“মিথ্যার রূপকার শেখ হাসিনা”: জাহিদ এফ সরদার সাদী

সময় বাংলা: সরকারনিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে আওয়ামী লীগ বেশুমার মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত মিথ্যাচারে পুরো জাতিকে হেয় করে কি পাচ্ছে তারা? কেন এতো মিথ্যাচার করে আওয়ামী লীগ? ক্ষমতায় টিকে থাকতে আর কত মিথ্যাচার সইতে হবে এই জাতিকে? প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মিথ্যা বলা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন, নেতা, কর্মী এমন কোন স্তর নাই যেখানে মিথ্যার চর্চা করেনা দলটি ও এর দোসররা।

দিনের পর দিন হাসিনার অনুসারীরা মিথ্যার ফুলঝুরিতে দেশটিকে নিছক পণ্যে পরিণত করে চলেছে। এসমস্ত মিথ্যা দিয়ে দেশের উন্নতি না হলেও অন্তত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে খুশি করা যায়, তুলে ধরা যায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে স্বকামীশাসিত দেশ হিসেবে। হিটলারীয় প্রোপাগান্ডা আর মিথ্যার এই লাগামহীন প্রতিযোগিতায় ক্রমান্বয়ে আওয়ামী লীগ নামের এই প্রাচীন দলটি জনপ্রিয়তার তলানীতে এসে হাবু ডুবু খাচ্ছে।

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে মিথ্যার উপর যদি কোনো প্রতিযোগিতা হতো, তাহলে প্রথম স্থান অধিকার করতো বাংলাদেশ। সারা বিশ্বের মিথ্যাবাদীদের আইকন হতেন স্বয়ং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার অনুগতরা। এতে কোন সন্দেহ নেই। এই সমস্ত মিথ্যা বচনে সবচাইতে লাভবান হচ্ছে বিএনপি ও তার জোট। সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে যুক্তিতর্ক এড়িয়ে মিথ্যা বলার অপকৌশলে লিপ্ত হচ্ছে।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ‘ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির দিন ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষই মিলনায়তনে তালা মেরে রেখেছিল। পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ।’

মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ছিল। কিন্তু ছাত্রদল কর্মসূচি পালনের জন্য গেলে নেতারা দেখেন যে, মিলনায়তনে তালা মারা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে সাড়া দেশ জুড়ে।

মন্ত্রীসভার বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তালা বন্ধের ঘটনাটি জানার পর আমি আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানাই। কেন তালা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সরকারের সমালোচনা হবে। বিষয়টি তাকে দেখতে বলি। ওবায়দুল কাদের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান, কেন মিলনায়তনের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে, এতে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। এসব বিষয়গুলো ওবায়দুল কাদের তাদের জানায়। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ তখন ওবায়দুল কাদেরকে জানায়, ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেনি বলে দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের তখন তাদের বলেছে ভাড়ার টাকা পরিশোধ হয়েছে কি হয়নি সেটা পরে দেখা যাবে। যেহেতু তাদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেহেতু তাড়াতাড়ি মিলনায়তনের দরজা খুলে দিন। এটা নিয়ে সরকারের সমালোচনা হবে। এরপর মিলনায়তনের দরজা খুলে দেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ।’

সমালোচিততো হবেই যেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর থাকে দেশের কোন অডিটরিয়ামে তালা ঝুলেছে কিন্ত খবর থাকে না সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে পুলিশী হামলার কথা, বিনা কারণে মৎস ভবনের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মী মনে করে ৭১ জন নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকের খবর। তাই দেশের রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায়ের রাঘব বোয়ালদের দেওয়া মিশ্র বক্তব্যগুলো জনমনে ঘৃণার সঞ্চার করেছে।

মন্ত্রীরা যা বলেছেন তা হাসিনার প্রতিনিধি হয়ে বলেছেন, আর হাসিনা যা বলেছেন তাতে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এই বলদ মন্ত্রীদের না জানিয়েই তালা ঝুলানোর সকল কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন আর ধরা খেয়ে তথ্যবাবা জয়ের হিটলারীয় তথ্য সবরারাহ করিয়েছেন অবৈধ বেআক্কেল মন্ত্রীদের দ্বারা। তাই কাজকর্ম ফেলে আকাম নিয়ে ব্যস্ত মন্ত্রীরা মিথ্যার কর্মসূচি পালন করে যাচ্চ্ছে। এই সমস্ত মন্ত্রীদের নামমাত্র মন্ত্রী বানিয়ে হাসিনার মিথ্যা তথ্য সবরারাহ করতে জাতির সামনে তুলে দিচ্ছেন।

বুঝলাম আমাদের ছাত্রদলের কোনো নেতা ছাত্রলীগের নাজমুলের মত ব্যাংকের মালিক না, তাই ভাড়ার টাকা বাকি থাকতে পারে। তবে সেটা পরিশোধ করতে হাসিনার মায়াকান্নাতে যেন আসল নাটকের স্ক্রিপটা জাতির সামনে কাচের আয়নার মত স্বচ্ছ।

এরপর আর কি বলবেন এই অবৈধ আওয়ামী সরকার আর তার অবৈধ প্রধানমন্ত্রী? খালেদা জিয়া নিজেই তালা ঝুলিয়ে ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন যেন শেখ হাসিনা এসে তালা খুলে দিয়ে যান। ফটকে হাসিনার তালার নাটক আজকের না, এই নাটক আগেও দেখেছি যখন বালুর ট্রাক দিয়ে ঘিরে রেখেছিল গণতন্ত্রের মাকে। ছেলে হারানোর বেদনায় এক মা যখন অজ্ঞান অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন অফিসের চেয়ারে, তখনও তিনি ফটকের তালা নিয়ে করেছিলেন রাজনীতি। ধিক্কার জানাই অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যচারকে আর সেই সাথে বলতে হয় আওয়ামী লীগকে পুনর্জন্ম দেওয়া শহীদ জিয়ার দলসহ সমগ্র বাংলাদেশ অবশ্য আগামীতে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে ‘মিথ্যার রূপকার শেখ হাসিনা’।

লেখকঃ জাহিদ এফ সরদার সাদী
বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন