রূপ-যৌবন কাজে লাগিয়েই হয়ে গেলেন ‘ইয়াবা পাপিয়া’

সময় বাংলা, ঢাকা: নাম তার ফারহানা আক্তার পাপিয়া। ২৫ বছরের সুন্দরী তরুণী। রূপ ও চলার স্টাইল দেখে বিশ্বাসই হবে না তিনি একজন মাদক সম্রাজ্ঞী। শুধু মাদক নয়, অবৈধ অস্ত্রের সমাহারও রয়েছে এই তরুণীর কাছে। তার রয়েছে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে গড়া বিশাল বাহিনী। এই তরুণীর ভয়ে তটস্থ থাকত এলাকার মানুষ। আর এভাবে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই বনে যান কোটিপতি। নিজের রূপ-যৌবনকে মাদক ব্যবসার প্রসারে কাজে লাগান।

সম্প্রতি সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পাপিয়াকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অবশেষে পুরান ঢাকার লালবাগ থেকে পাপিয়া ও তার মাদক ব্যবসায়ী স্বামী জয়নাল আবেদীন পাঁচুকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার আবু হানিফের মেয়ে ফারহানা আক্তার পাপিয়া। তার বেড়ে ওঠাও এই মহল্লার জয়েন্ট কোয়ার্টারে। পাপিয়া যখন কলেজে পড়েন তখন থেকেই জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন ওরফে পাঁচুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বেশ কিছুদিন প্রেমের পর পাঁচুর সঙ্গেই তার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ২৩৯ নম্বরের পাঁচুর বাসায় চলে আসেন পাপিয়া। কয়েকমাস সংসার করার পর পাপিয়াকে মাদক ব্যবসায় আসার জন্য বলেন পাঁচু। এরপর থেকেই স্বামীর মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করতে থাকেন তিনি। এসময় নিজের রূপ-যৌবনও কাজে লাগান পাপিয়া। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাদক ব্যবসায় আরও অনেক সুন্দরী তরুণীকে যুক্ত করেন। তবে তারা কেউই বেশি দিন জেনেভা ক্যাম্পে থাকেন না। ক্যাম্পের বাইরে থেকেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এভাবেই কোটিপতি বনে যান পাপিয়া। এলাকায় পরিচিত পান ‘ইয়াবা পাপিয়া’ নামে।

শুধু মাদক নয়, অবৈধ অস্ত্রের সমাহারও রয়েছে এই তরুণীর কাছে। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, পুরান থানা রোড, জহুরি মহল্লা, ইকবাল রোড, জয়েন্ট কোয়ার্টার, টিক্কাপাড়া, কৃষি মার্কেট, পাকা ক্যাম্প ও শেখেরটেকের মানুষ এক রকম জিম্মি হয়ে ছিল পাপিয়ার অস্ত্রধারী বাহিনীর কাছে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পাপিয়া। কিন্তু যতবারই আটক হয়েছেন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিছুদিন কারাভোগের পর আবারও ফিরে এসে জড়িয়েছেন অবৈধ মাদক ব্যবসায়।

স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন পাপিয়া। আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গ্রেপ্তারের কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে আসেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার ডিসি মাসুদুর রহমান জানান, পাপিয়া ও পাঁচুকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও মতিঝিলসহ কয়েকটি থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে বেশ কিছু মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর