যৌনতায় অর্গাজম জরুরি কেন?

প্রতীকী ছবি

অর্গাজম বা চরম পুলক এমনই একটা শব্দ যা দাম্পত্য সুখের শেষ কথা। যৌন ক্রীড়ার শেষ বিন্দুতে অর্গাজম একটি স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এইসময় শ্রোণী অঞ্চলের মাংসপেশির ছন্দময় সংকোচণের মাধ্যমে দেহে চরম যৌনসুখ অনুভূত হয়। নারী এবং পুরুষ উভয়েরই অর্গাজম ঘটে থাকে যৌন ক্রীড়ার সময়। । এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এসময় শরীরের ভেতরে অনেকগুলো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে।

যেমনঃ আনন্দ-চঞ্চল সংবেদন , শরীরের কোনো কোনো অংশে বিদ্যুতের মতো অনুভব এবং মুখে নানান ধরনের শব্দের উৎপত্তি। অর্গাজমের পরবর্তী সময়টি একটি অবসাদময় নিস্তেজ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। যার মূল কারণ হল অক্সিটোসিন, প্রোল্যাক্টিন এবং এন্ডোরফিন্স নামক নিওরোহরমোনের নিঃসরণ।

অর্গাজম যেকোনো ধরনের শারীরিক যৌন উদ্দীপনার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ (এক্ষেত্রে বীর্যপাতের ঘটে থাকে ) এবং নারীর ক্ষেত্রে ভগাঙ্কুরের উদ্দীপনার মাধ্যমে। এই যৌন উত্তেজনা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে নিজে নিজে করা যেতে পারে বা কোনো সঙ্গীর সাহায্য অন্য যেকোনো যৌন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে হতে পারে।

অর্গাজম কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে আনন্দের সাথে মিশে থাকে দেহ ও মনের এক ধরণের নিরুদ্বেগ শৈথিল্য। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যস্খলনের সময়ই অর্গাজম বা রাগমোচন লাভ হয়, এর পাশাপাশি পেশীর ক্রিয়ার কারণে তার লিঙ্গ কয়েকবার কেঁপে ওঠে এবং অণ্ডকোষ শক্ত হয়ে একটু উপরে উঠে আসে। অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই রাগমোচনের পরেই পুনর্বার মৈথুন করা সম্ভব না, কেননা বীর্যপাতের সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গের উত্থান রহিত হয়ে যায়। লিঙ্গের পুনরুত্থান বা পুনরায় সঙ্গমের জন্য কিছুটা সময় লাগে।

স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইউটেরিন ও যোনির দেয়ালের পেশীগুলোর মুহুর্মুহু সংকোচনের মাধ্যমে অর্গাজম ঘটে থাকে। এটা ক্ষেত্রবিশেষে একসাথে কয়েকবার হতে পারে আবার সামান্য সময়ের ব্যবধানে হতে পারে। অনেক মেয়ের ক্ষেত্রে সারা শরীরের অনেকগুলো অংশে অনেকক্ষণের জন্য অর্গাজম অনুভূত হতে পারে। পুরুষের চেয়ে নারীর অর্গাজম অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তাই সঙ্গমের কালে অর্গাজম বা রাগমোচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি উপভোগ্য সঙ্গমের সমাপ্তি তখনই সম্ভব যখন অর্গাজম ঘটে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন