বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবে?

ড.তুহিন মালিক:
১. ’৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট বিশ্বাসঘাতকরা সপরিবারে নিমর্মভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামীলীগের তৎকালীন মন্ত্রী খন্দকার মোশতাকসহ বাকশালের ১৯জন মন্ত্রী তখন তাদের নেতার লাশের উপর দিয়েই আনন্দচিত্তে মন্ত্রীত্বের শপথ গ্রহন করেছিল। তাদের মধ্যে একজনও আজ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হয়নি কেন? বঙ্গবন্ধু হত্যার নিমর্ম ট্রাজেডির সেন্টিমেন্টকে রাজনৈতিক অপব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করেছে তার দল। কিন্তু সত্যিই কি বঙ্গবন্ধু তার হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছেন? বিশ্বাসঘাতকরা কি তাদের জীবদ্দশায় কখনও শাস্তির মুখোমুখি হবে?

২. ইতিহাসের এই নারকীয় হত্যাকান্ডের দীর্ঘ কয়েক যুগ পর আওয়ামী লীগ এর জন্য জাসদকে দায়ী করে। কিন্তু আসলেই কি বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য জাসদ একা দায়ী? অন্য করো কি এতে কোন দায় নেই?

৩. ’৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় খন্দকার মোশতাকের শপথ পরিচালনা করেন এইচ টি ইমাম। অথচ তিনিই আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার গুরুত্বপুর্ন উপদেষ্টা!

৪. ’৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। অথচ স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা তাকে এমপি বানায়!

৫. ’৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় বিমানবাহিনী প্রধান ছিলেন এ কে খন্দকার। অথচ স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা তাকে পরিকল্পনা মন্ত্রী বানায়!

৬. ’৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় রক্ষীবাহিনী প্রধান ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। অথচ তিনিই আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার সিনিয়র মন্ত্রী!

৭. বঙ্গবন্ধুকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিয়ে তার পিঠের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাঁজানোর ঘোষনাদাতা মতিয়া চৌধুরী আজ স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মন্ত্রী!

৮. বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কর্নেল তাহের বলেছিলেন ’উচিৎ ছিল বঙ্গবন্ধুর লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া’। অথচ সেই কর্নেল তাহেরই আজকের আওয়ামী লীগের বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস!

৯. বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ট্যাংকের উপর জুতা হাতে নিয়ে প্রকাশ্য উল্লাসকারী হাসানুল হক ইনু আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যার লাঠিয়াল মন্ত্রী!

১০. বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত ভালোবাসতে হলে তার গুপ্ত ঘাতকদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই মানুষটিরও নিজের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবে?

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন