রায়পুরে নদীতে চাঁদা না পেলে কোষ্টগার্ডের হয়রানি, প্রতিবাদে জেলেদের মানবন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর অংশে কোষ্টগার্ডের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের চাহিদামত চাঁদা না পেলে জেলেদের মারধরসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। গত ১৫ দিনে শতাধিক জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে জেলেরা। কোষ্টগার্ডের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে বুধবার বিকেলে উজেলার পুরান বেড়ী এলাকায় ঘন্টাব্যাপী জেলেরা মানববন্ধন করে। দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার হুশিয়ারি দিয়েছে তারা।

মানববন্ধনে তসলিম মাঝি , ছিটু হাওলাদার সহ জেলেরা অভিযোগ করেন, রায়পুর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার জেলে নদীতে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি নদীর নব্যতা সংকটের কারনে জালে মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ। এনিয়ে জেলে পল্লীগুলোতে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এ পেশার লোকজন। দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋন নিয়ে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে যায়। কিন্তু জেলেদের মধ্যে দেখাদেয় কোষ্টগার্ড আতংঙ্ক।

কোষ্টগার্ড রায়পুর উপকূলীয় ক্যাম্পের পেটি অফিসার এস এ মারমা ও তার সঙ্গী ও ফোর্সরা ১৫ দিনে শতাধিক জেলের কাছ থেকে ৫ লক্ষ্যাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে শুধু বুধবার সনোয়ার মাঝি ১০ হাজার, রতন হাওলাদার ১৫ হাজার, পেন্টু হাওলাদার ১০ হাজার, কাদির মাঝি ৮ হাজার, আমান সরকার ৮ হাজার, শরীফ ফাদানিয়া ২৫ হাজার, তসলিম সর্দ্দার ৯ হাজার হাতিয়ে নেওয়া হয়।

কোষ্টগার্ডের স্থানীয় দালাল নামে চিহ্নিত শামছুদ্দিন মাঝির মাধ্যমে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

জেলেরা আরও জানায়, কোষ্টগার্ডের নিয়োগকরা স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক টাউট-বাটপার জেলেদের নানা অত্যাচার করছে। কারেন্ট জাল অজুহাত দেখিয়ে কোষ্টগার্ড এ চাঁদাবাজি করছে।

রায়পুর উপকূলীয় ক্যাম্পের পেটি অফিসার এস এ মারমা বলেন, জেলেদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারেন্ট জাল আটক করায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে জেলেরা অভিযোগ করলেও আমাদের সামনে বলবেনা।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় ও সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন