লেবাননে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে: রাষ্ট্রদূত

সময় বাংলা, লেবানন: লেবাননের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, বিশ্বের প্রথম সাড়ির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতই লেবাননের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। লেবাননের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

রবিবার বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ ইউনেষ্কোর সিকৃতি উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্র শেষে আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বৈরুত দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার এমনটি বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা লেবাননে পড়তে আসবে, এবিষয়ে লেবাননের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। গতবছর স্কলারশীপের জন্য দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি পেয়ে বাংলাদেশ থেকে কিছু আগ্রহী ছাত্রছাত্রী বিষয়টি জানার জন্য দূতাবাসে ফোনও করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তিতে তারা যোগাযোগ করেননি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেবানন সম্পর্কে তথ্যের ঘাড়তি রয়েছে, বিশ্বের প্রথম সাড়ির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতই লেবাননের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। এবিষয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জানতে হবে। আর যারা এ বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক তারা বৈরুত দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারবেন, এবিষয়ে দূতাবাস সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করবেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। এছাড়া বৈরুত দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এসকল তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষন ইউনেষ্কোর সিকৃতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক প্রদত্ত এ স্বীকৃতি বিশ্ব দরবাররে আমাদের গোটা জাতিকে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করেছে । ইউনেস্কো কর্তৃক প্রদত্ত এ স্বীকৃতিকে জাতীয় গৌরব ও বাঙালী জাতির এক নতুন পরিচয় হিসেবে আখ্যায়িত করে। রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরো সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

লেবাননের নিযুক্ত ইউনেস্কোর পরিচালক ডঃ স্লেইমান খুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনকে ইউনেস্কো কতৃক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট অর্জন। তবে সকল জাতিকে তার ভাষন থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। বাংলাদেশীদের আয়িজনে এমন আনন্দঘন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ‘ঐতিহাসিক ভাষণ’ অতিসম্প্রতি, ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর “মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে” যুক্ত, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষ্যে বৈরুত দূতাবাসের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা ও দুতাবাসের হল রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে স্বতঃস্ফু্র্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন, লেবানন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ও দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ। দূতাবাস আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা শুরুর পূর্বে ‘ইউনেস্কো কর্তৃক এই বিশাল স্বীকৃতি’ উদযাপন উপলক্ষে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্র্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয় এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ভিডিও ক্লিপটি প্রদর্শন করা হয়।

কাউন্সিলর সায়েম আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। উপস্থিত ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত ইউনেস্কোর পরিচালক ডঃ স্লেইমান খুরী। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা সহ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূনর্বাসন সোসাইটি লেবাননের নেতৃবৃন্দ।

পরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর