মুসলিম নই, তবু আজান শুনে জাগতে হবে কেন?

এড. সলিমুল্লাহ খান: সুনো নিগাম ভারতের জনপ্রিয় গায়ক, হঠাৎ ইসলাম বিদ্ধেষী টুইট করে মুসলিমদের মনে আঘাত হেনেছেন। তবে আলোচনা করা যেতে পারে উনার ব্যাক্তিগত এই উক্তি কতটুকু যুক্তিযুক্ত কতটুকু যুক্তিহীন।

আমি মনে করি নিজের ক্যারিয়ার ব্যাক্তিত্ব নষ্ট করে এমন কথা ও কাজ থেকে আমাদের প্রত্যেককেই বিরত থাকা উচিত। ভারত বর্তমানে বিজেপি সরকার আসছে তার মানে এইনা তারা মুসলিমদের প্যাকেট করে সাগরে ফেলে দিবে।  ভারতে মুসলিম শাসকদের অধিনে চলেছে প্রায় ৯ শত বছর, তার মানেকি হিন্দুদের পূজা অর্চণা বন্ধ ছিলো। ইসলামের উদার নৈতিক শাসনের কারনেই আজ হিন্দুদের সংখ্যা বেশী মুসলিমদের সংখ্যা কম।

মোগল সম্রাট আকবর তো হিন্দু মুসলিম সকলেকে সমান চোখে দেখতেন, আর সবচাইতে বড় প্রশ্ন ভারতে গনতান্ত্রিক ভাবে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছেন। এখানে আযান বন্ধের ষড়যন্ত্র বাতুলতা। সুনো নিগাম তো অমুসলিম হিসাবে এই দাবী করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম নামধারী যারা এই দাবী করে আসছেন তাদের নির্লজ্জতা দেখলে আরো খারাপ লাগে।

ভারতে ইসলাম এখন সহাবস্থানে আছে পরাজিত হয়ে নয়, তাই এই দাবী রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল। বাংলাদেশের জন্যও আইনতো একই, তাই যারা ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন, সরকারের উচিত তাদেরকে ”ব্লাসফেমি” আইনের আওতায় এনে বিচার করা নয়তো অনাকাংখিত ঘটনার জন্য তাদেরকেই এই দায় বহন করতে হবে।

উচ্চস্বরে আযান শোনাও সোয়াবের কাজ। হিন্দুদের ওলু ধ্বনি, ভজন, সবইতো আমরা মুসলিমরা শুনি কই কখনোতো তাদের কর্মে কোন মুসলিম বাধা দেয়া দূরে থাক এই ধরনের উস্কানীমূলক কথাও কখনো বলতে শুনিনি।

তাই এইসব নাস্তিকদের এ কথা বলারই অধিকার নেই তারা জানেনা। কেননা সরকারের কিছু লোক তাদেরকে ইউজ করে তাই তাদের পক্ষে সাফাই গায়। সত্যিকারের মূল্যবোধ জাগ্রত হলে এসব কথা এই আধুনিক যুগে বেমানান এবং লজ্জার তা তারা বুঝতে না পেরে এই অপমুন্ডুকতাপূর্ণ কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকতো।

অতএব, সরকারের উচিত এই অশুভ শক্তিকে দমন করা, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখা। এদেরকে অনুস্মরণ করাও পাপ, কেননা তারা আসলে কোন ধর্মেরই লোক নন, তারা নাস্তিক এবং ইসলাম বিদ্ধেষী, শয়তানের ফলোয়ার। আল্লাহ পাক সকলকে ধৈর্য্য সহকারে এসমস্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার তৌফিক দান করুন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন