বাজারে নতুন সবজি, দাম আকাশছোঁয়া

সময়বাংলা, ডেস্ক: শীত বিদায় নিয়েছে বেশ আগে। তবু বাজারে মিলছে শীতের সবজি। দামও কম। কিন্তু গরমের সবজির বাজার বেশ গরম। গরম কালের সবজি হলো করলা, পটোল, ঢেঁড়স। এর বেশির ভাগের দামই ৬০ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ প্রায় শেষ। নতুন মৌসুমের সবজি এখনো পুরোপুরি বাজারে আসতে শুরু করেনি। ফলে শীতের সবজির দাম সাধ্যর মধ্যে থাকলেও নতুনগুলোর দাম বাড়তি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০, ঢেঁড়স ৬০, পটোল ৫০-৬০, শিম ৩০, টমেটো ২০-৩০, কচুরলতি ৫০-৬০, শসা ৪০, ধুন্দুল ৭০, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা। প্রতি পিস লাউ ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০, চাল কুমড়া ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকায়। বাঁধাকপিও পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকায়।

গত সপ্তাহের মতোই ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শালগম (ওলকপি)। মুলা ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন জানান, মৌসুমের সবজি এখনো পুরোপুরি আসা শুরু করেনি। যেগুলো আসছে তা আগাম চাষ করা সবজি। ফলে দামও একটু বেশি। তবে শীতের সবজির দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। শীতের প্রায় সবজির দাম ৩০ টাকার মধ্যেই আছে।

এ বাজারে আসা বেসরকারি কর্মকর্তা তৌফিক হাসান বলেন, বাজার ব্যবসায়ীদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে দাম কখন বাড়াতে হবে আর কখন কমাতে হবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদেরই কারসাজি। তাই দাম বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অজুহাতও তাদের জানা আছে।

এদিকে নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৩০-৩৫ টাকা। গত সপ্তাহেই দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছিল। এখনো সেই দামেই বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের মতোই ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) দরে বিক্রি হয়েছে। আর সব থেকে ভালো মানের ভারতীয় পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা।

মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদার কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, দেশী নতুন রসুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আমদানি করা বড় রসুন ১২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি আমদানি করা মসুরের ডাল ৮০-৮৫ এবং দেশি মসুরের ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মুগডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১১০ টাকা, সয়াবিন তেলের লিটার ১০০ থেকে ১০৮ টাকা এবং চিনির কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, গত বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের চালের দাম। বছর জুড়ে এর মধ্যেই ওঠানামা করেছে। তবে রমজান মাসে চালের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা ৪৩-৪৪ টাকা, পায়জাম ৪৫, বিআর ২৮ কেজি প্রতি ৪৮-৫০ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৬৫-৭৮ টাকা এবং পোলাওর চাল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

এ ছাড়া মাছ ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব জাতের মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বড় আকারের প্রতি কেজি রুই মাছ ২৩০-২৮০, কাতল ২৫০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০-১৫০, সিলভারকার্প ১৫০, তেলাপিয়া ১৮০, দেশি জাতের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা দরে। আর গরুর মাংস ৪৬০-৫০০ টাকা, খাসি ৭০০-৭৫০, ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৪০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন