লেবাননে সবজি চাষ করে সফল বাংলাদেশি জামাল হোসেন

রপররকবির সরকার,সময় বাংলা,লেবানন :  লেবাননের বৈরুতের পার্শ্ববর্তী এলাকা বাবদা’র আল হাদাছে  ১০০ একর জমির উপর সবজি চাষ করে স্বাবলম্ভী হয়েছে বাংলাদেশী জামাল হোসেন। লেবানিসদের পরিত্যাক্ত জমি বাৎসরিক চুক্তিতে নিয়ে তিনি চাষ করে যাচ্ছে লাউ,মুলা,সিমসহ সকল প্রকারের সবজি।

তিনি শুধু বাংলাদেশী সবজি নয় পাশাপাশি লেবানিসদের নিকট বিক্রয় যোগ্য সবজিও চাষ করে থাকেন। আর এইসব সবজি প্রতিদিন যাচ্ছে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু হোটেলে, আবার বাংলাদেশিদের দোকানে দোকানে।

বগুড়ার সাতমাথার মাহাবুব সওদাগরের ছেলে জামাল, জীবনের চাহিদা মেটাতে ৭বৎসর আগে লেবাননে আসেন,তিনি কাজ করতেন একটি ক্লিনার কোম্পানিতে, স্বল্প বেতনে কিছুই করতে পারছিলেন না জামাল হোসেন।  ক্লিনার কম্পানিতে তিনি দুই বছর অতিবাহিত করার পর কম্পানির মালিকের নিকট থেকে বদলি নিয়ে শুরু করেন চাষাবাদ। তিনি এক লেবানিসের নিকট থেকে কিছু জমি ভাড়া নিয়ে শুরু করেন সবজি চাষ। তারপর থেকে ঘুরতে থাকে জামালের ভাগ্যচাকা।

প্রথমে তিনি বাংলাদেশি কিছু শাক-সবজি চাষ করে প্রচুর পরিমানে অর্থ উপার্যন করেন এবং বাংলাদেশি ব্যবসাবীদের নিকট থেকে ভাল সাড়া পান। তারপর আরো বেশি জমি নিয়ে লেবানিস সবজিও চাষ শুরু করেন।

জামাল হোসেন জানান, তিনি বিভিন্ন প্রান্তথেকে যখন সবজির অর্ডার পেতে থাকলেন তখন তিনি জমি বাড়াতে থাকলেন। ১০০ একর জমি পেতে তাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানান।

তিনি আরো জানান,জমি বাবদ জমির মালিকদের বছরে ৬০হাজার ডলার দিতে হয়।Untitled-1

জামাল হোসেনের সবজি জমি দেখাশুনার দায়িত্বে আছেন বি-বাড়িয়া জেলার কসবা থানার ওসমান গনি।তিনি আমাদের জানান, ত্রিশজন বাংলাদেশী এবং বিশজন সিরিয়ান কাজ করেন। তিনি বলেন,জামাল সাহেবের এই প্রচেষ্টায় আমরা কয়েকজন কাজের এবং কিছু করার সন্ধান পেয়েছি এবং কি আমরা বাংলাদেশে নিজের পরিবারকেও সুন্দর ভাবে চালাতে পারছি।

এদিকে জমিন ঘুরে দেখা যায় জাপানি মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে, ১ টি মুলার ওজন হয়েছে ৪/৫কেজি। কাঁচামরিচ, করলা, ছিম, মিস্টিকোমরা, লালশাক, ধনিয়া পাতা, কচুশাক, বরবটিসহ আরো অনেক বাংলাদেশী শাকসবজির ভাল ফলন হয়েছে। আর আরাবি সবজির মধ্যে রয়েছে হিনবি, চিলা, ভাদুনিজ, রককা, জাতার, খাছ, নানাসহ  আরও অনেক ধরনের শাক-সবজি।Untitled-4444

জানা যায়, লেবানিসদের নিকট বাংলাদেশী শাক-সবজি প্রিয় হয়ে উঠেছ। এদের মধ্যে অন্যতম মিষ্টি কুমরা, কাঁচা মরিচ, মুলা, ছিম, বরবটি ও করলা।  প্রতিদিন ৮/১০ ট্রাক লেবানিজ সবজি পাঠানো হয় কয়েকটি হোটেলে,  বাকি সবজি পাঠানো হয় পাইকারি দোকানে। অতি কম দামে সবজি পেয়ে দোকান মালিকরাও আনেক খুশি।

জামাল হোসেন আমাদের আরো জানান, এখন তার বৎষরিক আয় প্রায় ত্রিশ  হাজার ডলার। তবু এই দেশে একটা ভয় থেকেই যায়, আর তা হচ্ছে নিজেদের নামে ব্যবসায়িক সংক্রান্ত কোন কাগজ করা যায় না, লেবানিস মালিক ধরে তাদের নামে কাগজ করে ব্যাবসা করতে হয়।যার দরুন অনেক সময় বিপদের সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা থাকে।nhhh

বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের বৈরুত দুতাবাসকে তাদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শুধু জামাল হোসেন নন, লেবাননের ছোট ছোট অনেক ব্যবসায়ীদের দাবি লেবানন সরকারের সাথে একটা সমঝোতা করে তাদের লেবাননে বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হোক।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন