বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি

ডেস্ক নিউজ: বস বলে তাকে আগেই ডাকা হয়েছিল। এবার সেটি আরো পরিপূর্ণ হলো। মিরপুরে মঙ্গলবার ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৯১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। আর এই জয়ের সাথে সাথে দারুণ এক রেকর্ডের মালিক হলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। হাবিবুল বাশার সুমনকে পেছনে ফেলে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ জেতানো অধিনায়ক এখন ‘বস’ মাশরাফি।

১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন। তার সময়েই বাংলাদেশ ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছিল। তাই তাকে বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়কও বলা হয়। কিন্তু গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে হাবিবুল বাশারের চেয়ে কম ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয়ের দিক দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন মাশরাফি।

বাংলাদেশের হয়ে এ পর্যন্ত ৫৩টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ৩০টি জয় এনে দিয়েছেন মাশরাফি। জাতীয় দলকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয় এনে দিয়ে নতুন গৌরব অর্জন করলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ৬৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯টি ম্যাচে দলকে জিতিয়েছিলেন। গতকাল তাকে ছাড়িয়ে গেলেন ইনজুরিকে জয় করা মাশরাফি।

মাশরাফি মর্তুজা
সুমনের নেতৃত্বে ৪০টি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে মাশরাফির নেতৃত্বে ২১টি ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। তার মানে এখানেও সুমনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন মাশরাফি। বাশার-মাশরাফির পর বাংলাদেশকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩টি ওয়ানডেতে জয়ের স্বাদ দিয়েছেন ৫০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া সাকিব আল হাসান।

মোহাম্মদ আশরাফুল বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৮ ম্যাচে। যেখানে বাংলাদেশ জিতেছে আটটিতে। হেরেছে ৩০টিতে। মুশফিকুর রহিম নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৭ ম্যাচে। জয় ১১টিতে। হার ২৪টিতে। ফল হয়নি দু’টি ম্যাচে। খালেদ মাসুদ পাইলট ৩০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিয়েছিলেন চারটিতে। হার ২৪টিতে। ফল হয়নি দু’টি ম্যাচে।

মাশরাফির অধিনায়কত্বে গত আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশ দেখা পেয়েছে একের পর এক মনে রাখার মতো সাফল্য। অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। এবারের সাফল্যতে তাই অনন্য এক সাফল্যে উদ্ভাসিত হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মহানুভবতায় ভরা এই মানুষটির সময়ই ড্রেসিং রুম হয় বন্ধুভাবাপন্ন, মন খুলে কথা বলার জায়গা আর প্রেরণার উৎস।

তামিম নিজেও তৃপ্ত
ক্রিকেট বিশ্বে এক মাঠে সর্বাধিক রানের রেকর্ড ছিল এত দিন সনৎ জয়সুরিয়ার। কলম্বোর প্রেমাদাসায় ২৫১৪ রান করার কৃতিত্ব ছিল তার। এবার তামিম ইকবাল ওই রেকর্ড টপকে উচ্চতায় উঠেছেন। শেরেবাংলায় তামিমের রান ২৫৪৯। শুধু তা-ই নয়, ৬৬ রান করলে ছয় হাজারি ক্লাবেরও সদস্য হবেন তামিম এটাও তিনি জানতেন। কাল ওই রানও করেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ ম্যাচে বাংলাদেশ যেমন জিতেছে তেমনি ম্যাচ সেরার কৃতিত্বও পেয়েছেন বাংলাদেশের এ বাঁহাতি ওপেনারের। কাল ম্যাচ শেষে তামিম নিজেই জানালেন, ‘সব অর্জনই মন ছুঁয়ে যায়। ভালো লাগে। এ মুহূর্ত আমার খুবই ভালো লাগছে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার এমন কৃতিত্ব রয়েছে এ জন্য।’

প্রেস কনফারেন্সের সূচনাতেও আনঅফিসিয়াল কিছু কথা হচ্ছিল। সেখানে চলে এসেছিল সাকিব প্রসঙ্গ। ৫১ রান ও তিন উইকেট। সাকিবেরই বোধ হয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল! তামিম বলে ফেলেন, আসলে সাকিবই ডিজার্ভ করে এমন কৃতিত্বের (হেসে দিয়ে)।

তামিম বলেন, ‘আসলে এমন উইকেটে ব্যাটিং করা খুবই কষ্টকর ছিল। বিশেষ করে প্রথম ১০-১৫ ওভার খুবই কষ্ট ছিল। ওই সময় আমি ও সাকিব মিলে উইকেট কন্ডিশন অনুসারে ব্যাটিং করেছি। এতে আমরা সফল ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আসলে ভুল আমাদেরই হয়েছে। আমাদের (সাকিব ও তামিম) ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করা উচিত ছিল। ওটা হলে দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয় হয়তো হতো না।’

তিনি বলেন, ‘নেমেই এমন উইকেটে স্বাভাবিক ব্যাটিং করা খুবই কষ্টকর। সেটাতে অন্যরা সুবিধা করতে পারেনি।’ তামিম এ ম্যাচে রান করেছেন ৭৬। অর্থাৎ পূর্বের দুই ম্যাচে ৮৪ করে রান করার পর এ ম্যাচে ৭৬। সেঞ্চুরির লক্ষ্যে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা হয়নি। তামিমের আক্ষেপ ছিল এ ম্যাচেও। তিনি বলেন, ‘আসলে এ ম্যাচেও একটা চান্স ছিল। কিন্তু সেটা মিস হলো। আফসোস তো অবশ্যই লাগছে। পর পর তিন ম্যাচে বিগ স্কোর করেও সেঞ্চুরি পর্যন্ত যেতে পারলাম না। তবে আমি যখন শটস খেলে আউট হই ওটা এখন মনে হচ্ছে খুব রং সময় ছিল। আসলে ক্রেমারকে আমি আগ থেকেই টার্গেট করে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম ওকে ক’য়েকটা শট মেরে দিলে ও হয়তো সেভাবে আর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। অন্যদের জন্যও সুবিধা হবে। কিন্তু সেটা হয়নি।’

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে দায়টা তিনি নিজেই নেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন আউট হই তখন অন্তত এক শ’ বল খেলে ফেলেছি। উইকেটে কেমন ব্যাটিং করতে হবে সেটা আমি জেনেছিলাম। ফলে ওই মুহূর্তে আমারই টিকে থাকা উচিত ছিল। কারণ এ উইকেটে নেমেই ভালো খেলা সম্ভবপর না। বাস্তবেও দেখেন তাইতো হলো।’ নাসির ও সাব্বির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই ওদের জন্য এ ম্যাচে একটা দারুণ সুযোগ ছিল। বিশেষ করে, আমরা টপ অর্ডাররা যখন এগিয়ে দিয়েছিলাম সব। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ওদের ভালো একটা ব্যাটিংয়ের সুযোগ ছিল। তবে ব্যাড লাক সাব্বিরের। দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছে ওর। আর নাসিরও সুযোগটা করে নিতে পারেনি।’ তবে তামিম বলেন, ‘আমরা ধরেই নিয়েছিলাম এমন উইকেটে দুই শ’ প্লাস রান করলে আমাদের একটা চান্স থাকবে। বিশেষ করে দ্রুত যদি কয়েকটা উইকেট আমরা নিয়ে নিতে পারি। সেটাই হয়েছে ম্যাচে।’

দুর্দান্ত ফর্মে এখন তামিম। পেছনের দুঃসময় কাটিয়ে এমন পারফরম্যান্স করার জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন বলেই জানালেন। তবে ভবিষ্যতে যদি কখনো এমন ব্যাট-প্যাচ আসে (বাজে সময়) তখন তিনি আরো রিল্যাক্স থেকে বেসিকের দিকে নজর রেখে পরিশ্রম করবেন বলে জানালেন। তবে সাথে বললেন, ‘অমন সময় যেন আর না আসে!’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন