রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই প্রাণীর প্রজননে প্রভাব ফেলবে: জাতীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রামপালে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯০ ভাগ উৎপাদন দক্ষতায় ৬০ বছর কর্মক্ষম সময়ে ৩৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি ছাই উৎপাদন করবে। আর এর ছাই প্রাণীর প্রজননে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। এতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে’ বলে জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম এ তথ্য দেন।

‘রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়লার ছাই অপসারণে সম্ভাব্য বিপদাপন্ন পরিবেশ নিরূপণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আমেরিকার এ. ডেনিস লেমলি এর ‘বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানির প্লান্টের কয়লার ছাই অপসারণ ও ব্যবস্থাপানার পরিবেশগত বিপদ/ঝুঁকি মূল্যায়ন’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে এ. ডেনিস লেমলি’র গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম বলেন, ‘রামপালে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯০ ভাগ উৎপাদন দক্ষতায় ৬০ বছর কর্মক্ষম সময়ে ৩৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি ছাই উৎপাদন করবে। এ ছাই বর্জ্য প্রাণীর প্রজননে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। এতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১০কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, “ছাই পুনঃব্যবহার পরিকল্পনা’ অনুসারে শুধুমাত্র কয়লার ছাইয়ের একটি মাত্র অংশ গৃহস্থালীর কনক্রিট ও ইট তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা হবে। এ থেকে বোঝা যায় যে, অর্ধেক ফ্লাই অ্যাস সিমেন্ট ও ইট তৈরিতে ব্যবহার করলেও ছাই বর্জ্য রাখার পুকুরটি ১২ বছরে পূর্ণ হয়ে যাবে। আরও কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন টন ছাই অপসরণের জন্য বাকি থাকবে। এই ছাই কোথায় ডাম্পিং করা হবে তার উল্লেখ নাই।’

গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, ‘রামপাল কেন্দ্র থেকে ছাই বর্জ্যগুলো হবে ফ্লাই অ্যাস, বটম অ্যাস, স্কবার স্লাজ ও বয়লার স্লাগ। এই ছাইয়ে থাকবে আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, লেড বা সিসা, পারদ, ‘সেলিনিয়ামসহ বিভিন্ন ভারি ধাতু যা মানুষ ও জীব-জন্তুর শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। মাছ ও বন্যপ্রাণীর ওপর অবশ্যম্ভাবী মারাত্মক বিষক্ততা সৃষ্টি করবে। প্রস্তাবিত ছাই অপসারণের পদ্ধতি মারাত্মক পরিবশ দূষণ করবে। যা সুন্দরবনের চারদিকের বন্যপ্রাণীর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।’

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, ওয়াটার কিপার বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল প্রমুখ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন