লজ্জা নারীর ভূষণ নয়, জ্ঞান আত্মনির্ভরশীলতাই নারীর ভূষণ

সময় বাংলা,ডেস্ক: When something seems troubling to you, then you should make the first step to make a change !
যেহেতু সমস্যা আমাদের মেয়েদের , তাই আমাদেরকেই আমাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে । রবি ঠাকুর বলে গেছেন
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবে একলা চল রে” । সমাজের সাহায্যের হাত খুবই যৎসামান্য পেলেও পাওয়া যেতে পারে, তবে আশা না রাখাই ভালো। কারণ আমাদের চারপাশে যাদের আমরা দেখছি তারা দৃশ্যত সুস্থ স্বাভাবিক দেখা গেলেও সত্যিকার অর্থে তারা সবাই অন্ধ, বধির, বোবা, ভন্ড।

এখানে অভিযোগ দেখিয়ে লাভ নেই। গন্ডগোল আজ থেকে না , গোঁড়া থেকে শুরু হয়েছে ।
আদম আর হাওয়ার জন্ম কাহিনী তো আমরা সবাই জানি । বলা হয় প্রথমে আদমকে বানানো হয়েছে এবং তার একাকীত্ব দূর করার জন্য, তাকে মনোরঞ্জন করার জন্য হাওয়া কে বানানো হয়েছে । এখানেও নারীকে দাসী, তথা পুরুষের পরে স্থান দেওয়া হয়েছে। mythology তে আমি তেমন বিশ্বাস করি না। কারন আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা এমন বিভেদ তার সৃষ্টিতে করতে পারেন না । তার চিন্তা এমন হতে পারে না ।

এই ব্যাখ্যা যার দেয়া , সে একজন পুরুষ । এবং তার চিন্তা পৃথিবীর তাবৎ পুরুষ জাতির সাথে মিলে। যাদের একমাত্র লক্ষ্য নিজেদের কর্তৃত্ব ফলানো, যেহেতু তারা নারীর দূর্বলতা ধরতে পেরেছে। নারী নতুন প্রাণের জন্ম দেয়, তাই সে অনেকটাই ভঙ্গুর। আর যাই হোক, কর্তৃত্ব নমনীয় কাউকে দেয়া যাবে না । তাই পুরুষ জাতি নিজেই বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সেই আদি থেকে আজ অবধি শাসন করে আসছে । আর নারী তার শাসন মেনে নিয়ে নিজেকে তার সাম্রাজ্য বাড়ানোর মাধ্যম মেনে তাবৎ প্রতিকূলতার দায়ভার পুরুষের ঘারে সঁপে দিয়ে নিজে গৃহমুখী হয়েছে । নারী বিশ্বাস করেছে, তার বিশ্বাস ধীরে ধীরে তার ভক্তিতে পরিণত হয়েছে । তার ভক্তি ধীরে ধীরে তাকে দাসে পরিণত করেছে। নারী তার পঞ্চ ইন্দ্রীয়ের যথাযথ ব্যবহার করতে ভুলে গেছে । এবং এক পর্যায়ে নারী কেবল ই নারী হয়েই থেকে গেছে। আর পুরুষ নিজের সাম্রাজ্য. , নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে গেছে ।

আমরাই আমাদের মুক্তির অন্তরায়। তাই আমাদেরই আমাদের সাহায্য করতে হবে। এই সমাজ যেখানে তারা একইসাথে নারী মূর্তির পুজো করে, এবং অবমাননা করে সেখানে এদের কাছে কিছু বলা আর গাঁধার সাথে কথা বলা একই । এরা নারীদের বস্ত্র দিয়ে, রীতি দিয়ে, শরীর দিয়ে আটকাতে চায় । আর এর জন্য কোথাো না কোথাও আমরাই দায়ী । আমরা নারীরা শরীর কে যতটা প্রাধান্য দিই ততটা প্রাধান্য অন্য কিছুকেই দেই না ।

আমাদের সম্পদ আমাদের শরীর বলেই আমরা আজও পিছিয়ে, আমাদের আজো হেনস্তা হতে হয়। আমরা যতটা শরীরকে বাঁচিয়ে চলি, যতটা দেখায় ,আদৌ কি এতটা করার প্রয়োজন আছে? অতিরিক্ত কোনো কিছু কৌতুহল সৃষ্টি করে । আর আমরা ঠিক তা ই করে যাচ্ছি ।

আমাদের সম্পদ আমাদের শরীর কেন হবে ? কেন আমার বিস্তৃতি কেবলই আমার শরীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? কেন আমার সব মনোযোগ আমার শরীর নিয়ে ?
আমার শরীর কেবল ই একটা খাঁচা যেটা আমার সত্তা ধারণ করে,কিন্তু তাই বলে এটা আমার সীমাবদ্ধতা নয় । আমি শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নই । আমার পরিধি বিশাল । আমার ব্যপ্তি সর্বত্র ।

আমাদের নারীদের সম্পদ হতে হবে জ্ঞান, বিদ্যা, চিন্তা, যা না ছোঁয়া যায় ,না নোংরা করা যায়, না ধর্ষন করা যায়, না কেড়ে নেয়া যায় । একমাত্র তখনই আমরা মুক্তি দেখব । আমার লজ্জা আমার ভূষণ নয়, আমার জ্ঞান আমার ভূষণ ।
এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেখানে কিনা গালিও নারী কেন্দ্রিক, নারীর শরীর কেন্দ্রিক সেখানে এখনো এই শরীরের প্রতি এত ভালোবাসা থাকে কি করে ? আমার অন্তত নেই।

যেখানো ব্রার ফিতা একজন মেয়ের চরিত্রের মানদন্ড, যেখানে কাপড় , সময়, তার চরিত্র নির্ধারন করে, সেখানে আর যাই হোক শরীরকে অন্তত অস্ত্র হিসেবে ভাবা টা বোকামি হবে ।
লড়াই করতে হলে নিজের ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করতে হবে । আর তা হলো একমাত্র জ্ঞান । আত্মনির্ভরশীলতা ।

আর সুখের বিষয় হলো,হাওয়া বদলেছে। এখন অন্তত শিক্ষার অভাব,আর পরনির্ভরশীলতা নিয়ে মেয়েদের তেমন কথা শুনতে হচ্ছে না । আর তাই পুরুষ ক্ষোভ ঝাড়ছে কাপড়ের দোহায় দিয়ে । বেড়েছে ধর্ষন, শিশু ধর্ষণ । তবে আলো একদিন চারদিকে ছড়াবেই ।ছোট্ট একটা ফাঁক ই যথেষ্ট । আর সে দিনও খুব বেশি দূরে নেই ।

আফিয়া রহমান আঁখি
বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

সময় বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর