বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিট : যা আছে কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ইউরোপ ভিত্তিক বাংলাদেশী ডায়াসপোরা সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)’র ব্যবস্থাপনায় ১৯-২০ নভেম্বর ২০১৬ মালয়েশিয়ার মাটিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন ১ম বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটের যবনিকাপাত ঘটে ২৩ দফা ‘কুয়ালালামপুর ঘোষণা’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব থেকে আগত পেশাদার বাংলাদেশীরা এতে যোগ দেন। প্রবাসী বিশ্বসম্মেলনের ২ দিনব্যাপী কর্মসূচীতে অংশগ্রহনকারীদের আলোচনা, মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশন’ প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডিমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)’র প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার। চলুন দেখা যাক কী আছে ২৩ দফা কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে।

(১) কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশনে ব্যবহৃত ‘ডায়াসপোরা’ হচ্ছেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা যে কোন কারনেই হোক মাতৃভূমি থেকে দূরে অবস্থান করছেন তথা নিজ রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডের বাইরে যাদের বসবাস। তারা তাদের মাতৃভুমিকে ভালোবাসেন। তারা বেশ আশাবাদী এবং জীবনের একটা পর্যায়ে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছেও পোষণ করেন।

(২) বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে প্রণীত ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন’ নিয়ে সামিটে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামিটে এইমর্মে সুপারিশ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশী ডায়াসপোরা এবং তাদের দ্বিতীয় ও পরবর্তি জেনারেশনের নাগরিক অধিকার সংরক্ষনকল্পে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে পরামর্শমূলক একটি প্রক্রিয়ায় প্রবাসী প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা।

(৩) সারা বিশ্বে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামিটে আলোচনা হয়েছে এবং এর জন্য বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট অফিস সমূহকে সক্ষম করা তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সামিটে।

(৪) যে সকল দেশে বড় বাংলাদেশ কমিউনিটি রয়েছে অর্থাৎ যেসব দেশে বাংলাদেশীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, তাদের জন্য সেবামূলক কার্যক্রম বাড়াতে এই সকল দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন বা কনস্যুলেট অফিস কর্তৃক একটি ‘এক্সক্লুসিভ ডায়াসপোরা সার্ভিস’ চালু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে সামিটে।

(৫) সামিটে এইমর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটি যারা রেমিটেন্স পাঠিয়ে মাতৃভূমির অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে, তাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে ‘নিরাপদ বন্ড’ সহ বিনিয়োগ সুবিধা বাড়াবার উদ্যোগ নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আহরণ আরো নিশ্চিত হবে।

(৬) ‘গ্রাসরুট লেভেল’ থেকে ‘ডিসিশন মেকিং লেভেল’ অর্থাৎ তৃণমূল থেকে ‍শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বানিজ্য এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশী ডায়াসপোরাকে সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিটে।

(৭) দেশের সামাজিক উন্নয়নমূলক খাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা কমিউনিটি কর্তৃক বিনিয়োগের পথ যাতে প্রশস্ত হয়, এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে সামিট থেকে।

(৮) ডায়াসপোরা কমিউনিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে একটি ‘পরামর্শক বোর্ড’ সরকারীভাবেই গঠন করা যেতে পারে, যারা নিবেদিত হবে ডায়াসপোরা কমিউনিটির কল্যাণে।

(৯) ডায়াসপোরা কমিউনিটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে সামিটে। এক্ষেত্রে ‘কুয়ালালামপুর ডিক্লারেশন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিডিয়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন