রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়া হবে প্রবল: নেজামী

nejamiসময় বাংলা ডেস্ক : সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী।

তিনি বলেছেন, স্পর্শকাতর এ বিষয়ে আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ উচিত হবে কি না, তা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখা উচিত।

সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনগণের মধ্যে সৃষ্ট মতানৈক্যের ফলে অতীতে এসব বিষয়ে পরিবর্তন সাধিত হয়। কারণ, মতের এই বিভাজন এবং উদ্বেলিত বিভাকে অবলম্বন করেই আমাদের জাতিসত্ত্বার জাগরণ ও তাৎপর্য। বিভিন্ন জাতীয় প্রশ্নে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীর যেমন প্রতিক্রিয়া আছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের ক্ষেত্রে সেই প্রতিক্রিয়া আরো প্রবল। তাই এই বিষয়টিকে হালকা করে দেখা কিছুতেই উচিত হবে না।

মাওলানা নেজামী বলেন, ৭২-এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র সংযোজনের ফলে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আশা-আকাংখা এবং স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনার প্রতিফলন যেমন হয়নি, তেমনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চিন্তা-চেতনার রুপায়ণ ও অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি ঘটেনি।

তিনি বলেন, সংবিধান একটি দেশের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনা ঈমান-আক্বিদার রুপায়ণ। তাই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনার রূপায়ণ ও অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হিসেবেই গণতান্ত্রিক দায় হিসেবে এবং এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, তাছাড়া জনগণের অনুভুতির কথা বিবেচনা করে অনেক ধর্মীয় মূল্যবোধকেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে আনা হয়। কেননা পৃথিবীর সব দেশেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে গুরত্ব দেয়া হয়। এটাই গণতন্ত্রের কথা।

তাই মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা অণভিপ্রেত।

নেজামী বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক দেশে ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই,কমোরস, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ,মরক্কো, ওমান, কাতার সোমালিয়া তিউনিসিয়ায় ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম ছাড়াও অন্য কয়েকটি ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই খ্রিষ্টধর্ম রাষ্ট্র স্বীকৃত। পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনে প্রধান ধর্ম রোমান ক্যাথলিক। ডেনমার্ক, জার্মানী, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে লথেরান ধর্ম প্রাধান্য পায়। ইহুদী ধর্মই ইসরাইলের চালিকা শক্তি। বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র নেপাল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিতর্কের জালে নিক্ষেপ করার পরিবর্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভক্তি এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা জাতি ও চৈতন্যের তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলে সংখ্যালঘুদের নিজ নিজ রাষ্ট্র সৃষ্টির আশংকা অমূলক। তাহলে তো রাষ্ট্রধর্মগ্রহণকারী দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদেরও পৃথক রাষ্ট্র সৃষ্টির আন্দোলন শুরু হতো।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন