কোটি মানুষের দাবী নিয়ে ঠাট্টা করছেন??

সময় বাংলা: নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেণী তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি। দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবী নোয়াখালী বিভাগ গঠন। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের জনগন বিভিন্নভাবে বিভাগ গঠনের দাবী জানিয়ে অাসছে। এই দাবী অাদায়ে তারা শুধু অনলাইনেই পড়ে থাকেনি। ঢাকা,চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালীসহ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজপথেও এই নোয়াখালী বিভাগ গঠনের দাবী ছড়িয়ে গেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর এই প্রাণের দাবী নিয়ে এ দেশেরই কিছু অনলাইন বোদ্ধা অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে, হাসি ও ঠাট্টাতামাসা করছে। কিন্তু নোয়াখালী বিভাগ নিয়ে কেন তাদের এই বিদ্রুপ?

সেসব বিদ্রুপকারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই নোয়াখালী বিভাগের দাবী সরকারের প্রতি অামাদের অাবেগের দাবী নয়, এটা নোয়াখালীর প্রাপ্য অধিকার অাদায়ের দাবী। অাপনারা বলছেন নোয়াখালী কেন বিভাগের দাবী করে? দেশে এত বিভাগের প্রয়োজন কি? তাদের উদ্যেশ্যে বলতে চাই বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই কি ৯টি বিভাগ ছিল? দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এর জন্য ক্রমান্বয়ে নতুন বিভাগের সৃষ্টি হয়। তাই দেশের জনসংখ্যা যখন নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন দেশে নতুন বিভাগ গঠন করা জরুরী। তাই বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার দেশের বর্তমান জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সরকারের সেবার সুষম বন্টণ করতে ও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নতুন অারো কিছু বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যাবস্থার উন্নতির জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। তাই যেখানে সরকার নতুন বিভাগ গঠন করবে বলেছে, সেখানে নতুন বিভাগ করার দরকার কি এ কথা অাপনি বলার কে?

সরকার কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে একটি নতুন বিভাগের কথা বলেছে।
এমতাবস্থায় নোয়াখালীবাসী মনে করেন একটি বিভাগ গঠনের জন্য নোয়াখালীবাসীই সবদিক থেকে এগিয়ে। তাই নোয়াখালীবাসী নিজেদের পাওনা বুঝে ননিতে সরকারের দৃষ্টি অাকর্ষন করছে অান্দোলনের মাধ্যমে। এতে অাপনাদের এত চুলকানি কেন? কেউ কারো পাওনা অাদায় ছাড় দেয়? অাপনারা ট্রলার্সরা নিজেদের পাওনা ছাড় দিবেন? অাপনাদের প্রশ্ন থাকবে কেন নোয়াখালী ই বিভাগের দাবীদার? দেখে নিন তাহলে যুক্তিগুলো :

রাজধানী থেকে দুরুত্বঃ বিভাগ গগঠনের উদ্যেশ্য রাজধানী থথেবে দুরে এলাকার উন্নয়ন ঘটানো। তাই রাজধানী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দুরুত্বের কুমিল্লা বিভাগ হলে কিভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়ন হবে ? বরং বিভাগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অাগের মতই সুবিধাবঞ্চিত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লার চেয়ে তিনগুণ বেশি দুরুত্বের ১৬০ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালীকে বিভাগ গঠন করা হলে উপকুলীয় অবহেলিত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এতে বিভাগ গঠনের উদ্যেশ্যও সফল হবে।

নিয়মিত ভূমিবিস্তৃতিঃ অাপনারা জানেন যে নোয়াখালীর অধীনে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিতই জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ ভুখন্ড বা চর। নিয়মিত জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে যা একসময় বিশাল জনপদে পরিনত হবে এবং যার পরিমান বর্তমান নোয়াখালীর সমান বা বেশী হবে। এ কারনেও কুমিল্লা না হয়ে সেসব চরাঞ্চলের কাছাকাছি নোয়াখালী তে বিভাগ হলে অদুর ভবিষ্যতে সেসব এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

ইতিহাস ও অায়তনঃ ইতিহাস ও অায়তনের দিক থেকেও নোয়াখালীই বিভাগের দাবীদার। ইতিহাস বলে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্টিত হয় ১৮২১ সালে অন্যদিকে কুমিল্লা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। অায়তনের দিক থেকেও কুমিল্লার চেয়ে নোয়াখালীর অায়তন বড়। নোয়াখালীর অায়তন ৪২০২ বর্গকিমি. যা ক্রমাগত বাড়ছে প্রতিনিয়ত অন্যদিকে কুমিল্লার অায়তন ৩০৮৭.৩৩ বর্গকিলোমিটার। শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী বিভাগ হলেও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিভাগে রুপ নিবে।

সমৃদ্ধ সংস্কৃতিঃ সংস্কৃতির কথা বললে নোয়াখালীর ভাষা সংস্কৃতি কুমিল্লার চেয়ে বহুগুনে বিস্তৃত। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মত নোয়াখালীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর এ তিন জেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী চট্টগ্রামের কিছু অংশ, স্বন্দীপ, মনপুরা এবং কুমিল্লারই বেশ কিছু অংশ নোয়াখালীর সংস্কৃতিতে চলে অাসছে হাজার বছর ধরে। তাই বলা চলে বিভাগ হওয়ার যোগ্য দাবীদার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালীই।

ভৌগলিকঃ ভৌগলিক কৌশলগত কারনেও কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে অাপত্তি থাকে, তা হল কুমিল্লা থেকে ৫ কি.মি. পূর্বেই ভারতের সোনামুড়া বাজার। সেক্ষেত্রে নোয়াখালীই সর্বোত্তম।

দেশের প্রতি নোয়াখালীর অবদানঃ বাংলার।সূচনালগ্ন থেকেই এ দেশকে নোয়াখালী দিয়ে গেছে অনেক কীর্তিমমান কিছু সন্তান, যারা বাংলাকে করেছে সমৃদ্ধ। অাজ অাপনার এলাকার বেশিরভাগ মিল-কারখানাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা নোয়াখালীর সন্তানেরাই। তারাই চাঙ্গা করেছে দেশের অর্থনীতি। যে বৈদেশিক রেমিট্যান্স দিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈততিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে সে প্রবাসীদের সিংহভাগই নোয়াখালীর সন্তানেরা। দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি সর্বক্ষেত্রেই রয়েছে নোয়াখালীর সন্তানদের বিস্ময়কর বিচরণ ছিল, অাছে এবং থাকবে। এতকিছুর বিনিময়ে সেই নোয়াখালী দেশের কাছে একটি যৌক্তিক দাবী বিভাগ অাশা করতে পারেনা?

তাই বিগত দিনে বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগগুলো যেভাবে গঠিত হয়েছে সেভাবে বলা যায় নোয়াখালী ই বিভাগের যোগ্য দাবীদার। কুমিল্লা অবকাঠামোগত দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় বিভাগ গঠনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এবং সরকারের উন্নয়নকর্ম দেশের প্রান্তিক ও অবহেলিত অঞ্চলে পৌছে দিতে নোয়াখালীই বিভাগ গঠনের যোগ্য দাবীদার। তাই এতগুলা যৌক্তিক কারন থাকাসত্বেও নোয়াখালীবাসী কেন বিভাগের দাবী তুলবেনা ? একবার ভেবে দেখুন অাপনারা যারা কোটি মানুষের এই ন্যয্য দাবী নিয়ে হাসাহাসি করছেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অাপনার জেলাকে ন্যয্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অাপনি মেনে নিবেন? তখন অাপনার জেলাকে নিয়ে ট্রল করলে অাপনার কাছে কেমন লাগবে? এসব ট্রলের কারনে দেশের অভ্যন্তরীর জেলা বিভেদ দেখা দেয়।

তারপরও অাপনাদের যদি এই দাবী নিয়ে দ্বিমত থাকে তাহলে অাসুন সামনাসামনি অালোচনা করি। কাপুরুষের মত পেছন থেকে মানুষের অাবেগ নিয়ে খেলবেননা। অার অাপনারা ট্রল করলেও নোয়াখালী বিভাগের অান্দোলনে কোন প্রভাব পড়বেনা। নোয়াখালীবাসী বীরের জাতি। নিজেদের ন্যয্য অধিকার অাদায়ে লড়াই করে যাবে।

নিজাম উদ্দিন
সাংবাদিক ও নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন নেতা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন