ভিসির চেয়ারে ছাত্রলীগ সভাপতি! ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের চেয়ারে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ! তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নয়, তাকে ওই চেয়ারে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বসিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আশরাফ নিজেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা ধরনের কথা চলতে থাকে।

ফেসবুকে পোষ্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, গত ১৩ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে উপাচার্যের চেয়ারে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে বসিয়ে তার পাশে অপর একটি চেয়ারে উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আশরাফ বসে আছেন। সেসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী এসে ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। চলতে থাকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান সোহাগ যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন সেটিতে একটি তোয়ালে দেয়া ছিল এবং তার পেছনেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও শোভা পাচ্ছে। উপাচার্যের চেয়ারে বসে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলছেন, আর উপাচার্য সোহাগের পাশে অন্য আর একটি চেয়ারে বসে আছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ ঝরছে কুবির শিক্ষক-কর্মকর্তা-ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও। তাঁরা বলছেন, ড. আলী আশরাফ যে কাজটি করেছেন সেদিন তা অত্যন্ত লজ্জাস্কর ও শিক্ষকদের মান-মর্যাদাকে খাটো করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আশরাফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উনার চেয়ারে ছাত্রলীগের সভাপতিকে বসতে দেয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে ছাত্রলীগ সভাপতির পাশাপাশি বসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার চেয়ারে অন্য কেউ বসেনি। কনফারেন্স রুমের ওই চেয়ারটিতো উপাচার্যের জন্য সংরক্ষিত এবং উপাচার্যের পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক পদ। এ চেয়ারে তো অন্য শিক্ষররাও বসে না। আর ছাত্রলীগের ছেলেরা অন্য কোন শিক্ষকের চেয়ারেওতো বসে না। তাহলে আমার চেয়ারে বসবে কেন। আমার চেয়ারেতো একজন শিক্ষার্থীকে বসানোর যুক্তিকতা নেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, যদি কখনো কনফারেন্স রুমে মিটিং হয় এবং উপাচার্য মহোদয় না থাকেন তারপরওতো ওই চেয়ারে কেউ বসেন না। চেয়ারটিকে পাশে রেখেই আমরা আমাদের মিটিং শেষ করি, কারণ চেয়ারটি একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত ব্যাক্তির জন্য নির্ধারিত। সেখানে অন্য কেউতো বসতে পারেন না বা বসানো উচিত নয়। এটি শুধু উপাচার্য নয় শিক্ষকদেরও মান মর্যাদা জড়িত। শিক্ষার্থী বা তাদের নেতারা যেটুকু আদর-সম্মান পাওয়ার কথা তাতো পাচ্ছেনই, কিন্তু তাই বলে উপাচার্য মহোদয় তার চেয়ারে অন্য কাউকে বসাতে পারেন না, এটি সত্যিই শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাস্করও ও অসম্মানের বিষয়।

এ ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, ‘কোন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি মহোদয় তার অফিস কক্ষে নিজ চেয়ারে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সভাপতিকে বসিয়ে পাশে নিজে অন্য চেয়ারে বসে মিটিং করেছেন। কারণ সরকার যেন আগামী টার্ম তাকে নিযুক্তি দেয়।’ পাশাপাশি তিনি এ-ও লিখেছেন, ‘ঘটনাটি সত্য কিনা জানি না, যদি সত্য হয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। আমি মাননীয় মন্ত্রীকে দায়ী করছি না, করুণা করছি। কারণ, ভিসি নিয়োগে সকল প্রক্রিয়া করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে, তাই ভালো নিয়োগ খারাপ নিয়োগ তার ওপরই বর্তাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে বিষয়ে দেখবেন- যিনি ভিসি হবেন তার প্রশাসক হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা, তিনি ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন কিনা, রাজনৈতিক ভাবনা কি, একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্টীয় প্রশাসন একই কাঠামো।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন