বিএনপি এবং জিয়া পরিবারকে নিয়ে পত্রিকার গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান সাদীর

সময় বাংলা, যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে কিছু মিডিয়া। যাদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির বিষ ছড়িয়ে তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম হতে দূরে রাখা।  এদের একটি অনলাইন পত্রিকা শীর্ষখবর ডটকম বিএনপিকে নিয়ে মিথ্য ও ভুয়া রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী।

সাদী জানান, “খালেদা জিয়ার সাজা হলে হাল ধরবেন বিএনপির ৫ নেতা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে লন্ডন ভিত্তিক প্রকাশিত বাংলা নিউজ পোর্টাল শীর্ষখবর.কম। যা শতভাগ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত। মূলত শেখ হাসিনার চক্রান্তে ‘খালেদা জিয়া জেলে গেলে’ কী হবে না হবে এরূপ মিথ্যা সংবাদ মাঠে প্রচার করে বিএনপি দখল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের ‘জেলে’ যাওয়া নিয়ে হাতে বানানো এক বিশাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গুটিকতক পত্রিকা। এই রকম বিষয় আন্দাজ করে বিএনপিও নাকি বিকল্প নেতৃত্ব গঠন করতে ব্যস্ত। পাঁচ জনের নামও এসেছে মিডিয়ায়। কিন্তু কথা হলো, এদের হাতে নেতৃত্ব দিলে কী ঘটতে পারে, সেটা কি বেগম খালেদা জিয়া জানেন না? সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলেন দলের ২য় প্রধান – তিনি কোথায় যাবেন তখন? নাকি দলের ভিতর থেকেই আগরম বাগরমের চেষ্টা চলছে? এরা কি জিয়া পরিবারের হাত থেকে বিএনপিকে হাইজ্যাক করে আওয়ামী লীগের বহুদিনের আকাংখা পূরণে ব্যস্ত রয়েছে?

দলের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, “এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ, এ নিয়ে বিএনপিতে কোন মিটিং বা আলোচনা হয়নি। ৫ জন নিয়ে কোন সুপারিশও হয়নি বা হওয়ার সুযোগও নেই। এসকল ভুয়া সংবাদ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

জাহিদ এফ সরদার সাদী আরো জানান,  বিএনপি ও জিয়া পরিবারের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর মিথ্যা সংবাদটি বাজারে আসে লন্ডনভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল শীর্ষ খবরের মাধ্যমে।  কিন্তু কী তাদের উদ্দেশ্য? কারা চালায় এ পত্রিকাটি? অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা শীর্ষ নিউজ সরকারি আগ্রাসনে বন্ধ হয়ে গেলে শীর্ষ নিউজের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কাছাকাছি নামের আর একটি আউটলেট প্রতিষ্ঠা করা যা থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিএনপি নেতাকর্মীদের সহজে বিশ্বাস করানো যাবে। উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ ছড়িয়ে বিএনপিতে ভাঙন সৃষ্টি করাও সহজসহবে।

তিনি সকল মিডিয়াকে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করার অনুরুধ জানান।

শীর্ষখবর.কমে প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তার অবর্তমানে পাঁচ নেতাকে দায়িত্ব দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এবং দলীয় থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিতরা গত কয়েকদিন ধারাবাহিক বৈঠক করে নামগুলো চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে। যাদের নাম সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের সবাইকে আপদকালীন কমিটিতে রাখা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবেন বেগম জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন তার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও থিংকট্যাংকে তার অবর্তমানে কারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন তাদের তালিকা দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন বৈঠক করে ৫ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

যাদের নাম সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম কৌশলগত কারণে রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের ‘রোষানলে’ থাকা ফখরুল বিভিন্ন মামলায় জামিনে আছেন। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে কোনো মামলার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হতে পারে। যেহেতু তিনি দলের মহাসচিব, তিনি গ্রেপ্তার হলে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হতে পারে; সে জন্য তার নাম না রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন বুদ্ধিজীবীরা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন