লিবিয়ার হিমঘরে ৬ বাংলাদেশির লাশ, দ্রুত আনার নির্দেশ

libia himagarসময় বাংলা ডেস্ক : লিবিয়ায় মারা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের লাশ দ্রুত নিয়ে আসার ব্যাপারে নির্শেনা জারি করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন বিভাগ। হিমঘরগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের ‘ঠাঁই’ না থাকায় এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আর তাই সেদেশে মৃত্যবরণকারী বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ দ্রুত নিয়ে আসার ব্যাপারে মতামত চেয়েছে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশি দূতাবাস।
 
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র বাংলামেইলকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রটি জানায়, বর্তমানে লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের ৬টি মৃতদেহ আছে। যার মধ্যে দু’জনের মৃতদেহ দেশে প্রেরণ ও ১ জনের মৃতদেহ স্থানীয়ভাবে দাফনের ব্যাপারে মতামত পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের মতামতের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি প্রেক্ষাপটে নানাবিধ কারণে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি নাগরিক মারা যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন হাসপাতালের হিমঘরগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের স্থানের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করায় মরদেহ বেশি হিমঘরে সংরক্ষণ করা সম্ভাব হচ্ছে না। এমতবস্থায় লিবিয়ার পাবলিক প্রসিকিউশন দপ্তর বিভিন্ন হাসপাতালে সংরক্ষিত বিদেশী নাগরিকের মৃতদেহগুলো অতি স্বল্প সময়ে স্থানীয়ভাবে দাফনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে দূতাবাসের অনুমোদন গ্রহণ করা হচ্ছে না বা দূতাবাসকে অবহিত করা হচ্ছে না।
 
গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর লিবিয়াতে মৃত্যবরণকারী বাংলাদেশি ডাক্তার মোহাম্মদ আলী রেজার মৃতদেহ পাঁচ মাস সংরক্ষণের পর কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই লাশ দাফনের উদ্যেগ গ্রহণ করে। লাশ পরিবহনকারী কোম্পানি সূত্রে জানতে পেরে দূতাবাস হতে হিমঘর কৃর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এই নির্দেশনা জানতে পারে। আর তারা প্রসিকিউশনের সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা জানান। ফলে পরবর্তীতে আর কোনো মৃতদেহ আগের মতো দীর্ঘ সময় হিমঘরে সংরক্ষণ করা আর সম্ভব হবে না বলে জানা যায়।
 
এছাড়া লিবিয়ার যে সকল এলাকায় বিবাদমান দুটি সরকারের কারো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই অথবা বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেসব এলাকায় মৃত্যবরণকারী বিদেশিদের মৃতদেহ কোনো অনুমতি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে দাফন করে ফেলা হচ্ছে। ইতোপূর্বে সিরত ও দারনা শহরের মৃত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের ‍মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে দূতাবাসের অনুমতি ছাড়াই।
 
এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় সূত্রটি জানায়, বর্তমানে লিবিয়াতে ৬ জনের মৃতদেহ আছে। যার মধ্যে ২ জনের মৃতদেহ দেশে পাঠানো ও একজনের মৃতদেহ স্থানীয়ভাবে দাফনের ব্যাপারে মতামত পাওয়া গেছে। কিন্তু বাকি তিনজনের নিয়োগকর্তা না থাকায় বা পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে মৃত্যদেহগুলোর করণীয় সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি। তাই লাশগুলো যেকোন সময় দাফন হতে পারে।

তারা হলেন, বাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার চরলালপুর গ্রামের আব্দুল মালেক হাইয়ের ছেলে মৃত খোকন মিয়া। সে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গত বছরের ১৮ মার্চ মিসুরাতে মারা গেছে। তার মৃতদেহ মিসুরাত জেনারেল হাসপাতালে আছে। দ্বিতীয়জন হলেন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার ছোট হটনা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মৃত মাকসুদ খান। সে গত বছরের ১০ জুলাই লিবিয়ার বেনগাজী এলাকায় মিসাইলের আঘাতে মারা যায়। তার লাশ আছে বেনগাজী হাসপাতালে। তৃতীয়জন হলেন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি থানার পিগনা গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মৃত ইউনুস আলী। তিনি স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। তার লাশ ‍মিসুরাত জেনারেল হাসপাতালে আছে। এসব লাশের অভিভাবকদেরকে দ্রুত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত দপ্তর ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশি দূতাবাস।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন