বাঁচার জন্য তীব্র আকুতি ছিল যাত্রীদের

সময়বাংলা ডেস্ক: কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার বিমানটির যাত্রীরা বাঁচার জন্য তীব্র আকুতি জানিয়েছিলেন। ‘বাঁচাও, বাঁচাও’বলে সাহায্য চেয়েছিলেন। কেউ আবার ইংরেজিতে বলছিলেন- হেল্প মি, প্লিজ হেল্প মি…। উদ্ধারকারী সেনা কর্মকর্তা বালকৃষ্ণ উপাধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

উপাধ্যায় জানান, পুরো ঘটনাটিই ছিল বিভীষিকাময়। আমি নেপালি সাংবাদিক ভদ্র শর্মার সঙ্গে বিমানবন্দরে যাই। ফটকের বাইরে পাথরের নুড়ির স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, আগুন বের হওয়া বিমানে পানি ছিটানো হচ্ছে।

বিমানবন্দরে একটি জ্বালানি কোম্পানিতে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন কৈলাশ অধিকারী। তিনি বলেন, বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে বোমা বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়েছে। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। তবে তারা যদি আরেকটু আগে আসতেন, তাহলে আরও বেশি লোককে প্রাণে বাঁচানো যেতো।
নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি যাত্রী শাহরিন আহমেদ বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে নেপাল ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। বিমানটি অবতরণের আগে আগেই বামদিকে মোড় নেয়। লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। আমরা পেছনে তাকিয়ে দেখি, বিমানে আগুন জ্বলছে।’

তিনি আরও বলেন, তখন আমার বন্ধু তার সামনের দিকে দৌঁড়াতে বলে। কিন্তু দৌঁড় শুরু করতেই আমার বন্ধুর পুরো শরীর আগুনে ঢেকে যায়। সে নিচে পড়ে যায়। মানুষ পুড়ছে, আহাজারি করছে, নিচে পড়ে যাচ্ছে। জ্বলন্ত বিমান থেকে তিন যাত্রী লাফিয়ে পড়ে। এটা ছিল ভয়ানক। সৌভাগ্যবশত কেউ একজন আমাকে নিরাপদে বের করে নিয়ে এসেছেন।’

অপর বাংলাদেশি যাত্রী মেহেদি হাসান। প্রথমবারের মতো বিমান চেপে নেপালে যান তিনি। সঙ্গে ছিল স্ত্রী, চাচাতো ভাই ও তার মেয়ে।

তিনি বলেন, আমাদের আসন ছিল পেছনে। আমি যখন আগুন দেখতে পাই তখন পরিবারের স্বজনদের খোঁজ করি। আমরা বিমানের জানালা ভাঙার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হই। আমরা আশায় ছিলাম কেউ আমাদের উদ্ধার করবে। আমার স্ত্রী ও আমাকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আমার চাচাতো ভাই ও তার মেয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন