“যুক্তরাষ্ট্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত”

নিউইয়র্কে রাজপথে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী!
নিউইয়র্ক : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র ব্যানারে প্রকাশ্য রাস্তায় দোয়া-মাহফিল শেষে রোজাদারদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়। অরাজনৈতিক ব্যানারে এই প্রথম বিএনপির নেতা-কর্মীরা এমন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিলেন।

বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় মাওলানা মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে। এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজকদের অন্যতম আবুল কাশেম। অনানুষ্ঠানিক এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন মীর নিজামুল হক। ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র নেতৃবৃন্দের অন্যতম মোহাম্মদ আলম নমীও ছিলেন বিশেষ মোনাজাতে।

বাংলাদেশী বাণিজ্যিক পাড়া ৭৩ স্ট্রিটে খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টের আঙ্গিনায় ৩০ মে বুধবার অপরাহ্নে এ কর্মসূচির প্রতি ভিনদেশীদের কৌতুহল বেড়েছিল। বিশেষ করে ইফতারি বক্সেও প্যাকেট বিতরণের ঘটনা সকলের দৃষ্টি কাড়ে।

বক্তৃতার কোন ব্যবস্থা না থাকায় পরিপাটি হয়ে উঠে পুরো আয়োজন। এরপর সুশৃঙ্খলভাবে রোজাদারদের মধ্যে প্যাকেট বিতরণের সময় মীর নিজাম ও আবুল কাশেম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জাতীয় নেতাদের প্রতি অকৃপণভাবে শ্রদ্ধা জানানোর এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।

বিএনপি এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দিবসটিকে ‘শহীদ জিয়ার শাহাদৎ বার্ষিকী’ হিসেবে নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল।

পালকি পার্টি সেন্টারঃ
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে নেত্রীবৃন্দ বলেন, খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে যাতে তিনি বের হতে না পারেন। তারা আরো বলেন, এর আগেও সেনা সমর্থিত সরকারের সময় খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে আপোষ করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তখনো আপোষ করেননি, এখনো করবেন না।

নেত্রীবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র একেবারেই নেই। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী বাসায় থাকতে পারেন না। নেতারা দলের অফিসে যেতে পারছেন না। কোনো কর্মসূচি দিলে তা পালন করারও কোনো সুযোগ নেই। অথচ আওয়ামী লীগ বলছে যে বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না। আন্দোলনে গেলেই তো সরকার নেতা-কর্মীদের জেলে ঢুকিয়ে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসাবে আখ্যায়িত করবে।

এম এ সালাম বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এ কারণেই আমরা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছি। কিন্তু সরকার চায় তাদের অধীনে নির্বাচন। কিন্তু আমরা এত বোকা নই। তিনি বলেন, যে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারবে না সেই নির্বাচন আমরা চাই না। এ সরকারের অধীনে যে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না তার রিহার্সাল খুলনা সিটি নির্বাচনে হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে এক পর্যায়ে উপস্থিত হন দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা ও বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী।

যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা কামাল সাঈদ মোহন, হেলাল উদ্দিন, ফিরোজ আহম্মেদ, রফিকুল মাওলা, আনোয়ার হোসেন, মনজুর চৌধুরী, পারভেজ সাজ্জাদ, গোলাম ফারুক শাহীন, এবাদ চৌধুরী, জাকির এইস চৌধুরী, সাহাদাত হোসেন, এমলাক হোসেন ফয়সাল, মিজানুর রহমান মিজান, মোহাম্মদ আবুল কাশেম, বদিউল আলম, মাকসুদুল হক চৌধুরী, রাফেল তালুকদার, ডাঃ তারেক হাসান, আমানত হোসেন আমান, আমিনুল ইসলাম সপ্বন, রেজাউল করিম রিজু, ডঃ নূরুল আমিন পলাশ, সারোয়ার বাবু, মোঃ ডালিম, আহ্বান চৌধুরী খোকন, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, সৈয়দা মাহমুদ শিরিন, কামাল উদ্দিন, মোঃ হারুন, মোঃ জাহিদ, জীবন শফিক, শাহাদাত হোসেন রাজু প্রমুখ।

দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ইত্যাদি গার্ডেন রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনঃ
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ইত্যাদি গার্ডেন রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি পার্টি হলে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহদাৎ বার্ষিকি উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠীত হয়।

অনুষ্টানে সভাপত্তিত করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সা: সম্পাদক মো: আশরাফ হোসেন। উক্ত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ঢাকা সিটি করপোরেশন এর সাবেক ডিপুটি মেয়র বীর মুক্তিযোদধা মো:আবদুস সালাম, গেসট অফ অনার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন। বিষেশ অতিথির বকতব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, সাবেক কোষাদাক্ষ ও ফেনী জেলা বিএনপির উপদেশটা জসিম উদ্দিন ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সা:সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান সাইদ।

আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের একপর্যায়ে উপস্হিত হয়ে সভাকে অলংকৃত করেন তিন তিন বারের সাবেক প্রধান মন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা ও বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী। প্রধান অতিথির বক্ত্যবে জনাব আবদুস সালাম বলেন বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন চলছে এখানে কোনো মানুষের নিরাপত্তা নাই, যে এসবের প্রতিবাদ করবে তাকেই গুম ও খুনের শিকার হতে হবে তাই হাসিনা এখন গনতন্ত্র কামী মানুষকে ভয় পায় , গনতন্ত্রের নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দী করে রেখেছে এই আওয়ামীলিগ সরকার আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায় তারা জানে বেগম জিয়াকে বাহিরে রেখে নির্বাচন দিলে তারা পরাজিত হবে কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এই অবৈধ সরকারের অধিনে কোনো পাতানো নির্বাচনে যাবে না। আবদুস ছালাম আরো বলেন আপনারা প্রবাসে যারা জাতীয়তাবাদী সৈনিকরা আছেন তারা আন্তর্জাতিক ভাবে এই অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড তুলে দরুন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করুন।

সভায় আরো উপস্হিত থেকে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সি: সহ-সভাপতি রুহুল আমিন নাসির, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি মো: সোহেল হাওলাদার, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজবুল কবির, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন দিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন মৃধা, তারেক রহমান পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এম জাহাংগীর আলম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা রিয়াজ চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক আবু জাফর ফরাজী ,যুগ্ম-সম্পাদক রবিনস চৌধুরী ,তারেক রহমান প্রত্যাবর্তন পরিষদের সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা নেত্রী মাহমুদা শিরিন, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা মিসেস জহুরা বেগম , মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা শরীফ চৌধুরী পাপপু , নিউইয়র্ক মহানগর সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সভাপতি এনামুল কবির অপু, দপ্তর সম্পাদক অহিদুজজামান রিয়াদ , মুক্তিযাদ্ধা অহেদ আলী মন্ডল, মুক্তিযাদ্ধা মশিউর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম বদী, জাতীয়তাবাদী ফোরাম নর্থ আমেরিকা সভাপতি গোলাম হায়দার মুকুট, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মারুফ আহমেমদ, মোহাম্মদ মহসিন, ফয়সাল পাটোয়ারী, জালাল আহম্মেদ, আরিফুল ইসলাম তুহিন, মোহাম্মদ রিপন, এম এ মাসুদ কবির, প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মিলন, নুরে আলম চৌধুরী, আক্তারুজজামান, মোস্তাক আহমেদ, রইস উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন রাজিব, লিটন আহমেদ, ইকবাল আনসারী, রিফাত সুলতানা, মির্জা আজম, নুরউদ্দিন ইপি, কাউছার, হারুনুর রসিদ বাবুল প্রমুখ।

ইফতারের পূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা ও দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন