মদ খেয়ে মাতলামি করার অভিযোগে সিঙ্গাইর যুবলীগ সভাপতির ভাই আটক

সময় বাংলা ডেস্ক: মদ খেয়ে মাতলামি করার অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাদকাসক্তকে আটক করেছে থানা পুলিশ। গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে পৌরসভার গার্লস স্কুল সড়কের আড্ডা ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রিয়াজুল ইসলাম সিঙ্গাইর উপজেলা যুবলীগ সভাপতির তমিজ উদ্দিনের ছোট ভাই। তাঁর বাড়ি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে। এঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিয়াজুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যেক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে সিঙ্গাইর পৌরসভার গার্লস স্কুল সড়কের আড্ডা ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে রিয়াজুল ইসলাম মদ খেয়ে মাতালামি করছিল। এ সময় তিনি পথচারীদের গালিগালাজ ও তাঁদের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। খবর পেয়ে সিঙ্গাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা ও এসআই জাকারিয়া সেখানে হাজির হয়ে রিয়াজুল ইসলামকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় রিয়াজুল তাঁদের সাথে ধস্তাধস্তি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এসআই সোহেল রানা ও জাকারিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারতে উদ্যত হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তাঁরা বিষয়টি থানায় জানান। পরে থানা থেকে এসআই আব্দুল মান্নান’সহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রিয়াজুল ইসলামকে আটক করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতেক্ষদর্শী জানান, মাতলামি করতে বাঁধা দেওয়ায় এসআই সোহেল রানা ও জাকারিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন রিয়াজুল ইসলাম। এসময় তাঁদের চাকুরিচ্যুত করারও হুমকি দেন তিনি। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, রিয়াজূল ইসলাম মদ খেয়ে মাতলামি করছিল। এ সময় তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে সে আমাদের সাথে অসাধাচরন ও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেখানে লাঞ্ছিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি।

সিঙ্গাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, মদ্যপ অবস্থায় রিয়াজুল ইসলামকে আটক করলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে থানায় আনা হয়। সেখানে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় এসআই জাকারিয়া বাদি হয়ে রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সময় বাংলা/এএইচ

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন