লক্ষ কতটা অটুট আপনার…..?

মাসুদুর রহমান মাসুদ,সময় বাংলা,ঢাকা :

goolএকটি গাছের ডালে সুন্দর একটি পাখি বসে আছে। দুই জনকে ডাকা হল। প্রথম একজনকে বন্দুক হাতে দিয়ে পাখিটির দিকে তাক করতে বলা হল। এবং জিজ্ঞসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? সে উত্তর দিল একটি পাখি। তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? এবার সে উত্তর দিল একটি গাছের ডালে একটি পাখি বসে আছে। শেষ বারের মত তাকে আবারও জিজ্ঞসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? এবার সে উত্তর দিল একটি পাখি গাছের ডালে বসে আছে সেই সাথে আকাশও দেখতে পাচ্ছি।

এবার হাতের বন্দুকটি নিয়ে দ্বিতীয় আরেক জনকে দেওয়া হল। তাকেও পাখিটির দিকে বন্দুক তাক করতে বলা হল। এবং জিজ্ঞাসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? সে উত্তর দিল একটি পাখি। দ্বিতীয় বারের মত তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? এবারও তার একই উত্তর একটি পাখি। তৃতীয় এবং শেষ বারের মত তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করা হল কি দেখতে পাচ্ছ? এবার তার উত্তর আরও দৃপ্ত কন্ঠে একটি পাখি।

মাসুদুর রহমান মাসুদ আমন্ত্রন জানাচ্ছি সময় বাংলা পরিবারের সকলকে। শুরুটা একটা গল্প দিয়েই করলাম। গল্পটা পড়ে কে কি বুঝেতে পেরেছেন জানি না। গত সপ্তাহে গল্পটা খুব বেশী মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম না। তবে ক্ষনিক বাদেই বুঝতে পেরেছি আসলেই গল্পটা জীবন বদলে দেওয়ার মত গল্প।

জীবনে বড় হতে হলে লক্ষটা অটুট রেখে এগিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বের তা অন্তত বুঝতে পেরেছি গল্পটা শুনে। আমি পাখি শিকারের জন্য বন্দুক ধরে যদি আকাশ দেখি তাহলে নিশ্চয় পাখি আমার গুলি খাওয়ার ভরসায় বসে থাকবে না। পাখিকে শিকারে পরিনত করতে হলে আমাকে শুধু পাখিই দেখতে হবে। তাই জীবনের লক্ষটাকে ঠিক করে একক লক্ষের পানেই ছুটতে হবে। পাখি শিকার করতে এসে আকাশ কিংবা গাছ দেখলে চলবে না। পাখি শিকার করে তবেই আকাশ দেখুন। লক্ষে পৌছে তবেই তা উৎযাপন করুন। সফলতা উৎযাপনের দরকার আছে। কারন আনন্দ লুকিয়ে রাখায় নয় প্রকাশের।

একদিন একটি বালক যে কিনা গীর্জায় উপস্থিত হয় প্রার্থনার সময়ে। তখন ধর্মযাজক সমবেতদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন আপনাদের যাদের মনে হয় জীবনে কোন একটি ভাল কাজের জন্য যারা জন্য স্বর্গে যেতে পারেন তারা ডানপাশে অবস্থান করেন। আর বাকিরা যারা মনে করেন যে তারা এমন কোন ভাল কাজই করেননি যাতে স্বর্গে যাওয়ার সম্ভবনা আছে, নরক অবধারিত তারা বামপাশে অবস্থান করেন। ধর্মযাজকের কথায় সবাই দুই পাশেই বিভক্ত হয়ে অবস্থান গ্রহন করল শুধুমাত্র ওই বালকটি বাদে।

ধর্মযাজক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন হে বালক তুমি কি স্বর্গ কিংবা নরক চিনো না? যে কোন এক পাশে না দাড়িয়ে মাঝখানেই দাড়িয়ে আছো কেন? উত্তরে বালকটি বালকটি বলল আমি স্বর্গ কিংবা নরক কোথাও যেতে চাই না। আমি হোয়াইট হাউজে যেতে চাই। আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চাই। লক্ষ তার অটুট। আর সেই বালক আব্রাহাম লিংকন ঠিকই হোয়াইট হাউজে পৌছেছিলেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

উদ্যোক্তা হবেন স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আপনার স্বপ্ন ছুয়ে দেখতে হলে তো কঠিন সংকল্প থাকতে হবে। মাঝপথে এসে থেমে গেলে চলবে না। শুরু করেছেন কোন না কোন কারনে থেমে গেছে তাতে কি, আবার শুরু করেন। আপনার যা আছে তা নিয়েই শুরু করেন। আপনার যা আছে তা আপনার জন্য সুযোগ আর যা নেই তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার জন্য সময় ব্যয় করাটাই বোকামী। এমন অনেককে দেখছি যারা থেমে গিয়েও চলতে শুরু করেছে এখন ভালও করছে। আর যারা হতাশ হয়ে বসে ছিল তারা দিনকে দিন আরো পিছিয়ে পড়েছে। নিশ্চয় আপনি সেই পিছিয়ে পড়াদের দলে যোগ দিতে চাইবেন না। তাহলে আর এক মুহুর্তও দেরী নয়। তবে শুরু হোক এগিয়ে যাওয়ার গল্পের আর সেই শুভযাত্রার শুভকামনার আমরা আছি আপনার সাথে সবসময়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন