বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

সময় বাংলা, ডেস্ক: সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হচ্ছে। ঢাকাতেও বজ্রপাতে আতঙ্কে আছে মানুষ। ইতিমধ্যে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরো অর্ধশত ব্যক্তি।

উন্নত বিশ্বে বজ্রপাত একটি সাধারণ বিষয় হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বে বাংলাদেশেই বেশি। খোলা জায়গা, জনবহুল বসতি যেকোনো স্থানে হতে পারে এটি। তাই আজ জানব বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে যা করতে হবে।

বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে করণীয়:

১. বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে এবং উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উঁচু গাছ থেকে কমপক্ষে চার মিটার দূরে অবস্থান করতে হবে। তবে নিকটবর্তী পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেয়াই শ্রেয়।

২. এ সময় জানালা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলা, টিভি-ফ্রিজ না ধরা, গাড়ির ভেতর অবস্থান না করা, খালি পায়ে না থাকা, এমনকি ল্যান্ডফোনও স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া বিদরা।

৩. বজ্রপাতের সময় বিদ্যুত্চালিত যন্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। বজ্রপাতের আভাস পেলে প্লাগ খুলে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

৪. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা বিপজ্জনক। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা সবচেয়ে নিরাপদ। বাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে তাল, নারিকেল, সুপারিগাছ লাগানো উচিত।

৫. বাড়িকে নিরাপদ রাখতে বজ্রনিরোধক যন্ত্র লাগাতে হবে এবং সেই সঙ্গে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৬. ধানক্ষেত বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে চোখ বন্ধ রাখতে হবে। কোনো অবস্থায়ই মাটিতে শুয়ে পড়া যাবে না। কারণ মাটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৭. বজ্রপাতে আহত কাউকে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতোই চিকিৎসা করাতে হবে। আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃত্স্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে ঘটনার সময় খালি হাতে স্পর্শ করলে নিজেও ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

৮. বজ্রপাতের সময় নদী বা জলাশয় থেকে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে এবং জলাশয় বা জলাবদ্ধ স্থান থেকে দূরে সরে যেতে হবে। নৌকায় অবস্থান করলে দ্রুত ছইয়ের নিচে অবস্থান নিতে হবে।

আবাহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, রোববার সকাল থেকে দেশের অনেক এলাকায় ভারি বর্ষণ হয়েছে। আগামী দুদিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণে এমনটি হবে।

এসএস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন