বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে

>mirja-fakhrulসময় বাংলা, ঢাকা:  বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
সোমবার বেলা ১১ টায় দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
 
তিনি বলেন,কাউন্সিলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে রাজনীতির ইতিবাচক সূচনা হয়েছে।তার বক্তব্যে একদিকে দিক নির্দেশনা অন্য দিকে রাষ্ট্রের যে সমস্ত বিষয়ে সংস্কার জরুরী তা তুলে ধরা হয়েছে।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিলের মাধ্রমে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।ফলে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে নিবেদন করার শপথ নিয়েছেন।
 
কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পূর্ণ করতে পেরেছি।আর নেতাকর্মীদের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে।
 
সংবাদ সম্মেলনের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের কর্মঅধিবেশনে যে সকল বিষয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনী হয় তা তুলে ধরেন।
 
তিনি বলেন,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়াতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধনীর আরও বেশ কিছু প্রস্তাব অনুমোদন করেন কাউন্সিলররা।
 
এর মধ্যে আছে- ভাইস চেয়ারম্যান পদ ১৭টি থেকে ৩৫টিতে উন্নীতকরণ, বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তার অধীনে দুটি করে সহ-সম্পাদক পদ এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠন।
 
উপ-কমিটিগুলো হচ্ছে, অর্থ ও পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, শিল্প ও বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, নারী ও শিশু উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, এনার্জি ও খনিজ সম্পদ, মানবাধিকার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণ, সুশাসন ও জনপ্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি ও এথনিক মাইনোরিটি।
 
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাতটি সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক তিন জনের স্থলে চারজন সহ-সম্পাদক এবং প্রশিক্ষণ, পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক দুটি করে সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
 
এছাড়া অর্থনীতি, জলবায়ু, প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা, বন ও পরিবেশ, স্বনির্ভর, তাঁতি বিষয়ক, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, শিল্প ও বাণিজ্য, মানবাধিকার, উপজাতি বিষয়ক একটি করে সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক একটি সম্পাদকীয় ও একটি সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
 
গঠনতন্ত্র সংশোধনীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কর্তব্য ধারায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তার সমুদয় দায়িত্ব পালনের বিধান সংযোগ করা হয়েছে।
 
এছাড়া গঠনতন্ত্রে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের অধীনে দলের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দলের সামগ্রিক সামর্থ্য বাড়ানোর একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দলের প্রচার কাজ জোরদার ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য একটি মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
দলের চেয়ারপারসন স্বয়ং অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কার্য্ক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।
 
গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের ১৫ সদস্য রাখার বিধান তুলে বলা হয়েছে, তারা পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর হবে।
 
গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চাঁদার সংখ্যা বৃদ্ধি ও নিয়মিত আদায় না করলে সদস্যপদ বাতিলের বিধান সংযোগ করা হয়েছে।
 
‘এক ব্যক্তির এক পদ’ এর ধারা সম্বলিত বিধানের কারণে স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। একইভাবে যারা জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন তারা অন্যকোনো পদে থাকতে পারবেন না।
 
দলের ঘোষণাপত্রে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির প্রতিষ্ঠার তারিখ সংযোগ করা হবে। একইসঙ্গে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি সংযুক্ত করা হবে।
 
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম, আব্দুল লতিফ জনিিআসাদুল করিম শাহীন,শামীমুর রহমান শামীম। 
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন