ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে: ত্রাণ মন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম মনির, সময় বাংলা, চাঁদপুর: প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে কেউ অসত্য তথ্য দিলে কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি । তিনি বলেছেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য যারা মিথ্যা সাক্ষী দেবেন ওই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা এক থেকে তিন বছর বন্ধ থাকবে। আইন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা পাওয়ার পর আইনানুগভাবে তাদের সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তিকরণ, তালিকাভূক্ত দাবীদার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইকরণ এবং তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিষ্পত্তি কার্যক্রম শনিবার উপজেলা পরিষদ মায়া বীর বিক্রম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপির সভাপতিত্বে লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকাভূক্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিত থেকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ না করার বিষয়ে আদালতে রিট হলে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ঝুলে যায়। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ওই রিট নিষ্পত্তি হওয়ার পর মন্ত্রণালয় আর অপেক্ষা না করে দ্রুত গেজেটভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে। আদালত বিষয়টির সুরাহা করায় দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে কোনো পেপারস লাগবে না। পেপারস ম্যান্ডেটরি নয়। যদি সহযোদ্ধারা সাক্ষী দেন এবং বলেন তিনি ট্রেনিং নিয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন তাহলে এটাই যথেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কেউ একা একা যুদ্ধ করেননি।
মন্ত্রী বলেন, যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে তা অনুসরণ করে যাচাই বাছাই হলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আসার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি কোথাও বরখেলাপ হয় তাহলে সেটা বাতিল করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী মায়া চৌধুরী বলেন, যেসব আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে এখন অভিযোগ উঠে, তারা হাল আমলের নেতা। বঙ্গবন্ধুর আমলের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ শুনিনি। হাল আমলে ভালোর মধ্যে মন্দ লোক ঢুকে গেছে। মন্দরা ধিকৃত হবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের পরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটোয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম জর্জ, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রব, বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, রিয়াজ উদ্দিন মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, যাচাই-বাচাই কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আবদুল লতিফ বাগ, শিল্প ব্যাংকের সাবে জিএম ওয়ায়েদুর রহমান, সহ আরো অনেকে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন