রাখাইনে নতুন পাঁচটি গণকবর, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

সময়বাংলা ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধানে নতুন পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এই উদ্বেগ জানানো হয়। এপির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রাখাইনে নতুন পাঁচটি গণকবরের কথা

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থিনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফানে দুজারিক বলেন, এটা প্রমাণ করে রাখাইনে জাতিসংঘের প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন। এখন আমাদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। আমরা তা চাই। এমন খবর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

গণকবরের সন্ধানের খবরে জাতিসংঘের মতোই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, মানবাধিকার হরণ ও লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সহযোগিতাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় একটি তদন্তের মাধ্যমেই সত্যিকার অর্থে কী ঘটেছে তা জানা সম্ভব। বিশ্বের জানা উচিত আসলেই সেখানে (রাখাইন) কী ঘটেছে।

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ ও নিপীড়ন চালানোর কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে এপির প্রতিবেদনে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এপির অনুসন্ধানে মিয়ানমারে নতুন পাঁচটি গণকবর চিহ্নিত হয়েছে। রাখাইনের গু দার পাইনের একই এলাকার ওই পাঁচ গণকবরে চার শতাধিক মানুষের লাশ থাকতে পারে বলে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২৪ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নতুন গণকবরের সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এপি। নিপীড়নের অভিযোগকারীদের কেউ কেউ নিজেদের দাবির পক্ষে সময়-চিহ্নিত ভিডিও সরবরাহ করেছেন। পরে নির্দিষ্ট ওই অঞ্চলে গিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলেও প্রবেশাধিকার না থাকায় ব্যর্থ হয় এপি।

এপিকে সাক্ষাৎকার দেয়া রোহিঙ্গারা জানান, তারা প্রত্যেকেই গু দার পাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশ পথের মূল রাস্তায় তিনটি গণকবর দেখেছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন, গ্রামের পার্বত্য এলাকার কবরস্থানের কাছে আরও বড় দুটি গণকবর রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেনারা সেখানে রোহিঙ্গাদের একত্রিত করে হত্যা করেছে। এছাড়া গ্রামজুড়ে বেশ কিছু ছোট ছোট গণকবর থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো রাখাইনের ইনদিন গ্রামে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারও আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হিন্দুদের দুটি গণকবর সাংবাদিকদের দেখিয়ে দাবি করেছিল সশস্ত্র রোহিঙ্গারা এসব হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু পোস্ট।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর