মতলব উত্তরে রমজানে স্কুলে কোচিং বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য। অবশ্য বিদ্যালয় প্রধানরা দাবি করেন, রমজানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। যদিও স্কুলগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অতিরিক্ত ক্লাসের নামে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোচিংয়ের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত।

মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদেরকে ম্যানেজ করে বিদ্যালয়ের কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোচিং বাণিজ্য চললেও দেখার কেউ নেই। অবৈধ এ কোচিং বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ে অসহায় দরিদ্র অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কোচিং চলছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের চার-পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে দেদারছে চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য।

অভিভাবকরা জানান, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক একটি শ্রেণি ভেদে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা। এতে দরিদ্র অভিভাবকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহমেদ আল কামাল বলেন, রমজানে স্কুল বন্ধ থাকায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোচিং করানোর মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে তা বাধ্যতামূলক করে অর্থ নেয়ার বিষয়টি অনৈতিক।

তবে সরেজমিন গিয়ে দেয়া যায়, তাঁর কর্মস্থল ৬৬নং পাঁচানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চলছে প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২শ’ টাকা হারে নিয়ে কোচিং করানো হচ্ছে।

সরেজমিনে কয়েকটি স্কুল ঘুরে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ক্লাস শুরু হয়ে চলে ১২ থেকে ১টা পর্যন্ত।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমি আক্তার, নাজমুল, ও মীম আক্তারসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে। অবশ্য কোচিং করে শিক্ষার্থীরা লাভবান হচ্ছে এমনটাই দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষকরা বলে দিয়েছেন কোচিং করুক বা না করুক টাকা দিতে হবেই। তারা আপত্তি করলে ছেলেমেয়েদের সাময়িাক ও বার্ষিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই কোচিং করাচ্ছেন অভিভাবকরা।

সাদুল্লাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছি। আগামী ১০ জুন স্কুল খোলার পর দিনই অর্ধবার্ষিকী ও মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা যতœ নেওয়া হচ্ছে। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদেরকে মাসোহারা দেয়ার বিষয়টি কোচিং পরিচালনাকারী একাধিক শিক্ষক স্বীকার করলেও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা মাসোয়ারা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সংবাদকর্মীরা স্কুলে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে কোচিং করার বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেন ও মোজাম্মেল হককে অবগত করা হলেও অদৃশ্য কোন কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলার ১৮০টি বিদ্যালয়ের তদারকি করছি ৩জন অফিসার। দুর্বল শিক্ষার্থীদের রমজানে ক্লাশ নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলা হলেও কিছু বিদ্যালয়ের ক্লাশ নেয়া হয়না। কিছু স্কুলে ক্লাশ নেয়ার জন্য অর্থ নেয়ার অভিযোগ পেলে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিনা পয়সায় পড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে পড়ানোর বিনিময়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন