মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ৫৯ বাংলাদেশীর মানবেতর জীবন

সময় বাংলা ডেস্ক: মালয়েশিয়ার শিপাং কেএলআই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী যাত্রী এক সপ্তাহ ধরে আটক থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, মালিন্দ এয়ারলাইন্স ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যাই বেশি।

আজ শনিবার মালয়েশিয়া থেকে একাধিক যাত্রী নয়া দিগন্তকে টেলিফোনে জানান, মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টে নেমেই বাংলাদেশী যাত্রীরা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের টার্গেটে পড়ছেন। তারা যাকে ইচ্ছে তাকে সন্দেহ করছেন এবং এন্ট্রি সিল না দিয়ে অফিসে ডেকে নিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখছেন। কাউকে আবার বসিয়ে রেখে হয়রানী করছেন। পছন্দ হলে এন্ট্রি সিল দিচ্ছেন নতুবা দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশে আটক করে বিমানবন্দরের ভেতরের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে (হাজত) ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। এই চিত্র নিত্যদিনের বলে ভূক্তভোগীরা জানান।

ওই বিমানবন্দর থেকে জনৈক যাত্রী নাম না প্রকাশ করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনজন যাত্রী, মালিন্দ এয়ারলাইন্স ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের পুরনো ও নতুন মিলিয়ে ৫৯ জন যাত্রী ক্যাম্পে (হাজতে) আটকে আছেন।

তিনি বলেন, আটকদের মধ্যে কেউ কেউ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্দী আছেন। তার ভাষ্য মতে, এর মধ্যে যাদের রিটার্ন টিকেট আছে তাদের ফিরতি ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। অথচ এদের প্রত্যেক যাত্রীই বাংলাদেশে থাকা মালয়েশিয়া হাইকমিশন থেকে ভিসা নিয়েই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছেন। তারপরও ইমিগ্রেশন পুলিশ কেনো, কি কারণে বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের টার্গেট করে হয়রানী করছেন তা তারা বুঝতে পারছেন না বলে তার অভিযোগ।

শুধু যে মালয়েশিয়ার কেএলআইএ-১ বিমানবন্দর টার্মিনালেই বাংলাদেশী যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তা নয়, একই চিত্র কেএলআই-২ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনেও। এখানে হয়রানীর চিত্র আরো বেশি। এই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে সম্প্রতি দুই দিন হাজতবাস খেটে দেশে ফিরতে হয়েছে পুরান ঢাকার এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে।

তিনিও নাম না প্রকাশের শর্তে এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তার কাছে পর্যাপ্ত ডলার থাকার পরও মহিলা ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে এন্ট্রি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন।

ওই ব্যবসায়ী তার দুই দিনের হাজতবাসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, গত মাসের শুরুর দিকে তিনি এয়ার এশিয়ায় চড়ে কেএলআই-২ বিমানবন্দরে নামেন। ইমিগ্রেশনে অল্প বয়সী এক মহিলা তখন দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পাসপোর্ট চেক করেন তিনি। এরপর তার কাছে পর্যাপ্ত ডলার নেই এ অজুহাত দেখিয়ে তাকে আটক করার কথা জানান। এরপর তাকে নেয়া হয় পাশের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে। যেখানে নেই গোসল কিংবা বাথরুম সারার কোনো পর্যাপ্ত সুবিধা। ছোট একটি রুমে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে ৩০০ রিংগিট নিয়ে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ওই ওষুধ ব্যবসায়ীর দাবি, তার কাছে পর্যাপ্ত ডলার থাকার পরও তাকে ফেরত পাঠানো হলো। এটা খুবই অমানবিক।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা। নতুবা মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে নেমে বাংলাদেশী পর্যটকরা আরো বেশি হয়রানীর শিকার হতেই থাকবেন।

এর আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেছিলেন, আমরা প্রতিটি যাত্রীর বৈধ ভিসা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখে বিমানে উঠার জন্য ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছি। এখন ওই দেশ থেকে যদি ফেরত পাঠায় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকে না। কারণ এটা তাদের দেশের আইন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম সম্প্রতি বাংলাদেশী যাত্রী হয়রানী ও আটক হওয়ার অভিযোগ পেয়ে কেএলআই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ক্যাম্প পরিদর্শন করতে যান। তারপরও পরিস্থিতির সামান্যতম উন্নতি হয়নি বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন