বৃষ্টিতে প্লাবিত রাজবাড়ী পৌরসভার কিছু এলাকা

টানা বৃষ্টিতে রাজবাড়ী পৌরসভার কয়েকটি এলাকা প্লাবিত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেসির ভাগ ওয়ার্ডে নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা তাই বৃষ্টি হলেই হাটু পানি হয়ে যায় বেশির ভাগ ওয়ার্ডে। এলাকার বিভিন্ন শাখা খালগুলোতে পলিথিন, আবর্জনা, জমার পাশাপশি ব্যক্তি দখলে পরিণত হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে হয়ে যায় নৌকা নিয়ে চলাচল করার মত অবস্থা।

অন্যদিকে ৫নং ওয়ার্ডের সুজনপাড়া সজ্জনকান্দা গ্রামগুলোর পানি নিষ্কাশণের স্থানগুলোর কালবাট আটকে দিয়ে পুকুরে মৎস্য চাষ করায় এ সকল গ্রামের মানুষ পানিবন্ধী হয়ে রয়েছে।  টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া এলাকায় পানি নিষ্কাশণের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা ৩০০ বিঘা ফসলি জমিগুলোতে পানি জমে বর্ষা মৌসুমে ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে যাওয়া সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে কৃষকরা। পিয়ন পাড়া, ব্যাংক পাড়া, সুজন পাড়া, পর্বপাড়া, সজ্জনকান্দা, বিনোদপুর, শ্রীপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর খাল-বিলে এবং সড়কগুলো পানি জমে থাকায় জনভোগান্তির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংঙ্কা বিরাজ করছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে কর্মস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া দিনমুজুর পরিবারগুলো। কর্মস্থলে পৌঁছালেও কর্মহীন থাকতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারছেনা সঠিক সময়ে। তাছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে হাট-বাজার গুলোতে আসতে পারছে না ক্রেতা-বিক্রেতারা।

বিরামহীন বর্ষায় আকাশ বন্যা হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দীতে জনজীবন বিপন্ন ও অর্থনীতির বিপর্যয় বিরাজ করছে। বিরামহীন বর্ষা অবশেষে বন্যার রূপ নিয়েছে। যান চলাচল, কর্মচাঞ্চল্য সব এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। কোন কোন এলাকায় পানি নিষ্কাশণ ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। রান্না ঘরের চুলায় পানি উঠে রান্নাবান্নায় ব্যাঘাত ঘটছে। গরীব-অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

তবে গত কয়েকদিনে সুর্যের আলো এক বারের জন্যেও উঁকি মারেনি। অঝোর ধারায় বর্ষাই কেবল তার আগমন এবং অবস্থান জানান দিয়ে গেছে। জনদূর্ভোগ, জনদূর্যোগ বৈরী আবহাওয়া এবং অতি বৃষ্টি একাকার হয়ে ভিন্ন প্রকৃতির অসহায় এক জীবন যাত্রার প্রতিকৃতি জনমানুষের সঙ্গী হয়।

বৃষ্টিতে কৃষির বিপর্যয়ের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, লাগাতার বৃষ্টিতে কৃষির ক্ষয়-ক্ষতির নির্দিষ্ট কোন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টির ক্ষয়-ক্ষতিতে কৃষকরা সরকারি সহায়তার সুযোগ নেই কেননা এটি প্রকৃতির সৃষ্টি। তবে দুর্যোগে যাতে কৃষক ক্ষতির সম্মুখিন না হয় সে ব্যপারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এক কথায় আকাশ বন্যার প্রভাবে জেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দীর পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি। অবিলম্বে পানি নিষ্কাশণ না হলে প্লাবিত হয়ে জনভোগান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন