“মৃত্যু নয়, আসুন বাচ্চাটার মুখের হাসি দেখি”: সাংবাদিক সাহেদ আলম

সময়বাংলা, যুক্তরাষ্ট্র: তার বাবা নিষিদ্ধ একটি সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি’ জাকির হোসেন মিলন। এক সপ্তাহ আগে, বাংলার নিষিদ্ধ ঘোষিত আরেকটি ‘বাসপোড়ানো’ দলের নেত্রীর মুক্তির দাবীতে রাস্তায় ছিল।পুলিশ ৩ দিন আটক রেখে কিছু জিঙ্গাসাবাদ করেছে ‘কাশফুলে’র নরম ছোয়ায়। কিন্তু কুত্তার পেটে ঘি সহ্য হয় না, তাই শক্ত সামথ্য এই ‘চরমপন্থী’টা রিমান্ড শেষে মারা গেছে। আর আমরা সবাই মুখ চেয়ে চেয়ে, গনতন্ত্রের উৎসব পালন করলাম। দেশ এগিয়ে যাওয়ার উৎসব পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আসুন, এই মৃত্যু নয়, এই ফেরেসতাতুল্য মেয়েটির দিকে তাকাই।নিশ্চই বাবার কোলে আকুলি বিকলি খেলতে উদগ্রিব হয়ে থাকবে প্রতিটি রাতে ঘুমাবার আগে?

প্রতিদিন বাবা কাজে বের হওয়ার আগে তার পা জড়িয়ে ধরে খেলনা নিয়ে আসার বায়না ধরতো। সেই পা দুটি ভীষন মিস করবে সে এখন? নিশ্চই, ‘চরমপন্থী’ এই বাবাটি রাষ্ট্রের চোখের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের নেত্রীর মুক্তি চেয়ে অনেক বড় অপরাধ করেছে, বাস পুড়িয়েছে, মানুষ মেরেছে? কিন্তু, সেও তো পৃথিবীর আর সব বাবার মতই ভাল বাবা! সেই ভাল বাবাটা আর ফিরে আসবেনা। এই মেয়ে একটু একটু করে বড় হবে আর টিভিতে যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া সেলিব্রেটি বাবা-হারানো কন্যা-পুত্রদের আর্তনাদ শুনবে?

আসুন, এই মৃত্যু নিয়ে একটু কথা বলি। রাষ্ট্রের কাছে অনুনয় করি? বিনয় করি। রাষ্ট্র এই মেয়েটির বাবাকে বিনা অপরাধে জিঙ্গাসাবাদের নামে তার দুই হাত এবং পায়ের ২০ টি নখ উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কিভাবে নিল? আসুন জিঙ্গাসা করি। নইলে, নখ উপড়ে ফেলার এই চর্চা তার সরকার পাল্টালেও করতে পারে।মানুষ অভ্যাসের দাশ হয়। আপনি জিজ্ঞাসার অভ্যাসটা বন্ধ করলে, তারা নখ উপড়ে ফেলে জিঙ্গাসবাদ করার অভ্যাসটা চালু রাখবে।

এমনকি এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি কোনদিন ক্ষমতায় গেলে, তারা ২০ নখের সাথে দুটি চোখের মনিও কেটে রাখার ক্ষমতা দেবে পুলিশকে। এই পুলিশরা আর বাদ বাকী দেশপ্রেমী পুলিশ নয়, এরা পোশাকপরা হায়েনা। এরা বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজ জীবনেও নখ উপড়াতো।

আসুন, এই মৃত্যু নিয়ে একটু প্রশ্ন করি। এটি নেপালে বিমান দূর্ঘটনার মত অতটা মানবিক নয়। নেপালের দূর্ঘটনায় বিধাতাকেই কেবল দোষী করার উপকরণ আছে। বিপরিতে এই মৃত্যুর জন্য, রাষ্ট্রকেই দায়ী করার উপকরণ আছে। সেটাতে লজ্জিত হব? এতটুকু করলে, আমার অসাম্প্রদায়িকতা বিনষ্ট হবে ?, আমার দেশপ্রেম এর ঘাটতি তৈরী হবে? , আমরা সরকার প্রেমে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে? আচ্ছা থাক তাহলে।দরকার নেই।আমিও অনেক ভেবে ৩/৪দিন পরে এই মৃত্যু নিয়ে ভাবছি। থাক, কোন প্রশ্ন নেই রাষ্ট্র তোমার কাছে। আর কত মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করবো তোমায়?

মার্চ মাসে সবাইকে রক্তস্নাত স্বাধীনতার শুভেচ্ছো।

লেখকঃ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কলাম লেখক, রাজনীতি বিশ্লেষক, বিবিসির একসময়ের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর প্রবীণ সাংবাদিক সাহেদ আলম।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর