ভারতে ১০ বছর কারাভোগের পর ফিরলেন বাদল ফরাজী

সময়বাংলা: এক দশক আগে ভারতে গিয়ে ‘তার আগে সংঘটিত’ একটি হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১০ বছর কারাবাসের পর দেশে ফিরলেন বাগেরহাটের বাদল ফরাজী।
বন্দি প্রত্যার্পন চুক্তির আওতায় শুক্রবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন।
জেট এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করেন বাদল (২৮)।বিমানবন্দর থেকে তাকে নেওয়া হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিল্লির তিহার জেল থেকে বাদল ফরাজীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
২০০৮ সালে ৬ মে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় বাদলের। তবে বাদল তার দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৩ জুলাই ভারতে ঢুকেছিলেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল পুলিশ। তাকে ধরতে সীমান্তেও সতর্ক করা হয়েছিল। এরমধ্যে বেনাপোল চেকপোস্ট হয়ে ভারতে ঢুকেই গ্রেপ্তার হন বাদল। সে সময় ১৮ বছরের এই যুবক ইংরেজি ও হিন্দি জানতেন না।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাদল ভারতেই যাননি জানিয়ে তার মুক্তি এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ২০১২ সালে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন।
এরপরেও ২০১৫ সালের বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির সাকেট আদালত। তাকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।পরবর্তীতে দিল্লি হাই কোর্টও নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রাখে।
পরে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সহায়তায় বাদল রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেও বিফল হন।
এদিকে কারাগারেই লেখাপড়া চালিয়ে যান বাদল ফরাজী।আটটি ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করেন তিনি।
এরমধ্যে কারাবন্দিদের পুনর্বাসন ও তাদের কাউন্সেলিং করতে যাওয়া ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবী রাহুল কাপুরের সঙ্গে পরিচয় হয় বাদলের। তার কাহিনী শুনে এই বাংলাদেশির মুক্তির জন্য সোচ্চার হন রাহুল।
বিকালে বাদল ফরাজীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে তারা কেউ বাদলের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরের দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বাদলের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায়। তার বাবার নাম খালেক ফরাজী ও মায়ের নাম সারাফালি বেগম।
সময়বাংলা/শাই

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর