বৈরুত দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

Captureসময় বাংলা, লেবানন :  লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে লেবাননে প্রথম অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে বৈরুত দূতাবাস। রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারের সুপ্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে শহীদ মিনার স্থাপন, যা লেবাননের ৩৫ বছরের বাংলাদেশীদের ইতিহাসে প্রথম।

দিনের প্রথম প্রহরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের বাজিয়ে জাতীয়  পতাকা উত্তলোন করেন রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। এইদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এবং শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শদ্ধা জানিয়ে অস্থায়ী শহীদ  মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে বাংলাদেশ দূতাবাস,লেবাননের অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী, এবং লেবাননের রাজনৈতিক,অরাজনৈতি এবং সাংবাদিক সংগঠনসহ অনেকে।

পুষ্পমাল্য অর্পনের সময় বাঁজতে থাকে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী,আমি কি ভুলিতে পারি। মধুর এই সংগীতের মূর্ছনায় মূহুর্তে ভারি হয়ে উঠে লেবাননের আকাশ-বাতাসে। প্রবাসি বাংলাদেশিদের ঢলনেমে যায় দূতাবাস প্রঙ্গনে,এযেন বাংলাদেশিদের মিলন মেলা।

দিনের দ্বিপ্রহরে দূতাবাস হল রুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শুরুর আগে ভাষাদিবস ভিত্তিক প্রামান্য চিত্র পদর্শন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা সভা। এরপর ভাষা শহীদদের স্বরণে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

 মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রীর মূল্যবান বাণী পাঠকরা হয়।

সে সময় উপস্থিত ছিলেন, মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার, ইউনেস্কো কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. স্লেইমান খুরী,আমেরিকার ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হায়দার আলী খাঁন।

মি. স্লেইমান খুরী বলেন, লেবাননের এই প্রথম এমন একটি অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন। যদিও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, কিন্তু দিবসটি সূচনা হয় বাংলাদেশীদের ত্যাগের মধ্যদিয়ে। তাই তিনি বাংলা ভাষাভাষী সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

হায়দার আলী খাঁন বলেন,দূতাবাসের আমন্ত্রনে  ভাষা দিবসে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত, তিনি রাষ্ট্রদূতকে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলকে  নিজ কন্ঠে “মোদের গরব মেদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা” গানটি গেয়ে শুনান।

ভাষা শহীদ রফিক,ছালাম,বরকত জব্বার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান সহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবাসিদের উদ্দশ্যে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, ইতি মধ্যে সর্বক্ষেত্রে দূতাবাস প্রবাসিদের সেবা নিঃশ্চিত করেছেন। আগে কেউ পাসপোর্ট জমা দিলে দূতাবাসে এসে খবর নিতে হত তার পাসপোর্ট এসেছে কিনা, এতে অনেকের কাজের বেঘাত ঘটত। আর এখন কাউকে আসতে হয় না দূতাবাস থেকে এস এম এস করে জানিয়ে দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, আগে একটি মৃত লাশ দেশে পাঠাতে সময় লাগত ৫-৬ মাস, আর এখন দূতাবাস এক দেড় মাসের মধ্যে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে।

 এছাড়া প্রবাসিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লেবানন সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষীক আলোচানা অব্যহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে লেবানন সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করার এবং প্রবাসিদের সকল সমস্যা সমাধানের আশাব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,প্রবাসি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ, সকল রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ প্রবাসিরা।

এছাড়া দেশের এবং লেবাননের টিভি মিডিয়া,প্রিন্ট মিডিয়া,অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন