বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকারে ফখরুল: নির্বাচন থেকে খালেদাকে দূরে রাখতেই এ রায়

সময়বাংলা, ঢাকা: বিবিসি বাংলায় দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার আইনজীবি ও বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সায়েম।

মাসুদ হাসান খানকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা আইনগত এবং রাজনৈতিক উভয়ভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। এ মামলাটির উদ্দেশ্যই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করা, তার রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা করা এবং নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখা।

তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে এবং সবচেয়ে দু:খজনক ব্যাপার হলো সরকার আদালতের ঘাড়ে ভরকরে এ কাজটা করেছে।”

“আমরা বরাবরই বলে আসছি যে এটা একটা মিথ্যা মামলা। ভুয়া-জাল একটি নথিকে ভিত্তি করে এটা করা হয়েছিল। এই ট্রাস্টের সংগে খালেদা জিয়ার কোন সম্পর্কই নেই, তিনি এই ট্রাস্টের কেউ নন, তার কোন স্বাক্ষরও কোথাও নেই।”

তিনি বলেন, আমরা আইনগত ভাবে কাজ করবো, পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও আমরা এটাকে মোকাবিলা করবো।

মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণ এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কখনোই এটা কখনোই মেনে নেয় নি, মেনে নেবে না।

মি. আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য। এটা আর কিছুই নয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচন এবং তাদের একদলীয় শাসনের কারণে’ বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হলেও তার নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবেই থাকবেন – তাই বিএনপির দলীয় নেতৃত্বের কাঠামোর ওপর কি এর কোন প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে?

এ প্রশ্নের জবাবে মি. আলমগীর বলেন, কোন প্রভাব পড়বে না। দল বেগম খালেদা জিয়াকে দলের অবিসংবাদিত নেতা মনে করে। তার কিছুদিনের কারাবরণ কোন সমস্যা তৈরি করবে না, এর আগে ১/১১র সময়ও করে নি, ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি বলেন – “তারা বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করাবার জন্য তারা কাজ করছে। শুধু বিএনপি নয় – কোন রাজনৈতিক দলকেই তারা ‘ডেমোক্রেটিক স্পেস’ দিচ্ছে না। এটা গণতন্ত্রের জন্য একটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ব্যারিস্টার খোকন রায়ের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ। মিথ্যা, জাল-জালিয়াতপূর্ণ ডকুমেন্টের মাধ্যমে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

অপরদিকে ব্যারিস্টার সায়েম দৃঢ়তার সাথে বলেন, “তারেক রহমান যথাসময়েই দেশে ফিরে যাবেন এবং তিনিই হবেন বাংলাদেশে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক।” নেতৃবৃন্দ আইনি ও রাজনৈতিক উভয় প্রক্রিয়াতেই উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলা করবেন বলে জানান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন