ফের পেছালো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ

নির্ধারিত সময়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হচ্ছে না। আগামী ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় মহাকাশে স্যাটেলাইটটির যাত্রা করার কথা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড. সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের আরও জানান, শুক্রবার সকালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে সে ব্যাপারে পরে জানানো হবে।

সিদ্দিকুর বলেন, যেহেতু আগে কখনও এ ধরনের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্টদের ছিল না, এ কারণে তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুতি চলছে।

ড. সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শুক্রবার সবশেষ ‘টেস্ট অ্যানালাইসিস’ চালায়। এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নতুন দিনক্ষণ ঠিক করবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি।

তিনি বলেন, পরীক্ষাটির তথ্য বিশ্লেষণ করতে কিছুদিন সময় লাগবে। এ কারণে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কবে উৎক্ষেপণ হবে। তবে আমরা আশা করছি শিগগিরই সেটা হবে।

এর আগে প্রথম দফায় ২৪ এপ্রিল, এরপর ৪ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিন নির্ধারণ করা হয়। ৪ মে আবহাওয়া খারাপ হতে পারে- এমন আশঙ্কায় পরে ৭ মে সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়। কিন্তু এবারও সেটি পেছালো।
বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। এটি তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে টার্ন কি পদ্ধতি কোম্পানিটির চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে গেলে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে বাংলাদেশের। এছাড়া এই স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের ওপর, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর