যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের রায়: বিএনপি কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গী সংগঠন নয়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, এমন রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশী বিএনপি কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত মামলায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিএনপিকে একটি তৃতীয় স্তরের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিযোগ করলেও অভিবাসন আদালত তা নাকচ করে দেয়।

অভিবাসন বিচারক “ডরোথি হারবেক” সম্প্রতি এই রায় দেন। কোর্টের রায়ে বলা হয়, ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এ যুক্তিতর্কে ডিএইচএস দুটি বিকল্প তত্ত্ব নিয়ে আসে। প্রথমটি হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে বর্তমানে এবং অতীতে সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্পর্ক ছিল এবং দ্বিতীয়ত এর সদস্যরা সহিংস কার্যকলাপে লিপ্ত।’ রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘কোর্ট সতর্কতার সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যুক্তিতর্ক বিবেচনা করেছে এবং দুটি যুক্তিই প্রত্যাখ্যান করছে।’

২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ রায় আসে। উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ডিটেনশন সেন্টার গুলোতে আটক বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা অতি সম্প্রতি তাদের আবেদন সুবিবেচনার দাবীতে অনশন শুরু করলে বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসে।এর পরিপেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সিতে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারী (মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) জে. সি. জনসনের সাথে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কংগ্রেশনাল দফতরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক বৈদেশীক উপদেষ্টা ও বিএনপির বিশেষ দূত জনাব জাহিদ এফ সরদার সাদী এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন।

এছাড়া সেই সময় কংগ্রেসনাল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান মাইকেল ম্যাককুল, ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর মাননীয় নিকোলাস জে রাসমুসেন এবং এফবিআই এর ডিরেক্টর মাননীয় জেমস বি কমি উপস্থিত ছিলেন। সাদী মাননীয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জনসনকে বাংলাদেশের বর্তমান ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে আমেরিকায় আসা বিএনপি সহ বিরোধীদলের নেতা কর্মীদের ব্যাপার বিশেষ সহানুভূশীল আচরনের অনুরোধ জানান এবং টেক্সাস সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জেলে আটক অনশনরত বাংলাদেশী রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার বিশেষ অনুরোধ করেন।

এছাড়া ও যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কংগ্রেশনাল কমিটিতে, “বিশ্বব্যাপি জঙ্গী হামলার আশংখা এবং মার্কিন হোমল্যান্ড বিভাগের করনীয়” শির্ষক এক বিশেষ রুদ্ধদ্বার শুনানী অনুষ্ঠান হয়। উক্ত শুনানীতে ৩০ জন মাননীয় কংগ্রেসম্যান অংশগ্রহন করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মাননীয় মন্ত্রী জে সি জনসন, ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর মাননীয় নিকোলাস জে রাসমুসেন এবং এফবিআই এর ডিরেক্টর মাননীয় জেমস বি কমি শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক বৈদেশীক উপদেষ্টা ও বিএনপির বিশেষ দূত জনাব জাহিদ এ সরদার সাদী। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিরোধী দলকে দায়ী করলেও, কংগ্রেশনাল শুনানীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে ২য় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, ডেপুটি সেক্রেটারী অব স্টেট এন্টনী ব্লিনকেন বলেছেন অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এসব ঘটনার জন্য বিরোধী দল দায়ী নয়।

জানা যায়, এই সাক্ষাতের পরপরই ঐদিন রাতেই টেক্সাস ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১ জন বাংলাদেশী আশ্রয় প্রার্থীকে মুক্তি দেয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে আটক সকলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে বলে জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়নি। এ সংক্রান্ত একটি তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাওয়া যাবে।’

জাহিদ এফ সরদার সাদী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে সরকারের জঙ্গি প্রতিষ্ঠার নাটকে ‘যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা সহ প্রবাসের বাংলাদেশি দূতাবাসও’ শামিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানের জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে সহায়তা না করে নাগরিকদের বিরোধীতা করছে। তবে ফেডারেল কোর্টের এ রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি গণতন্ত্রকামীদের বিশাল জয় হয়েছে। সাদী আরো বলেন, যারা বিএনপিকে বিদেশের মাটিতে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে প্রতিষ্ঠার যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের রায়ে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ফয়সালা এসেছে। এ রায় বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরদ্ধে জাতীয়বাদী শক্তির বিশাল বিজয়।

এই সংবাদের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন