রাতে হাতকড়া, সকালে গুলিবিদ্ধ লাশ !!!!

সময় বাংলা ডেস্ক: শহীদ নুরু হত্যা ব্রেকিং নিউজ রাতে হাতকড়া, সকালে গুলিবিদ্ধ লাশ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম নুরুকে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় রাউজান থানার নোয়াপাড়া পুলিশফাঁড়ির পরিচয়ে চন্দনপুরা এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর হত্যা করে লাশ বাগোয়ান ইউনিয়নের কুয়েপাড়া ঠেলারঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীরের পাশে ফেলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা মতে যানা যায়, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাহির থেকে দরজা নক করে।  দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে নুরুল আলম নূরুর হাতে হাতকড়া পড়িয়ে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যদের তিনটি মুঠোফোনও নিয়ে যায়। নুরুল আলম নূরুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাত-আটজন পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং এদের মধ্যে তিনজন ছিলেন পুলিশের পোশাক পরা। এদের একজনের নেমপ্লেটে জাবেদ লেখা ছিল। ইউনিফর্মে ছিল এসআই র‍্যাংকের। তারা নূরুকে সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়িতে করে নিয়ে যায়। গাড়ির নম্বর (চট্ট মেট্টো চ -১১-৭৭) লেখাটি তাঁরা দেখতে পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই এসআই জাবেদ (শেখ জাবেদ) হলো সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় কর্ণফুলীর নদীর পাশে পাওয়া গেছে তাঁর মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ। লাশ উদ্ধারের সময় নুরুর দুই হাত কমলা রঙের মোটা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। পরনে শার্ট ছিল না। সেটি দিয়ে দুই চোখ ছিল বাঁধা। লাশ ছিল উপুড় করা। শরীরে জামা ছিল না। লুঙ্গি পরা থাকলেও পশ্চাৎদেশ ছিল উন্মুক্ত। পশ্চাৎদেশ ও হাতের বিশাল অংশে ছিল কালচে দাগ। লাশের অবস্থা দেখে বোঝা যায় প্রচন্ড রকম নির্যাতনের পর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় এই ছাত্র নেতাকে।

নিহত নূরু চার মাসের একটি কন্যা সন্তান, দুই ছেলেসহ পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা মিনহাজ মঞ্জিলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায়।

এদিকে নুরুল আলম নুরুকে ধরে নিয়ে যাবার সাথে সাথে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে খবর ছড়িয়ে পড়ে, রাজউন থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে নুরুকে ধরার কথা অস্বীকার করে। অজানা ব্যদনায় কেঁদে উঠে সকলের মন।

এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি নেতা জাহিদ এফ সরদার সাদী বাংলাদেশ সময় রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে  রাউজান থানার পুলিশ পরিদর্শক সেই শেখ জাবাদের সাথে তার ০১৬২০৪৫৩৮৯১ মোবাইল নম্বরে কথা বলেন। ইতিমধ্যে পুলিশ পরিদর্শক শেখ জাবেদ ও জাহিদ এফ সরদার সাদীর কথোকপনের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল।  যা জাহিদ এফ সরদার সাদীর আ্‌ইডি থেকে আপলোড হয়। যার একটি কপি আমাদের হাতে চলে এসেছে। কথোকোপনের এক পর্যায়ে শেখ জাবেদ নুরুল আলম কে ধরার কথা স্বীকার করেন।

অডিওটিতে শুনা যায় জাহিদ এফ সরদার সাদি প্রথম এসআই জাবেদকে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি জাহিদ এফ সরদার সাদী বলছি আমেরিকা থেকে। আপনিকি রাউজান থানার পরিদর্শক জাবেদ সাহেব? ওপাশ থেকে শুনা যায় জ্বি। তখন জাহিদ এফ সরদার সাদী জানতে চান আপনিতো রাউজান থানার সাব ইনেসপেক্টর, ওপাশ থেকে শব্দ জ্বি। তখন তিনি নুরুল আলমের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমাদের বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নুরুল আলম নুর কে আপনাদের রাউজান থানার রেফারেন্স দিয়ে তার বাসা থেকে ধরে এনেছে কিছুক্ষন আগে চকবাজারের বাসা থেকে, ছেলেটাকে আপনারা কখন কোর্টে সোপর্দ করছেন, বা কিভাবে আছে ছেলেটা, জবাবে  শেখ জাবেদ বলেন হ্যা.. এ বেপারে আরো কয়েকজন ফোন করেছে, আমি ওসি স্যারকে বলেছি আসামী ধরা হয়েছে।

তখন জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেন, রাউজান থানার রেফারেন্সে তাকে ধরে আনা হয়েছে, ঘন্টা বেশী সময় হল তাকে থানায় আনা হয়নি, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করেদিন। বিষয়টি যখন আমাদের এটেনশনে এসেছে তখন বুঝতেই পারছেন যে, যেকোন একটা ইনপোরটেনসি আছে আমরা চাইযে আপনারা ছেলেটাকে আইনে সোপর্দ করুন। তিনি পূর্বে ঘটে যাওয়া লক্ষিপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগেও এরকম হয়েছিল, আমি এসপি সাহেবের সাথে কথা বলেছিলাম, তার ১০মিনিট পর ছেলেটাকে ক্রস ফায়ার করা হয়েছিল।

তাই সাদী বলেন, আমরা চাইযে আপনারা নুরুল আলম নিরুকে কোর্টে চালান দিয়ে দিন , তারপর তার যা হবার হবে।  জাবেদ সাহেব তখন বলেন, আমি ঘুমের মধ্যে ছিলাম তাই আপনার পরিচয়.. তখন সাদী আবার তার পরিচয় দেন আমার নাম জাহিদ এফ সরদার সাদী, আমি আমেরিকাতে থাকি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাকে একনামে চিনে।

সাদী আরো বলেন, আমরা আপনার সাথে কথা বলছি একজন প্রজাতন্ত্রের কমচারী হিসেবে, আপনার রাউজান থানার রেফারেন্সে নুরুল আলম নুরুকে ধরে আনা হয়েছে। সাদী আরো বলেন, আমাদের কাছে এর প্রমানও আছে। তখন সাদী জোর দিয়ে বলেন, এই সরকার যাতে তাদের কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পরে তার আগে ছেলেটাকে আইনে সোপর্দ করেদিন, তখন শেখ জাবেদ কথাটিকে অন্য দিকে মোর দিতে বলেন, আমরা জঙ্গী নিয়ে ব্যস্ত, আমাদের পুলিশ জঙ্গী ধরানিয়ে ব্যস্ত।

এবিষয়ে বিএনপি নেতা জাহিদ এফ সরদার সাদী জানান, তিনি স্বীকার করেছেন যে নুরুল আলম নুরুকে তারা ধরেছেন, আর যখন সাদীর সাথে কথা হয় তখন শেখ জাবেদ ঘুমে ছিলেন।  পুলিশের এই এসআই প্রথম আলোকে বলেছেন, সে সময় নাকি তিনি জঙ্গী অভিযানে ছিলেন।

এসআই শেখ জাভেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত আমি রাউজানের একটি মাদ্রাসা এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ছিলাম। নুরু নামের কাউকে শহর থেকে আটক করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ সকাল থেকে আমি পুলিশের একটি সভায় ছিলাম। দুপুরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পাই। সেটি নুরুর কি না যাচাই না করে বলতে পারছি না।’

শেখ জাবেদের প্রথম আলোকে দেয়া বক্তব্য আর তার নিজের কথোকোপনের সাথে ২ধরনের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি কিছু একটা আড়াল করতে চাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা মতে নুরুল আলম নুরুকে তুলে আনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন।

জাহিদ এফ সরদার সাদী জানায়, অডিওটি তিনি রেকর্ড করেছেন সত্য, কিন্তু তিনি আশায় ছিলেন এ্সআই যখন স্বীকার করলেন তখন হয়ত নুরুল আলমকে কোর্টে চালান দিয়ে দিবে, কিন্তু তা হয়নি। নুরুল আলমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি অডিওটি প্রথমে ফেসবুকে পরে ইউটিউবে আপলোড করেন।

পাঠকের সুবিধার্থে তাদের কথোকোপনের ভিডিওটি নিন্মে দেয়া হল:

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন