হয়ে যান এ কারণে যে, সেকান্দার না হয় জানে না কিছু কিন্তু মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের মতো সিনিয়র সাংবাদিক কিভাবে এমন অভিনব প্রমোশন দেন? এরপরও বুলবুলের নানান স্ক্যান্ডাল আর তথ্য প্রমাণকে পুঁজি করে সেকেন্দার একের পর এক এগিয়ে যায় সামনের দিকে। বুলবুলের গার্লফ্রেন্ড ফারহানা নিশোর দুর্নীতি ধরা পরার পর তাকে ফেরাতে আরেক দফা সেকেন্দারের হাতে-পায়ে ধরেন বুলবুল। বিনিময়ে সেকান্দার প্রোগ্রামের কমিশনেও ভাগ বসানোর সুযোগ পান। কথা রেখেছেন সেকেন। তারেক জিয়া এবং বুলবুলের কথিত বান্ধুবি নিশো ফিরে আসে। কিন্তু পুণরায় গুলশানের আপণ জুয়েলার্সের ছেলের রেইন ট্রি হোটেল স্ক্যান্ডালে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বুলবুল নিজের সম্মান বাঁচাতে নিজেই ফারহানা নিশোর চাকরি খান। পরে সেকান্দার আর বুলবুল হয়ে যান অনুষ্ঠান কমিশনার। দশ টাকার অনুষ্ঠানে সাত টাকাই চুরি। সুযোগ বুঝে এই দলে যোগ দেন অঞ্জন রায়। সেকেন্দারের মন যোগাতে নিজের ধানমন্ডির জিগাতলা সংলগ্ন পোস্ট অফিস রোডের বাসা খালি করে দেন। এতোদিন সেখানে আড্ডা দিয়েছে তাপসী আর সেকান্দার। একুশের বহু ড্রাইভার ঘটনার সাক্ষী। এবার সেকান্দারের স্ক্যান্ডালকে পুঁজি করে এগিয়ে যান সাংবাদিক নেতা ও মিডিয়া পলিটিশিয়ান মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। নিজের স্বার্থ হাসিল করতে সেকেন্দারের মাধ্যমে নানান বায়না পাঠান মালিক সাইফুল ইসলাম মাসুদ ও তার ভাই ইটিভির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল সামাদ লাভুর কাছে। লাভু ও মাসুদ না বুঝেই নানা ধরণের সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন বুলবুলের পক্ষে। সেকান্দারের মন জোগাতে বুলবুল বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপ ও ঘুরতে পাঠান তাপসীকে। তাদের দুজনের কিছু অন্তরঙ্গ ফুটেজ এখন বুলবুল ও তার লোকজনের উপরে ওঠার সিঁড়ি। কারণ তারা এসব দেখিয়ে সেকান্দারকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে।

বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনের বাসিন্দা তাপসীর ভাই রাজধানীর মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী ও ঠকবাজ হিসেবে পরিচিত। কখনো ডিবির অফিসার, কখনো আর্মির মেজর হিসেবে এলাকায় পরিচয় দেয়। তাপসীর গ্রামের নাম দারুণ। সেখানকার শতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানো, আর্মি, বিজিবিতে চাকরি দেয়ার নামে বহু টাকা নিয়েছে তাপসীর ভাই রায়হান। এসব কাজে ব্যবহার হতো একুশে টেলিভিশনে এম এম সেকান্দারের রুম। দারুণ গ্রামের বহু লোক সেকান্দারের কক্ষে বসে টাকার লেনদেন করেছেন। অফিসের প্রায় সবাই ঘটনা জানলেও ভয়ে মুখ খোলেনি। কারণ সেকান্দার তাপসী গংদের বিরুদ্ধে বলে রাশেদ চৌধুরী, দীপু সরোয়ার টিকতে পারেননি। সবাইকে এরা বুলবুলের মাধ্যমে চাকুরিচ্যুত করেছে। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল তাপসীর ভাই রায়হান খেলনা অস্ত্র, হাতকড়া, ওয়াকিটকিসহ ডিবির ডিসি নাজমুলের টিমের কাছে ধরা খায়। তখনো বুলবুল, সেকান্দারদের সুপারিশে ছেড়ে দেয় রায়হানকে। এমনিভাবে বুলবুলের গার্লফ্রেন্ড ফারহানা নিশো গুলশানের সুপারশপ লাভেন্ডার থেকে পারফিউম চুরি করে ধরা খেলেও এই গ্রুপটি রাতভর দেনদরবার করে ছাড়িয়ে এনেছিল।

সেকেন্দারের কোন বায়না বুলবুল পূরণ করতে না চাইলেই বৈশাখীর টাকা লুটপাট ও চরিত্রহীনতার ডকুমেন্টসহ চারপাতার অভিযোগপত্র বিভিন্ন পরিচালকের কাছে নতুন করে জমা দেয় সেকেন্দার। চিটাগাংয়ের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র সেকেন্দার বুলবুলকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসে। তাকে দমাতে বুলবুল সেকান্দারের ব্যক্তিগত ফাইলে সিভি ও সার্টিফিকেট জমা দিতে বলে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বায়োডাটা জমা পড়েনি। কারণ এই সেকেন্দার বৈশাখী টিভির সিভিতে লিখেছিল নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, গাজী টিভিতে দিয়েছিল দারুল ইহসানের ছাত্র আর একুশে টিভির সিভিতে লিখেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবার আরটিভিতে সিভি দিয়েছিল চিটাগাং কমার্স কলেজের পরিচয়। তার গ্রাম দক্ষিণ মাদারশাহ ও পার্শ্ববর্তী রশিদবাড়ি গ্রামে তার আত্মীয়রা সবাই কট্টর জামাতি। এবং সারাক্ষণ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তার মতো এতো অল্প বয়সের একটি নাবালক অশিক্ষিতকে একযোগে বিশেষ প্রতিনিধি, চিফ রিপোর্টার, প্ল্যানিং এডিটর পোস্ট দেয়ায় মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সমস্ত সাংবাদিকসমাজে হাসির পাত্র হয়েছেন। বুলবুলের উপায়ই বা কি? এসব না করলে তো সেকেন্দার মালিকের কাছে হাঁড়ি ভেঙে দেবে বলে হুমকি দেয়।

সম্প্রতি বুলবুল আর সেকেন্দার মিলে কিছু রিপোর্টার ও প্রেজেন্টার নিয়োগ দিয়েছে। যেটি মালিকপক্ষ জানেনা। আবার ডাইরেক্টররা জানলেও তাদের কিছু করার নেই। যেমন বুলবুলের আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়া ছাত্রদলকর্মী রকিব মানিক সিনিয়র রিপোর্টার পদে নিয়োগ পেয়েছে। এই রকিব মানিক ময়মনসিংহ গৌরীপুরের ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামী। এমনকি বিএনপির জ্বালাও পোড়াও মামলারও অন্যতম আসামী। রকিবের জান বাঁচাতে বুলবুল তাকে সাংবাদিক বানানোর প্রজেক্ট নিয়েছে। মামলার কারণে বিভিন্ন সময় পলাতক জীবনযাপন করে ভেঙে পড়েছিল রকিব। ডিগ্রি পাশের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে সবার চেয়ে বেশি বেতনে ও একবারে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় পুরো অফিস ক্ষুব্ধ হয়েছে। রকিবের যোগ্যতা সে বুলবুলের দুরসম্পর্কের রিলেটিভ। বুলবুল যখন রমনা পার্কে ভোরে দৌড়াতে যায় তখন পার্কের গেটে ডাব হাতে অপেক্ষা করতো রাশেদ নামের যে ছেলেটি তাকেও সাংবাদিক বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বৈশাখী থেকে চাকরি যাবার পর রাশেদ দীর্ঘদিন বুলবুলের বাসায় ফরমায়েশ খাটতো বলে বৈশাখীর পুরণো সংসবাদকর্মীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি বৈশাখীর সেই ডাব রাশেদকেও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইটিভিতে।

বুলবুল-সেকান্দারের স্ক্যান্ডাল, দুর্নীতি ও সাংবাদিকতার নামে বেহায়াপনা সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনালের এ কে মোহাম্মদ আলী সিকদারকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মালিকপক্ষ। অত্যন্ত ক্লিন ইমেজের প্রখর দূরদর্শীতাসম্পন্ন মোহাম্মদ আলী শিকদারকেও বুলবুল কাজ করতে দিচ্ছে না। জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর বুলবুল নিজেই করে দেন। যাতে তার সম্মানহানি ঘটে এবং অন্য কর্মকর্তার মতো অপমান সইতে না পেরে স্টেশন থেকে রাগে দুঃখে চলে যান। বুলবুল সব ডিপার্টমেন্টে তার লোকজনকে বলে দিয়েছে এমডিকে চলতে ফিরতে যেন অপমান করা হয়। বিভিন্ন সময় বুলবুল এমডিকে ইংগিত করে বলেন যে, এমডি সামান্য মেজর জেনারেল। সে বড়জোড় সিকিউরিটি ইনচার্জ হতে পারে। উনি টিভি চালানোর কি বোঝে? ইটিভির সব বিভাগেই বুলবুলের জামাতি বাগান সাজানো আছে। তারা বিভিন্নভাবে চৌকশ এই ব্যক্তিটিকে বের করে দেবার ষড়যন্ত্র করছে।

উল্লেখ্য যে, একুশে টিভির প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফট কর্নার আছে। এবং একুশে নামটি তাঁরই দেয়া। অথচ বুলবুল ও তার লোকজন ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশনটিকে দিন-দিন পেছনের দিকে নিতে-নিতে দর্শক হারিয়ে ফেলেছে।

নিয়মানুয়াী কোন বোর্ড মিটিং ছাড়া নির্দিষ্ট কারণ ব্যতিত কারও চাকরি যাবে না। কিন্তু বুলবুলের পছন্দ না হওয়ায় শত শত ছেলেমেয়ের চাকরি গেছে এখান থেকে। যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ পরিবারের। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নৌপরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খানের জামাতা, সাবেক মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের নিকটাত্মীয় পর্যন্ত রয়েছে। অথচ বোর্ড মিটিং না করেই বুলবুল ও সেকেন্দার চক্র একের পর এক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে পছন্দের লোকদের। তারা কাজও করছে না, বেতনও নিচ্ছে। এক আজব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ইটিভি। সম্প্রতি এম এম সেকান্দারকে একুশে টিভি থেকে বের করে দেয়ার পর বুলবুল ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিত ইউনিয়ন দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে সেকেন্দারের পক্ষে। বিভিন্ন স্টেশনের সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুলেছে, যখন ২৭৬ জনের চাকরি খেয়েছে বুলবুল-সেকেন্দার গং তখন এই বিএফইউজে আর ডিইউজের নেতারা কোথায় ছিলেন? সংগঠন কি একেকজনের জন্য একেক রকম আচরণ করতে পারে? বিতর্কিত একজন সাংবাদিকের জন্য বিবৃতি দিয়েছে অথচ শত-শত সাংবাদিকের চাকরি গেল তখন তারা চুপচাপ থেকেছে!

একুশে থেকে বিনা দোষে চাকরি হারানো প্রযোজক বাবুল আক্তারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী আমাদের জানান, এসআলম গ্রুপ দায়িত্ব নেয়ার পর গেল তিন বছরে ২৭৬ জনের চাকরি গেছে বিনা দোষে। তিন বছরে অন্যদের কোন প্রমোশন হয়নি, বেতন বাড়েনি। অথচ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে হুমকি দিয়ে বুলবুল চক্রের সাত সদস্য একেএম মঞ্জুরুল হক, শেখ জাহিদুর রহমান, এম এম সেকান্দার, অনজন রায়, আক্কাস ফকির (ডিজএম, এডমিন), সিরাজুম মুনিরা ডালিয়া (মার্কেটিং ডেপুটি হেড) প্রমোশন ও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে। অথচ কয়দিন আগে দীপু সরোয়ার, রাফে সাদনান আদেলসহ যাদের অবৈধভাবে চাকরি গেছে তাদের তিন মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিল সেটাও বুলবুল দেয়নি। অথচ রাফে সাদনান আদেল প্রধানমন্ত্রীর বিট কাভার করতেন। দীপু সরোয়ার এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রিপোর্টার।

যত অভিযোগ একুশে টিভির চিফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর এম এম সেকেন্দারের বিরুদ্ধে

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর