বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিথ্যা নিলাম ঠেকাতে তৃণমূল নেতারাই যথেষ্ট: সাদী

সময় বাংলা, যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় যদি নিলামে  উঠেই, এ জন্য তৃনমূল নেতারাই যথেষ্ট। আর এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে যে সংবাদটি এসেছে তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘যদি’ নিলামেই উঠে, তবে দলের শুভাকাঙ্ক্ষী দু’একজন ডোনারই কি যথেষ্ট ন​য় এই টাকা পরিশোধ করতে? এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে দলের মুখপাত্র ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বার্তার জন্য। কিন্তু তিনি এখনও নিরব, আর তার নিরবতা রহস্যজনক।

তিনি বলেন, চৌধুরী তানভির আহমেদ সিদ্দিকী একসময় বিএনপি নেতা ছিলেন, পরে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের দায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ভদ্রলোক নিজেকে জমিদার বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এখন জানা যাচ্ছে, এই জমিদার ভদ্রলোক ৩৭ বছর আগে দলের ট্রেজারার থাকা অবস্থায় নিজের বাড়ির দলিল মর্টগেজ রেখে ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে প্রভাব এবং কৌশল খাটিয়ে ব্যাংক থেকে নিজের বাড়ির দলিল উঠিয়ে ইকুইটেবল মর্টগেজ হিসেবে বিএনপির নয়াপল্টন অফিসের মূল দলিল বন্ধক রাখেন।

৩৫ লাখ টাকা এখন সুদে আসলে সাড়ে তের কোটি টাকায় পৌঁছেছে। টাকা পরিশোধ না করলে বিএনপির নয়াপল্টন অফিস নিলামে উঠবে।

তিনি আরো বলেন, বুঝলাম তানভির সিদ্দিকী বিএনপি অফিস বিল্ডিংয়ের দলিল জমা রেখে লোন নিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিএনপিতো ক্ষমতায় ছিল ২/৩ দফা। এ সময়কালে যে সব আইনমন্ত্রীরা ছিল, এটর্নী জেনারেলরা ছিল তারা কী করছিল? এরা কি জানতো না এই মামলার কথা। আসলে বিএনপি কার্যালয় নিলামে উঠেনি। এটি আসলে একটি গুজব, এই সংবাদের কোন সত্যতা নেই। যে মামলার খবর পত্রিকায় এসেছে সে মামলাটি ২০ বছরের পুরোনো। দু’বার হাইকোর্টে স্টে হয়েছে। সে মামলার আসামী তানভীর এখনও জীবিত অবস্হায় আছেন। বিএনপি অফিসের কোন দলিলও ব্যাংকের কাছে নেই। ব্যাংক তার লোনের টাকা ফেরত পাবার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরুর করার কথা ভাবছে মাত্র।

এরকম মিথ্যা গুজবে কেউকে কান না দেবার অনুরুধ জানিয়ে জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেন,।এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। তাই কোর্টের সিদ্ধান্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করুন।

কালেরকন্ঠ সূত্রে জানা যায়, খেলাপি ঋণের দায়ে নিলামে উঠতে চলেছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ঢাকার অর্থ ঋণ আদালত নিলামের উদ্যোগ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এ সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহীতা দুইবার উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। সর্বশেষ স্থগিতাদেশ কিছুদিনের মধ্যে উঠে যাবে। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিএনপি কার্যালয় নিলামে তুলে তাদের পাওনা আদায় করবে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দলের স্থায়ী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর প্রতারণার খেসারত গুনতে হচ্ছে তাঁদের। তিনি নিজের বাড়ির দলিলপত্র ব্যাংকে বন্ধক রেখে ১৯৮০ সালের দিকে আরেকজনের সঙ্গে যৌথভাবে এসওডি ঋণ নিয়ে সেটি আর পরিশোধ করেননি। পরে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তিনি ব্যাংক থেকে গুলশানের বাড়ি ও কালিয়াকৈরের নিজ সম্পত্তির দলিলপত্র বের করে এনে বিএনপি কার্যালয়ের দলিল ইকুইটেবল মর্টগেজ হিসেবে জমা দেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাড়িসহ বিএনপি অফিস নিলামে তুলে অর্থ আদায়ের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে, যা বর্তমানে রায়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন