মতলব উত্তরে ১০ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে মকবুল হোসেন খান গ্রন্থালয়

মনিরুল ইসলাম মনির, চাঁদপুর: গ্রন্থের আলোয় উদ্ভাসিত মকবুল হোসেন খান গ্রন্থালয়। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে আলো ছড়ানোই এর মূল লক্ষ্য। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে অবস্থিত গ্রন্থাগারটি। এলাকার শিক্ষিত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এ গ্রন্থাগারে এসে বই পড়েন।

এ বিষয়ে কথা হয় গ্রন্থালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মো. আলাউদ্দিন খানের সাথে। তিনি বলেন, সমাজ, দেশ ও জাতির কথা চিন্তা করে এ গ্রন্থালয় স্থাপন করেছি। মানুষের অন্ধকার থেকে আলোয় আসার পথ হলো জ্ঞান। এ জ্ঞানার্জনের পথ বইপড়া। যারা বইপ্রেমী ও বই পড়েন, তাদের মনুষত্ববোধ উন্নত। তারা মাথ উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালে আমার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির কাজ করতে গিয়ে বইপড়ার শখ জন্ম নেয়। সেই থেকেই আমি বইপাগল ও জ্ঞানপিপাসু। এখন আমার বয়স প্রায় ৭৯ বছর। এখনো আমি বই ছাড়া এক মুহূর্ত্ব থাকতে পারি না।

তার ভাষ্য, একজন ব্যক্তিও যদি এখান থেকে কিছু শিখে তা হলেই আমার এ পরিশ্রম সার্থক।
২০০৭ সালের প্রথম দিকে আলাউদ্দিন খানের চিন্তায় জন্ম নেয় মকবুল হোসেন খান গ্রন্থালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। করেও ফেলেন তিনি। এর পর থেকেই এলাকায় এটি জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। ২০১৩ সালে সরকারি রেজিস্ট্রেশন লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। যার রেজিং নং-চট্ট/চাঁদ/০০৭/২০১৩ইং। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ। বর্তমানে দুই শতাধিক সদস্য রয়েছেন। সদস্যরা একটি বই বাড়ি নিয়ে এক সপ্তাহ রাখতে পারবেন। পুরনো বইটি জমা দিয়ে আবার নতুন করে বই নিতে পারবেন। এ ছাড়া অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক সদস্য সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মতামত দিতে পারবেন গ্রন্থালয়ের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক অবকাঠামো এবং সম্ভাবনার কাজে।

সরেজমিন মকবুল হোসেন খান গ্রন্থালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, জাহানারা ইমাম, সৈয়দ বোরহান কবীর, ড. আব্দুল ওয়াহাব এবং শেক্সপিয়র, গেটে, দান্তে, জন মিল্টনসহ দেশি ও বিদেশি লেখকের প্রায় দুই হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, একুশের সংগ্রাম ও বাঙালির সত্ত্বা, গণপরিষদ ও সংসদে বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, একাত্তর আমার অহঙ্কার, আমাদের ভাষা আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের কথা, সংবাদপত্রে একাত্তরের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ ফিরে দেখা, মুক্তিযুদ্ধ ও নারী, বাঙালির ইতিহাস, দিনবদলের নেত্রী শেখ হাসিনা, আমি বিজয় দেখেছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, হৃদয়ে বাংলাদেশ।

উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, আমি কয়েকবার গ্রন্থালয়টিতে গিয়েছিলাম। অনেক ভালো ভালো বই আছে সেখানে।

লুধুয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রন্থালয়টি আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। আমি সময় পেলেই গিয়ে বই পড়ি। আমার শিক্ষক ও সব ছাত্রছাত্রীকে সব সময়ই আমি উৎসাহ দিই মকবুল হোসেন খান গ্রন্থালয়ে গিয়ে বই পড়তে।

পাঠক শাহ মো. জহির বলেন, আমি এ গ্রন্থালয়ের একজন সদস্য। সব সময় এসে বই পড়ি। খুব ভালো লাগে। এলাকার মানুষ বিনামূল্যে এ গ্রন্থালয়ে এসে বই পড়তে পারে। এখানে অনেক দুর্লভ বই রয়েছে।
ধর্ম-বর্ণ, সমাজ-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের আরও অনেক বইয়ের সমাহার ওই গ্রন্থাগারে। যার থেকে পাঠক খুব সহজেই জ্ঞানের ক্ষুধা মেটাতে পারেন। এলাকায় ‘বাতিঘর’ হিসেবে গ্রন্থালয়টি কাজ করছে বলে অনেকের ধারণা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন