রোহিঙ্গাদের মাঝে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে ইরান সরকারের রোডম্যাপ ঘোষণা

সময় বাংলা ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকার এবং সেনাবাহিনীর কঠোর দমনপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার একটি পরিপূর্ণ রোডম্যাপ তৈরিতে বৈঠক করেছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রাহিমির উপস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হন।

মিয়ানমারের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের কাছে ইরানের তৃতীয় পর্যায়ের মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নেয়া জরুরী এবং স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের অধীনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর এ প্রক্রিয়া সফল হলে এটি হবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মাঝে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ইরানের প্রথম ত্রাণবাহী কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দফায় পাঠানো ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল তাঁবু, কম্বল, চা, চিনি, তেল, কাপড়চোপড়, ওষুধসহ ৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ৩০ টন ত্রাণের দ্বিতীয় কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছায়। এ দফায় পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল ৩০০ তাঁবু, ৫ হাজার ৫০০ কম্বল, ১০ হাজার টিনজাত খাবার এবং এক টন ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।

এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দেবে তুরস্ক
নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দেবে তুরস্ক। এ ছাড়া তুরস্ক রোহিঙ্গাদের জন্য শিগগিরই ১৩টি আইটেমের সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী দেবে।

সফররত তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক আহমেদ রফিক গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাথে তার সচিবালয়ের অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে তারা রোহিঙ্গা পরিস্থিতিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়টিকে অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত এর সমাধান আশা করেন তারা।

ত্রাণমন্ত্রী জানান, একান্ত মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারের মনোভাব ও অবস্থান অবহিত করেন মন্ত্রী। তুরস্কের প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এ সময় আহমেদ রফিক জানান, তুরস্ক বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে। আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নিয়ে আলোচনা করেন তারা। আহমেদ রফিক আরো জানান, তুরস্ক শিগগিরই ১৩টি আইটেমের সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী দেবে। এগুলোর হস্তান্তর নিয়েও কথা বলেন তারা।

প্রতিনিধি আরো জানান, শিগগিই তুরস্কের উপপ্রধান মন্ত্রী রিসেপ আব্বাস বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশ তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বলে মন্ত্রী প্রতিনিধিকে জানান। সফরের কর্মসূচি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলাপ হয়। বাসস, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গাদের পক্ষে এরদোগান সোচ্চার যে কারণে
গত আট মাসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি সরাসরি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে।

এরদোগানের মতো এতটা জোরালো অভিযোগ অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান করেননি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোগান সরাসরি ফোন করেছিলেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চিকে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সু চির কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান বাংলাদেশে আসেন। টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যান।

৫৩ রোহিঙ্গাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে তুরস্ক
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার জন্য ৫৩ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে বৃত্তি দেবে তুরস্ক সরকার। সম্প্রতি এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটি উপ-প্রধানমন্ত্রী হাকান কাবুসওগলু। তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ, আইন, রাজনীতি ও মানববাধিকার বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা।

কাবুসওগলু জানান, এরই মধ্যে তুর্কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের খাবার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। তুর্কি মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা আশ্রয়শিবিরে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিক গড়ে তুলব।’ আনাদোলু।

‘রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার পেছনে রয়েছে ইসরাইলের হাত’
ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞে ইসরাইলের ভূমিকা রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো যেখানে মিয়ানমার সরকারের কাছে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে সেখানে ইসরাইল রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা নির্যাতন চালানোর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে।

জাতিগত শুদ্ধি অভিযানে লিপ্ত সরকারগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে তেলআবিবের ভূমিকা সম্পর্কে সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরাইলের এ দৈনিকটি আরো জানিয়েছে, এর আগে ১৯৯০এর দশকে রুয়ান্ডা ও সার্বিয়ার কাছেও অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন আওং হাইং ইসরাইল সফর করে সেখানকার অস্ত্র নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন